টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পেসারদের নানান রকম বৈচিত্র্যময় বোলিং করতে হয়। পাওয়ার প্লেতে এক রকম, মাঝের ওভারে এক রকম আবার ডেথ ওভারে বোলিংয়ের জন্য আলাদা স্কিল, সামর্থ্য থাকতে হয়। ডেথ ওভারে বেশিরভাগ সময়ই ইয়র্কার ও স্লোয়ারের দ্বারস্থ হয়ে থাকেন পেসাররা। টি-টোয়েন্টির মতো ওয়ানডে ক্রিকেটেও এখন পেসাররা বৈচিত্র্যময় বোলিং করেন। নাহিদের বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র গতি। সেই গতিতে প্রায়শই প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলছেন ডানহাতি এই পেসার।
গতির সঙ্গে একের পর এক বাউন্সারেও উইকেট নিচ্ছেন তিনি। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে স্লোয়ার বল করছেন না নাহিদ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে নাহিদের নেওয়া পাঁচ উইকেটের সবকটি ডেলিভারিই ছিল ১৪০ কিলোমিটারের চেয়ে বেশি গতিতে। গতির সঙ্গে বাউন্সার ক্রমশই নাহিদকে ভয়ঙ্কর করে তুলছে। টেইটও তাই ডানহাতি পেসারকে সেটা ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে স্লোয়ার কিংবা অন্য কিছু চেষ্টা না করতে বলেছেন তিন।
এ প্রসঙ্গে টেইট বলেন, ‘আধুনিক ক্রিকেটে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে পেসার বোলারদের মধ্যে অনেক ধরনের বৈচিত্র্যময় বল করার একটা প্রবণতা দেখা যায়। নাহিদের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, সে বুদ্ধিমান ছেলে। এই মুহূর্তে ব্যাপারটাকে খুব বেশি জটিল না করে আমি মনে করি, সে যেভাবে বল করছে এবং তার জন্য যা কাজে দিচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে ভালো। তার ভান্ডারে স্লোয়ার বল আছে, কিন্তু যদি প্রয়োজন না পড়ে, তাহলে সেটা ব্যবহার করার দরকার নেই। অন্যদের যেখানে বাধ্য হয়ে গতির পরিবর্তন করতে হয়, নাহিদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন, তার বিধ্বংসী বাউন্সার আছে।’
‘অনেক বোলার, যাঁরা ১৩০ কিমি গতিতে বল করেন, তাঁদের ও রকম বাউন্সার নেই, তাই স্লোয়ার বল ছাড়া তাঁদের উইকেট নেওয়ার সুযোগ কম থাকে। কিন্তু নাহিদ রানার ক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক উল্টো। বর্তমানে সে তার গতি আর বাউন্স ব্যবহার করে শর্ট বলে প্রচুর উইকেট পাচ্ছে। সে যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছেলে; সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন কিছু শিখবে। তবে এই মুহূর্তে আমি চাই, সে বিষয়গুলোকে সহজ রাখুক এবং স্রেফ জোরে বল করে যাক।’
কিউইদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নাহিদ প্রথম ডেলিভারিটা করেছিলেন ১৪৪.৭ কিলোমিটার গতিতে। ইনিংসের শেষ বেলায় বোলিংয়ে এসে নিজের কোটার শেষ ডেলিভারিটা করেছিলেন ১৪৫.৪ কিলোমিটার গতিতে। পুরো ম্যাচ জুড়েই এমন গতিময় বোলিং করেছেন তিনি। ৬০ বলের মধ্যে মাত্র একটি ডেলিভারি করেছিলেন ১২২ কিলোমিটার গতিতে। এমনটা শুনে খানিকটা অবাক হলেন টেইট নিজেও।
বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ বলেন, ‘সত্যি? এটা তো তাহলে নাহিদের ফিটনেসের প্রমাণ। এই গরমে টানা ১০ ওভার একই গতিতে বল করা দারুণ ব্যাপার। সে দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। নিয়মিত খেলার সুযোগ পেয়ে এখন সে দেখাচ্ছে সে কী করতে পারে। বিশ্বজুড়ে মানুষ এখন তাকে দেখা শুরু করছে। যখন কোনো তরুণ ১৪৫-১৫০ গতিতে বল করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার সৃষ্টি হয়। আপাতত আমি বলব, নাহিদ দারুণ এবং তার সঙ্গে কাজ করতে ভালো লাগছে।’