মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেন সাইফ ও তানজিদ। দেখেশুনে ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে শেষ করেছেন বিনা উইকেটে। তাদের দুজনের জমে ওঠা ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। উইকেটে অনেকটা সময় টিকে থাকলেও দ্রুত রান তুলতে পারেননি সাইফ। ফিরেছেন ৪৭ বলে মাত্র ২২ রান করে। তিনে নেমে তানজিদকে সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন সৌম্য। যদিও ইনিংস বড় করতে পারেননি বাঁহাতি ওপেনার
রিপন মণ্ডলের স্লোয়ার ডেলিভারিতে আকবর আলীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২২ বলে ১১ রান করে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে অবশ্য ৫৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তানজিদ। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর তুলনামূলকভাবে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন তিনি। তরুণ ওপেনারকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। হাফ সেঞ্চুরি পাওয়া তানজিদ ৯৯ বলে সেঞ্চুরিও করেন। একশ ছোঁয়ার পর আউট হয়েছেন তানভির ইসলামের বলে নাইম শেখকে ক্যাচ দিয়ে। ৬টি চার ও চারটি ছক্কায় ১০১ বলে ১০০ রান করা তানজিদের বিদায়ে ভাঙে শান্তর সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি।
বিসিবি একাদশে রান দুইশ হওয়ার আগে ফিরেছেন শান্তও। ৪৭ বলে ৪০ রান করে হাফ সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপে পুড়েছেন। পরবর্তীতে ৫৭ রানের জুটি গড়েন লিটন ও আফিফ হোসেন। তাদের দুজনের জুটি ভাঙেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের হয়ে সবশেষ ৮ ইনিংসে চারটি ডাক মারার পরও অভিজ্ঞতায় ভরসা করে লিটনকে পাকিস্তান সিরিজের দলে রেখেছেন নির্বাচকরা। বিসিএলে একটি হাফ সেঞ্চুরি পাওয়া লিটন মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ে নেমে রানে ফেরার আভাস দিয়েছেন।
চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে দেড় বছর পর জাতীয় দলে ফেরা আফিফ ২৮ বলে ২৯ রান করেছেন। শেষের দিকে অধিনায়ক মিরাজ ১৫ বলে ২৪ রানের ক্যামিও ইনিংস খেললে ৮ উইকেটে ২৯৫ রানের পুঁজি পায় বিসিবি একাদশ। বিসিএল অল স্টার্সের হয়ে তিনটি উইকেট পেয়েছেন তরুণ পেসার রিপন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মোসাদ্দেক, তানভির, খালেদ আহমেদ ও সাকলাইন।
রান তাড়ায় বিসিএল অল স্টার্সকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন জিসান ও নাইম। তাদের দুজনের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৬৭ রান তোলে তারা। পরবর্তীতে জুটির সেঞ্চুরিও হয়েছে। দুই ওপেনারের ১০০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন রিশাদ। ডানহাতি লেগ স্পিনারের বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন নাইম। ৫৩ বলে ৪০ রান করেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। দারুণ সব শটের পসরা সাজিয়ে ৬৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন জিসান। যদিও পঞ্চাশ ছোঁয়ার পরই থামতে হয়েছে তাকে। ৬৭ বলে ৫০ রান করা জিসানের উইকেটও নিয়েছেন রিশাদ।
উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর দ্রুতই ফেরেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, পারভেজ হোসেন ইমনরা। কয়েক ওভারের মধ্যে আকবর, এসএম মেহেরবদের উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বিসিএল অল স্টার্স। ১৫৭ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর ৮০ রানের জুটি গড়েন রিপন ও সাকলাইন। ৪৮ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেলে সাকলাইন আউট হলেও রিপন অপরাজিত ছিলেন ৩৯ রানে। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৫৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি তারা। বিসিবি একাদশের হয়ে ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। দুইটি উইকেট পেয়েছেন নাহিদ। শরিফুল ইসলাম ও মিরাজের শিকার একটি করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বিসিবি একাদশ— ২৯৫/৮ (৫০ ওভার) (তানজিদ ১০০, সাইফ ২২, সৌম্য ১১, শান্ত ৪০, লিটন ৪৪, আফিফ ২৯, মিরাজ ২৪; রিপন ৩/৪৯)
বিসিএল অল স্টার্স— ২৫৫/৯ (৫০ ওভার) (জিসান ৫০, নাইম ৪০, আকবর ১৯, পারভেজ ইমন ১৯, সাকলাইন ৪৯, রিপন ৩৯*; রিশাদ ৫/৪০, নাহিদ ২/৪৫)