হৃদয়ের কাছে শামীম-ইমনের ইনিংস পঞ্চাশের চেয়েও বড়

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
তিন ছক্কার সঙ্গে দুই চার— ১৮৮.৮৯ স্ট্রাইক রেটে ২৭ বলে তাওহীদ হৃদয় খেললেন অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিয়ানও তিনি। পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন হৃদয়। নিজে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেও হৃদয় কৃতিত্ব দিতে ভুল করলেন না পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন পাটোয়ারিকে। ম্যাচ শেষে সোজাসাপ্টা ডানহাতি ব্যাটার বললেন, তার কাছে শামীম ও ইমনের খেলা ইমপ্যাক্টফুল ক্যামিও ইনিংস পঞ্চাশের চেয়েও বড়।

তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে না পারায় বাংলাদেশের কাজটা ক্রমশই কঠিন হয়ে উঠছিল। লিটন দাস এসে আক্রমণাত্বক করার চেষ্টা করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৮২ রান তাড়ায় ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল ২ উইকেটে ৭৭। জিততে হলে শেষ দশ ওভারে ১০৬ রান করতে হতো স্বাগতিকদের। টি-টোয়েন্টির বাস্তবতায় হয়ত খুব কঠিন কিছু নয়। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাজটা সহজও নয়।

সেই কঠিন কাজটাই সহজ করেছেন হৃদয়, ইমন ও শামীম। তাদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৮ ওভারেই ১০৬ রান তোলে বাংলাদেশ। পারভেজ ইমনের সঙ্গে ২৮ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়ে ভিতটা গড়েন হৃদয়। পরবর্তীতে শামীমকে সঙ্গে নিয়ে ১৯ বলে তুলেছেন ৪৯ রান। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন কেবল হৃদয়। তবে ইমনের খেলা ১৪ বলে ২৮ ও শামীমের ১৩ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংসকে পঞ্চাশের চেয়েও এগিয়ে রাখছেন তিনি।

হৃদয় বলেন, ‘দেখুন— আমি একটা জিনিস পরিস্কার করতে চাই ৫ কিংবা ৬ নম্বর এমন একটা পজিশন এই পজিশনে আপনার ৫০ হঠাৎ এক-দুদিন হবে। যেদিন ৬ নম্বর থেকে কেউ ৫০ মারবে তার মানে বুঝতে হবে আমাদের দলটা অনেকটা ব্যাকফুটে। কারণ দ্রুই তিন-চারটা উইকেট আমাদের যাবে। ওই জায়গায় ইমপ্যাক্টফুল ইনিংস যেমন শামীম আজকে যেটা করেছে।

‘আমার কাছে মনে হয় ওই ইনিংসটা একটা ৫০-এর থেকেও অনেক বড় ইনিংস—শামীম এবং ইমন যেটা করেছে। জিনিসটা আমাদের নিজেদেরও বুঝতে হবে ইনিংসটা কতটা ইমপ্যাক্টফুল। অনেক সময় আমরা নিজেরাও চিন্তা করি ৫০ বা একশ। আমার কাছে মনে হয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১০ রানও ইমপ্যাক্টফুল ইনিংস হতে পারে, যেটা আজকে শামীম এবং ইমন দুজন মিলে করেছে। ম্যাচটা জেতানোর জন্য আরও সহজ হয়ে গেছে।’

ব্যাটিংয়ে উইকেটের চারপাশে শটস খেলার ক্ষেত্রে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে অনুসরণ করেন শামীম। সাউথ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটারের ব্যাটিংয়ের ভিডিও দেখে সেটা শেখানোরও চেষ্টা করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে নানান রকম নো লুক শটসও খেলতে দেখা গেছে তাকে। নাথান স্মিথের শর্ট ডেলিভারিতেই যেন নো লুকে স্কুপ করে মাথার উপর দিয়ে ছক্কা মেরেছেন তিনি। হৃদয় জানালেন, তাদের মধ্যে খুব কম ব্যাটারই আছেন যারা শামীমের মতো এমন আনঅর্থোডক্স শট খেলতে পারেন।

শামীমের ব্যাটিং নিয়ে হৃদয় বলেন, ‘আমি অনেক উপভোগ করি ওর (শামীম) ব্যাটিং, সত্যি কথা বলতে। কারণ এমন এমন শটস ও খেলে যেটা আমাদের কম ব্যাটারই আছে যে ওরকম শটস খেলতে পারে। ৬ নম্বর পজিশনে এরকম খেলোয়াড়ই দরকার যে সব দিকে যেকোনো সময় মেরে দিতে পারবে। বোলাররাও অনেক চাপে থাকে ওরকম শটস খেললে। যেমন ও যে ছয়টা মেরেছে আপনি যদি খেয়াল করে দেখেন একম ছয় আমরা খুব কমই মারতে পারি। অবশ্যই, দোয়া করি যেন ধারাবাহিক থাকে, আরও ভালো কিছু হয়।’

বাংলাদেশের জয়ের পেয়েছে শামীম ও পারভেজ ইমনকে কৃতিত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন— মিডল অর্ডার এমন একটা পজিশন এই জায়গায় আপনাকে মারতেও হবে এবং খেলাটাও বানানো লাগবে। আমার কাছে মনে হয় ইমন ওই সময় অ্যাটাক করেছে, ও আমার জন্য আরও সহজ করে দিয়েছে জিনিসটা। আমার কাছে মনে হয়েছে খেলাটা হাতে এসেছে, এখন এতটা ঝুঁকি না নিলেও হবে। যেহেতু খেলাটা আমাদের হাতে চলে এসেছে। অবশ্যই, ইমন শামীমকে কৃতিত্ব দিতে হয়, ওরা অনেক ভালো ফিনিশ করেছে।’

আরো পড়ুন: