২০০৮ সালে পর্দা উঠে আইপিএলের প্রথম আসরের। ভারতের টুর্নামেন্টের আদলে পরবর্তীতে এসেছে বিপিএল, সিপিএল, বিগ ব্যাশ, পিএসএল, এমএলএস, দ্য হান্ড্রেড, এসএ টোয়েন্টি, আইএল টি-টোয়েন্টি, আবুধাবি টি-টেনের মতো লিগগুলো। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বাজারে রাজার মতো আধিপত্য বিস্তার করছে আইপিএল। টাকার ঝনঝনানি, বেতন-ভাতায় আইপিএলের জুড়ি মেলা কঠিন। যদিও ক্রিকেটারদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে আছে টুর্নামেন্টটি।
আইপিএল গড় পারিশ্রমিক এবং অর্থ পরিশোধের বিশ্বস্ততায় পুরো ১০০ নম্বর পেয়েছে আইপিএল। তবে খেলোয়াড়দের সংগঠিত হওয়ার অধিকার’ এবং ‘বিরোধ মীমাংসা’য় তুলনামূলক কম নম্বর পেয়েছে। সেখানে বড় একটা কারণ হতে পারে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক বৈরিতায় মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনা। টম মোফাট জানান, তাদের চাওয়া লিগগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকা মানুষদের ন্যায্য সুরক্ষা ও মান নিশ্চিত হোক।
ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ঘরোয়া লিগের সংখ্যা বেড়েছে, যা ক্রিকেটের জন্য দারুণ ইতিবাচক। তবে এটাকে আরও ভালো করার সুযোগ আছে।’ তাঁর কথায়, ‘আমরা চাই অনুমোদিত সব লিগ সফল হোক। সেখানে যুক্ত মানুষদের জন্য ন্যায্য সুরক্ষা ও মান নিশ্চিত হোক।’
পারিশ্রমিক পেলেও নিজেদের অধিকার নিয়ে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি কিংবা বোর্ডের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলার সুযোগ নেই ক্রিকেটারদের। যে কারণে দ্য হান্ড্রেডের চেয়েও পিছিয়ে গেছে আইপিএল। বিশ্ব ক্রিকেটারদের সংগঠন ডব্লিউসিএ-এর র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, ১০০ এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৫.২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইংল্যান্ডের একশ বলের টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেড। ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে সাউথ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টি।
৬২.৬ পয়েন্ট পাওয়া আইপিএলের অবস্থান তিনে। এ ছাড়া চারে বিগ ব্যাশ (৬২.৫), পাঁচে পিএসএল (৪৮.০), ছয়ে মেজর লিগ ক্রিকেট (৪৩.০), সাতে আইএল টি-টোয়েন্টি (৩৯.১), আটে সিপিএল (৩৮.৯), নয়ে আবুধাবি টি-টেন (৩০.১) এবং তালিকার দশে বিপিএল (২২.৬)। বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের এমন অবনতি অবশ্য অস্বাভাবিক নয়। সবশেষ কয়েক কয়েক বছরে ক্রমশই বিপিএলের মান কমেছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সুদূরপ্রসারী চিন্তা-ভাবনার ঘাটতিও স্পষ্ট। পাশাপাশি প্রতি বছরই ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যায়। দেশি ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিদেশিদেরও পারিশ্রমিক নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই। এসবের বাইরে স্পট ফিক্সিং নিয়েও প্রায়শই কানাঘুষা শোনা যায়। এতসব অভিযোগের জেরে একেবারে তলানিতে এসে নেমেছে বিপিএল।