‘অ্যাটাক ইজ দা বেস্ট ডিফেন্স’ মন্ত্রে সফল হৃদয়

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
২৭ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা তাওহীদ হৃদয়/ক্রিকফ্রেঞ্জি
২৭ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা তাওহীদ হৃদয়/ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশ চাপে থাকলেও ব্যাটিংয়ে এসেই বেন লিস্টার, ইশ সোধিদের উপর চড়াও হয়ে উঠলেন তাওহীদ হৃদয়। একই পথে হাঁটলেন পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন পাটোয়ারিরা। তাদের আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়েই কঠিন কাজটা সহজ হলো বাংলাদেশের। ১৮২ রান তাড়ায় বাংলাদেশ জিতল দুই ওভার ও ছয় উইকেট বাকি থাকতেই। ম্যাচসেরা হয়ে হৃদয় জানালেন, ‘অ্যাটাক ইজ দা বেস্ট ডিফেন্স’ মন্ত্রেই সফল হয়েছেন।

চট্টগ্রামে ১৮২ রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা একেবারেই প্রত্যাশিতভাবে হয়নি। সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম প্রয়োজন মিটিয়ে রান তুলতে পারেননি। লিটন দাস এসে আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ক্রমশই চাপের মুখে পড়ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে বাংলাদেশকে রীতিমতো টেনে তুলেছেন হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন।

লিটন আউট হয়ে যাওয়ার পরই ব্যাটিংয়ে আসেন হৃদয়। চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ২৭ বলে খেলেছেন অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস। হৃদয়ের আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশের হাতে মোমেন্টাম এসেছে, পরবর্তীতে ইমন, শামীমরা কাজটা সহজ করে নিয়েছেন। শুরুতে রান কম হওয়ায় লিটন আউট হওয়ার পর অ্যাটাক করার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন হৃদয়। সেটা কাজেও দিয়েছে।

ম্যাচ শেষে হৃদয় বলেন, ‘লিটন ভাই আউট হওয়ার পরে নেমেছি। আমার সাধারণ পরিকল্পনা যেটা, দলের কী চাওয়া ওই পরিস্থিতিতে…, রান দরকার ছিল, রান একটু কম হয়ে গিয়েছিল ওই সময়টাতে। শুধু আমার পরিকল্পনা ছিল আমি অ্যাটাক করব। কারণ ওইখানে যদি অ্যাটাক না করতে পারি তাহলে হয়তবা কঠিন হয়ে যেতো দলের জন্য। আমি শুধু চেষ্টা করেছি যতটুকু অ্যাটাক করা যায়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘যেটা আগেও বললাম টি-টোয়েন্টি খেলাটাই এমন। এক-দুই ওভার ভালো হবে, তখন দেখা যায় ম্যাচ প্রতিপক্ষের হাতে চলে যায়। দুই ওভারের খেলা— দুই ওভার যদি আমরা ভালো ব্যাটিং করি, ভালো বোলিং করি, দুই-তিনটা উইকেট নিই, টি-টোয়েন্টি খেলা সবসময় একবার এদিক আরেকবার ওইদিক যায়। আমি চেষ্টা করেছি ওই সময় যতটুকু অ্যাটাকিং ক্রিকেট খেলা যায়। ওই সময় মনে হয়েছে অ্যাটাকিং অপশনটাই সব থেকে সেরা অপশন ছিল দল জেতানোর জন্য।’

৭৭ রানে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে চাপ থেকে বের হতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে পারভেজ ইমন ও হৃদয় জুটি। তারা দুজনে মিলে ২৮ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়েন। হৃদয়ের মতো আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করেছেন ইমন। ১৪ বল খেলা বাঁহাতি ব্যাটার ২০০ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ২৮ রান। অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স মন্ত্রে ব্যাটিং করেছেন দুজনই, সাফল্য পাওয়ার পেছনে কৃতিত্ব দিচ্ছেন সেটাকেই।

হৃদয় বলেন, ‘কথায় আছে না ‘অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স’। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনি যদি বেশি নুইয়ে থাকেন, আসলে হয় না। ইমন যেটা করেছে ওইটা ঠিক করেছে এবং ক্লিয়ার মাইন্ড ছিল। আমিও দুই-একটা তথ্য ওকে দিয়েছি যে এদিক দিয়ে চেষ্টা করলে ভালো হয়। সবকিছু শেষে ওর এক্সিকিউশনটা অনেক ভালো ছিল।’

আরো পড়ুন: