অনেকে ম্যাচ না দেখেই কথা বলে, সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান শানাকার

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় হতাশ অধিনায়ক দাসুন শানাকা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় হতাশ অধিনায়ক দাসুন শানাকা
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
আয়ারল্যান্ড, ওমানের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও জয়, হ্যাটট্রিক জয়ে সুপার এইটে শ্রীলঙ্কা। অথচ দাসুন শানাকার সেই দলই হেরেছে সবশেষ তিন ম্যাচের তিনটিতেই। সুপার এইটে ইংল্যান্ডের পর নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে স্বাগতিকরা। বিশ্বকাপের আয়োজকরা সেমিফাইনালের আগেই বাদ পড়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন শানাকা, মাহিশ থিকশানা কিংবা কুশল মেন্ডিসরা। সমর্থক থেকে ক্রিকেট বিশ্লেষক, সবাই ধুয়ে দিচ্ছেন লঙ্কান ক্রিকেটারদের। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে নেতিবাচক আটকাতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শানাকা।

সবশেষ ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে শ্রীলঙ্কা। পরবর্তীতে কয়েকটি বিশ্বকাপে প্রত্যাশিতভাবে পারফর্ম করতে পারেনি তারা। কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধন, লাসিথ মালিঙ্গাদের অবসরের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে শানাকা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাদের নিয়ে প্রত্যাশাটা ছিল একটু বেশি। বিশ্বকাপের শুরুটা অবশ্য সেভাবেই হয়েছিল।

প্রথম ম্যাচেই আয়ারল্যান্ডকে সহজেই হারায় শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ম্যাচে ওমানকে তো পাত্তাই দেয়নি স্বাগতিকরা। পাথুম নিশাঙ্কার সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে হারিয়ে সুপার এইটও নিশ্চিত করে তারা। তবে সেই ম্যাচের পর থেকেই ছন্দপতন হয় তাদের। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হারতে হয় জিম্বাবুয়ের কাছে। সেরা আটে এসেও সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি লঙ্কানরা। প্রেমাদাসা কিংবা পাল্লেকেলের চেনা উইকেটে শ্রীলঙ্কা যেন পুরোপুরি অচেনা।

ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস কিংবা নিউজিল্যান্ডের রাচিন রবীন্দ্র, তাদের খেলতেই হিমশিম খেয়েছেন লঙ্কান ব্যাটাররা। টানা দুই ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপ থেকেও বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে সুপার এইট থেকেই বিদায় নেওয়ায় ক্রিকেটারদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। টিভি, পত্রিকা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সব জায়গাতেই শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে নেতিবাচক খবর। অপ্রয়োজনীয় সমালোচনায় খানিকটা হতাশ শানাকা।

শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা বেশিরভাগ সময় যা দেখি-শুনি, তা নেতিবাচক। ক্রিকেটার হিসেবে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করি, কিন্তু বাইরে শুধু নেতিবাচকতা। স্টেডিয়ামের বাইরে দেখবেন, কত মানুষ মাইক্রোফোন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অথচ অনেকে ম্যাচ না দেখেই কথা বলছে। আমরা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছি এবং আমরা এর কারণ গুলো জানি,এগুলো নিয়ে কথা বলার বদলে নেতিবাচক কথাগুলোই বেশি হচ্ছে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগামাধ্যমগুলোতে ক্রিকেটারদের নিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচনা হচ্ছে। যার বেশিরভাগই অপ্রত্যাশিত কিংবা গঠনমূলক নয়। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও অনেক সময়ই সেটা হয়ে উঠে না, অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন শানাকা নিজেই। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক মনে করেন, নেতিবাচক কথা দেশের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর। এসব আটকাতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে বলছেন তিনি।

শানাকা বলেন, ‘আমরা ইতিবাচক থাকতে চাই, কিন্তু বাইরে থেকে যে নেতিবাচকতা আসে, সেটা উপেক্ষা করা কঠিন। এটা শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর। এটাই আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় খেলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবে সরকার যদি কিছু উদ্যোগ নেয়, সেটাই ভালো হবে।’

আরো পড়ুন: