চট্টগ্রামে রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম ওভারে ১১ রান এনেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। তবে পরবর্তীতে তাদের দুজনের রান তোলার গতি কমেছে। প্রথম পাঁচ ওভারে উইকেট না হারালেও প্রত্যাশিতভাবে রান করতে পারেননি। রান তোলার চাপে ষষ্ঠ ওভারে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন সাইফ। নাথান স্মিথের লেংথ ডেলিভারিতে ছক্কা মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন ১৬ বলে ১৭ রান করা ডানহাতি ওপেনার। পাওয়ার প্লেতে এক উইকেটে ৪৪ রান তোলে বাংলাদেশ।
পাওয়ার প্লেতে পর্যাপ্ত রান না আসায় তিনে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করতে হয়েছে লিটনকে। দুইটি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মেরে ভালো শুরুও করেছিলেন তিনি। তবে তাকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি ইশ সোধি। ডানহাতি লেগ স্পিনারের নিচু হওয়া ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন লিটন। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ফিরেছেন ১৫ বলে ২১ রানে। অনেকটা সময় টিকলেও দ্রুত রান তুলতে পারেননি তানজিদ।
অস্বস্তিতে থাকা বাঁহাতি ওপেনারকে ফিরিয়েছেন সোধি। ডানহাতি লেগ স্পিনারের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুলার লেংথ ডেলিভারিতে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অফে স্মিথের হাতে ধরা পড়েছেন। ২৫ বলে ২০ রানের বেশি করতে পারেননি তানজিদ। পাঁচে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করেন পারভেজ ইমন। দুই ছক্কায় ১৪ বলে ২৮ রানও করেছেন তিনি। তবে বাঁহাতি ব্যাটারের ২০০ স্ট্রাইক রেটের ব্যাটিং ঝড় থামান জশ ক্লার্কসন।
ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে রবিনসনের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। ছয়ে নেমে ঝড় তোলেন শামীম। ম্যাট ফিশারের বিপক্ষে রীতিমতো তাণ্ডব চালান বাঁহাতি এই ব্যাটার। সেই ওভারে তিনটি চারের সঙ্গে একটি ছক্কায় ২৫ রান এনেছেন তিনি। দ্রুত রান তুলেছেন হৃদয়ও। ২৬ বলে পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরিও। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৫১ রানে। তাকে সঙ্গ দেওয়া শামীম ১৩ বলে করেছেন ৩১ রান।
এর আগে টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান লিটন। ব্যাটিং করতে নেমে শরিফুল ইসলামের করা প্রথম ওভারে ১১ রান তোলে কিউইরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রান আউট হয়ে ফেরেন টিম রবিনসন। প্রথম উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ে তোলেন কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লেভার। তাদের দুজনের ব্যাটে এগিয়ে যেতে থাকে কিউইরা।
মাঝে অবশ্য ফিরতে পারতেন ক্লার্ক। তবে জীবন পেয়ে সেটা কাজে লাগিয়ে ৩৪ বলে করেন হাফ সেঞ্চুরি। যদিও ৩৭ বলে ৫১ রান করে ফিরতে হয় তাকে। এর আগে হাফ সেঞ্চুরি করে আউট হন ক্লেভার। তিনিও ৫১ রান করে আউট হন। দুজনকেই আউট করেন রিশাদ হোসেন। ১১ থেকে ১৫তম ওভারে দলটি মাত্র ৩০ রান যোগ করতে নিউজিল্যান্ড হারায় আরও ৪ উইকেট।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংস টেনেছেন নিক কেলি ও ক্লার্কসন। শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে কিউইরা তোলে ৫২ রান। কেলি ৩৯ রান করে আউট হলেও ক্লার্কসন ১৪ বলে ২৭ রানের ক্যামিও খেলেছেন। বাংলাদেশের হয়ে ৩২ রানে ২ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার রিশাদ, একটি করে উইকেট নেন শরিফুল, তানজিম হাসান সাকিব ও শেখ মেহেদী। উইকেটশূন্য থাকেন রিপন মন্ডল।