সিরিজ জেতার ‘নেশায়’ তীব্র গরমেও নাহিদকে বিশ্রাম দেয়নি বাংলাদেশ। অনেক হয়ত প্রশ্ন তুলতে পারেন নাহিদের ব্যাপারে টিম ম্যানেজমেন্ট যত্নশীল তো? মেহেদী হাসান মিরাজের কাছে নাহিদ বাংলাদেশের জন্য সম্পদ। এমন একটা সম্পদের যত্ন নেওয়াকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। টানা খেলানোর ফলে ইনজুরির ধাক্কা যে আসতে পারে সেটা নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক মিরাজ।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক বলেন, ‘দেখুন— আমরা তো অবশ্যই ওকে (নাহিদ) অনেক টেক কেয়ার করব। ওর যত্ন নেওয়াটা আমাদের দায়িত্ব। এরকম একজন খেলোয়াড়ের যত্ন নিতে পারলে আমাদের দলের জন্যই অনেক ভালো হবে। অনেক সময় বিশ্রাম দিয়ে খেলাতে হবে যখনই সুযোগ আসবে। প্রত্যেকটা খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মনে হয় ধারাবাহিকভাবে খেলালে অনেক সময় ইনজুরি চলে আসতে পারে। আমরা ওই জিনিসটাও মাথায় রাখব।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নাহিদের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে ১০ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে পেয়েছিলেন মাত্র একটি উইকেট। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই গতি দিয়ে কিউই ব্যাটারদের নাস্তানাবুদ করেছেন নাহিদ। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন ৩২ রানে। শেষ ম্যাচে ৩৭ রানে নিয়েছেন দুইটি উইকেট। হয়েছেন সিরিজসেরা। এভাবে পারফর্ম করতে থাকলে নাহিদ বাংলাদেশকে অনেক ম্যাচ জেতাবে বলে বিশ্বাস করেন মিরাজ।
তিনি বলেন, ‘নাহিদ রানা অবশ্যই আমাদের জন্য অনেক বড় একটা সম্পদ। আমরা সবাই চেষ্টা করব ওর যত্ন নেওয়ার। ও যেভাবে মেইনটেইন করছে এটা একটা দলের জন্য বাড়তি সুবিধা। গত দুইটা সিরিজে যেভাবে বোলিং করেছে এটা আসলে ভালো একটা মোমেন্টাম নিয়ে আসে। আমার কাছে মনে হয় ও যেভাবে বোলিং করছে এটা চালিয়ে যেতে পারলে বাংলাদেশ দলকে অনেক ম্যাচ জেতাতে পারবে।’
ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের এত গরমের মাঝেও গতি কমেনি নাহিদের। পুরো সিরিজ জুড়েই গতির ঝলক দেখিয়েছেন ডানহাতি এই পেসার। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাত্র একটি ডেলিভারি করেছিলেন প্রতি ঘণ্টায় ১২২ কিলোমিটার গতিতে। ১০ ওভারের কোটার বাকি সব ডেলিভারিই করেছিলেন ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে। দিনের প্রথম ডেলিভারির মতো শেষ ডেলিভারিতেও একই গতি ধরে রাখতে পারার অবিশ্বাস্য প্রতিভাব পেয়েছেন তিনি। এটা প্রতিপক্ষের জন্য বাড়তি চাপ বলে মনে করেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। পাশাপাশি নাহিদের মতো কেউ দলে থাকাকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন তিনি।
মিরাজ বলেন, ‘এটা (নাহিদের দলে থাকা) তো আমাদের ক্রিকেটের জন্য একটা আশীর্বাদ, অধিনায়ক হিসেবে আমার কাছেও। এরকম যদি ধারাবাহিকভাবে ১৪৫ কিংবা ১৫০ এর চেয়ে বেশি গতিতে বোলিং করতে পারে এটা অন্য দলের জন্য চাপের। অনেক জোরে বল আসছে, রান করতে হবে আবার উইকেটও বাঁচাতে হবে। ও প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একই গতিতে বল করতে পারে, এটা অনেক বড় ব্যাপার। ওর কাছে ওই সামর্থ্য আছে। সবচেয়ে বড় কথা ও মাঠে অনেক আত্মবিশ্বাসী থাকে। আমি যখনই বলি ও বলে ভাই আমি আত্মবিশ্বাসী আমি ভালো করতে পারব। এই জিনিসটা অধিনায়কত্বে স্বস্তি দেয়।’