চট্টগ্রামে রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই হেনরি নিকোলসের উইকেট হারায় সফরকারীরা। মুস্তাফিজের বাউন্সারে পুল করতে চেয়েছিলেন নিকোলস। তবে টপ এজ হয়ে লিটনকে ক্যাচ দিতে হয়েছে তাকে। দ্রুতই উইকেট হারানোর পর কিউইদের হাল ধরেন কেলি ও উইল ইয়াং। তারা দুজনে মিলে দলকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের জমে ওঠা জুটি ভাঙেন নাহিদ।
ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটনকে ক্যাচ দিয়েছেন। ২৫ বলে ১৯ রান করেছেন ইয়াং। চারে নেমে সুবিধা করতে পারেননি টম লাথাম। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক আউট হয়েছেন দ্রুতই। মিরাজের ফুল লেংথ ডেলিভারিতে স্লগ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়েছেন শরিফুলের হাতে। আউট হয়েছেন ১৩ বলে ৫ রান করে। দ্রুতই দুইটি উইকেট হারানোর পর ধাক্কা সামাল দিয়েছেন কেলি ও আব্বাস।
মাঝের সময়টাতে তুলনামূলক দ্রুত গতিতে রান তুলেছেন তারা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৮৩ রানের ইনিংস খেলা কেলি হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন শেষ ম্যাচেও। তবে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর তাকে খুব বেশি দূর এগোতে দেননি মুস্তাফিজ। বাঁহাতি পেসারের বলে অনেকটা ব্যাকফুটে গিয়ে কাট করতে চেয়েছিলেন কেলি। তবে বাংলাদেশি পেসারের বুদ্ধিদীপ্ত স্লোয়ারে কভারে ক্যাচ দিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিমের হাতে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৮০ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে থামতে হয়েছে কেলিকে।
একটু পর আউট হয়েছেন আব্বাসও। শরিফুলের শর্ট লেংথ ডেলিভারিতে পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ইনসাইড এজে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয়েছে ডানহাতি ব্যাটারকে। ৩৬ বলে ২৫ রান করেছেন আব্বাস। মিরাজের দুর্দান্ত ক্যাচে নাথান স্মিথকে ফেরান মুস্তাফিজ। একটু পর আউট করেছেন জেডন লেনক্সকেও। ও’রুর্কে আউট করে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো পাঁচ উইকেট নিলেন মুস্তাফিজ। শেষের দিকে ফক্সক্রফটের ৭৫ রানের ইনিংস কেবল হারের ব্যবধান কমিয়েছে। বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজ পাঁচটি, নাহিদ ও মিরাজ নিয়েছেন দুইটি করে উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৩২ রান তুলতেই তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ও’রুর্কের করা অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সাইফ। এদিন রানের খাতাই খুলতে পারেননি ডানহাতি এই ওপেনার। তৃতীয় ওভারে তানজিদকেও ফেরান ও’রুর্ক। ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ইনসাইড এজে বোল্ড হয়েছেন।
দ্বিতীয় ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করা বাঁহাতি ওপেনার ফেরেন এক রানে। তানজিদের মতো একইভাবে ইনসাইড এজে বোল্ড হয়েছেন সৌম্য। ২৬ বলে ১৮ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের হাল ধরেন লিটন ও শান্ত। তারা দুজনে মিলে ১৬০ রানের জুটি গড়েন। ৯১ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলা লিটন ফেরেন লেনক্সের বলে বোল্ড হয়ে।
১৯ ইনিংস পর হাফ সেঞ্চুরি পেলেও সেটাকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে পারেননি তিনি। লিটন না পারলেও সেঞ্চুরি করেছেন শান্ত। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি করা শান্ত আউট হয়েছেন দুই ছক্কা ও ৯ চারে ১১৯ বলে ১০৫ রানের ইনিংস খেলে। শেষের দিকে মিরাজের ১৮ বলে ২২ ও তাওহীদ হৃদয়ের ২৯ বলে ৩৩ রানের ইনিংসে ২৬৫ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। কিউইদের হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন ও’রুর্কে। দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন বেন লিস্টার ও লেনক্স।