অভিষেক ও হার্দিকের হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে বাকিদের প্রচেষ্টায় ভারত থামল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৫৬ রান তুলে। পাহাড়সম রান তাড়ায় একপ্রান্ত আগলে রেখে ৫৯ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেললেন ব্রায়ান বেনেট। বাকিরা বলার মতো কিছুই করতে পারলেন না। জিম্বাবুয়েও জয়ের আশেপাশে যেতে পারল না। ভারতের কাছে ৭২ রানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল জিম্বাবুয়ে। বিপরীতে দুর্দান্ত জয়ে সেমিফাইনালের আশা জাগিয়ে রাখল ভারত। শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলেই সেরা চারে উঠবেন গৌতম গম্ভীরের শিষ্যরা।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই সতর্ক ছিল জিম্বাবুয়ে। পাওয়ার প্লেতে উইকেট না হারালেও রান ওঠে ধীর গতিতে। সপ্তম ওভারে টাডিওয়ানাশে মারুমানি আউট হলে ভাঙে ৪৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর ডিওন মায়ার্স তেমন কিছু করতে পারেননি। তবে তৃতীয় উইকেটে ব্রায়ান বেনেট ও সিকান্দার রাজা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুজন মিলে ৪২ বলে যোগ করেন ৭২ রান। ২১ বলে ৩১ রান করা রাজা আউট হওয়ার পরের বলেই ফিরে যান রায়ান বার্ল।
এই ইনিংসের মধ্য দিয়েই একটি মাইলফলক স্পর্শ করেন রাজা। জিম্বাবুয়ের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি টোয়েন্টিতে তিন হাজার রান পূর্ণ করেন তিনি। একই সঙ্গে টি টোয়েন্টিতে তিন হাজার রান ও ১০০ উইকেটের ডাবল ছোঁয়া দ্বিতীয় ক্রিকেটারও হন রাজা। প্রথম ক্রিকেটার মালয়েশিয়ার ভিরানদিপ সিং। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের লড়াই ধরে রাখেন ব্রায়ান বেনেট। ৫৯ বলে ছয় ছক্কা ও আট চারে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তবু বড় ব্যবধানের হার এড়াতে পারেনি দলটি।
ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন আর্শদিপ সিং। ২৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। এর আগে চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বারাম স্টেডিয়ামে এদিন টস জিতে জিম্বাবুয়ে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শুরু থেকেই ব্যাট হাতে আগ্রাসী ছিল ভারত। প্রতিপক্ষের অনিয়ন্ত্রিত বোলিং ও একাধিক ক্যাচ মিসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত বড় স্কোরের ভিত গড়ে ফেলে স্বাগতিকরা।
ইনিংসের শুরুতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন সাঞ্জু স্যামসন। মাত্র ১৫ বল খেলেই দুই ছক্কা ও একটি চারে ২৪ রান করেন তিনি। ওপেনিংয়ে আভিষেকের সঙ্গে তার জুটি থেকে আসে ২৩ বলে ৪৮ রান। এই জুটিই ম্যাচের গতি নির্ধারণ করে দেয়। দ্বিতীয় উইকেটে ইশান কিশা্ন যোগ দেওয়ার পরও ভারতের রান তোলার গতি কমেনি। আভিষেকের সঙ্গে তার জুটি জমে ওঠে দ্রুত। যদিও একবার জীবন পেয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি ইশান। ২৪ বলে ৩৮ রান করে সিকান্দার রাজার বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ততক্ষণে দুজনের ৪২ বলের জুটিতে যোগ হয়েছে ৭২ রান।
এর আগে টুর্নামেন্টের প্রথম চার ম্যাচে মাত্র ১৫ রান করা আভিষেক এ দিন খুঁজে পান নিজের ছন্দ। চারটি ছক্কা ও চারটি চারের সাহায্যে ৩০ বলে করেন ৫৫ রান। ভারতের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট ছিল দেড়শর ওপরে। মিডল অর্ডারেও ছিল একই ধারা। তিন নম্বরে নেমে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব খেলেন ঝড়ো ইনিংস। ১৩ বলে দুই ছক্কা ও তিন চারে করেন ৩৩ রান।
শেষ দিকে ভারতের স্কোর আরও বড় করেন হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মাত্র ৩১ বলেই ওঠে ৮৪ রান। পান্ডিয়া ২৩ বলে চার ছক্কা ও দুই চারে করেন ৫০ রান। অন্যদিকে তিলক ১৬ বলে চার ছক্কা ও তিন চারে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরুচে রিচার্ড এনগারাভার। চার ওভারে তিনি দেন ৬২ রান। ব্র্যাড ইভান্সের চার ওভারে দেন ৫২ রান।