সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না পান্তের। জাতীয় দলের বাইরে থাকার পাশাপাশি আইপিএলেও সময়টা ভালো যাচ্ছে না তার। রেকর্ড মূল্যে লক্ষ্মৌতে যোগ দেবার পর টানা দুই মৌসুম ব্যক্তিগত ও দলীয় দুই ক্ষেত্রেই ব্যর্থ পান্ত। আইপিএলের মাঝপথেই টেস্ট দলের সহ-অধিনায়কত্ব হারানোর খবর পেয়েছেন। পান্তের দায়িত্ব হারানো নিয়ে প্রথমবারের মতো কথা বলতে গিয়ে গম্ভীর স্পষ্ট করে দিয়েছেন, টিম ম্যানেজমেন্ট এখনো পান্তের আক্রমণাত্মক মানসিকতার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখে এবং তাকে নিজের স্বাভাবিক খেলার ধরণ থেকে সরে আসতে বলার কোনো পরিকল্পনা নেই।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীর বলেন, 'ঋষভের ক্ষেত্রে আমরা চাই সে যেমন আছে, তেমনই থাকুক। আমরা তাকে খেলার ধরন বদলাতে বলব না। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি আরও বলেন, 'কোন পরিস্থিতিতে কোন শট খেলা উচিত, সেটি বুঝতে হবে। কিন্তু কোনো খেলোয়াড়কে তার স্বাভাবিক খেলার ধরণ পুরোপুরি বদলে ফেলতে বলা হয় না।'
ভারতীয় কোচের মতে, ফরম্যাট যাই হোক না কেন, একজন ক্রিকেটারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দলের জন্য অবদান রাখা।
গম্ভীর বলেন, 'টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি সব ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য একটাই, রান করা এবং উইকেট নেওয়া। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। কীভাবে সেটা করবে, সেটা খেলোয়াড়ের বিষয়। তবে ম্যাচ ও পরিস্থিতি বুঝে খেলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'
দলের নেতৃত্ব নতুন করে সাজানো নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন গম্ভীর। তার মতে, অধিনায়কত্ব বা সহ-অধিনায়কত্বের চেয়ে দেশের হয়ে পারফর্ম করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
তিনি বলেন, 'ভারতের হয়ে খেলাটাই আসল দায়িত্ব। বাকি সবকিছু এর উপজাত মাত্র। অধিনায়কত্ব, সহ-অধিনায়কত্ব সবই পরবর্তী বিষয়। কেউ যখন ভারতের হয়ে খেলা শুরু করে, তখন সে প্রথম দিন থেকেই অধিনায়ক হওয়ার কথা ভাবে না; ভাবে দেশের জন্য ভালো কিছু করার কথা। তাই এক পদ থেকে আরেক পদে যাওয়া মূল বিষয় নয়।'
শনিবার (৬ জুন) নিউ চণ্ডীগড়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার মাধ্যমে ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট খেলতে যাচ্ছেন ২৮ বছর বয়সী পান্ত। এখন পর্যন্ত ৪৯টি টেস্টে ৪২.৯১ গড়ে ৩,৪৭৬ রান করেছেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ৭৪.২৪। আটটি সেঞ্চুরি ও ১৮টি হাফসেঞ্চুরি রয়েছে তার ঝুলিতে।