সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কাছে ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজ হেরেছে পাকিস্তান। স্বাভাবিকভাবেই বাবর আজমদের নিয়ে প্রচুর নেতিবাচক কথা হচ্ছে। এমন অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ না জেতার বিকল্প ছিল না তাদের হাতে। অজিদের হারাতে নিজেদের সুবিধা মতো স্পিন সহায়ক উইকেট বানায় পাকিস্তান। সেই মন্ত্রে সফলও হয়েছে তারা।
পাকিস্তানের এমন চ্যালেঞ্জ একেবারেই উতরে যেতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। তিন ম্যাচেই প্রত্যাশিতভাবে ব্যাটিং করতে পারেনি সফরকারীরা। একটি ম্যাচেও আড়াইশ ছুঁতে পারেনি ইংলিসের দল। সমতায় থাকলেও শেষ ম্যাচে ৪ উইকেটে হারায় সিরিজ খোয়াতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। পাকিস্তানের কাছে হেরে ৫ জুন বাংলাদেশ সফরে আসছে তারা। বাংলাদেশে আসার আগে পাকিস্তানের সাংবাদিকের প্রশ্নে জানিয়েছেন, মিরপুরেও একই ধরনের কন্ডিশন থাকতে পারে।
ইংলিস বলেন, ‘ওখানেও (বাংলাদেশ) হয়তো আমরা একই রকম কন্ডিশন পেতে পারি। অপেক্ষা করে দেখতে হবে আমাদের। তবে হ্যাঁ, এখানকার কিছু ভিন্ন কন্ডিশনের অভিজ্ঞতা নেওয়া এবং কিছু পরিকল্পনা গুছিয়ে নিতে পেরে ভালো লাগছে। দলের অনেকের জন্যই এটা ছিল ভালো অভিজ্ঞতা।’
আইপিএলের কারণে বেশ কয়েক জন সিনিয়র ক্রিকেটার পাকিস্তান সফরে খেলেননি। ট্রাভিস হেড, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড কিংবা মিচেল স্টার্কের কেউই ছিলেন না স্কোয়াডে। অধিনায়ক করা হলেও চোটে খেলা হয়নি মিচেল মার্শেরও। এমন অবস্থায় পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেছেন অলি পিক, কুপার কনোলির মতো ক্রিকেটাররা। ইংলিস মনে করেন, তরুণদের জন্য এটা দারুণ একটা অভিজ্ঞতা।
ইংলিসের ভাষ্যমতে, ‘ওদের (তরুণ) জন্য এটা নতুন অভিজ্ঞতা। অলি পিককে আমি এটা বলেছি যে একজন অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে এর চেয়ে কঠিন কন্ডিশন আর পেতে পারতাম না, আমাদের জন্য এটা এত বেশি বিরুদ্ধ (কন্ডিশন)!’
‘আমি সম্ভবত চতুর্থবার এলাম পাকিস্তানে, তারপরও আমার জন্য এখনও এটা কঠিন। আমি তাকে (পিক) বলেছি, সবকিছুই আলিঙ্গন করে নিতে।ছেলেদের অনেকেই এখনও শিখছে এই কন্ডিশনে খেলতে কীভাবে নিজেদের পরিকল্পনা, রিভার্স সুইং ও স্পিন সামলাতে হয়। অনেক কিছুই শিখেছি, ইতিবাচক অনেক কিছু আছে। সব মিলিয়ে ভালো কিছুই শিখেছি আমরা।’
কদিন আগেই পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলেছেন মার্নাস ল্যাবুশেন। তবুও কন্ডিশনে পড়তে পারেননি ডানহাতি এই ব্যাটার। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ল্যাবুশেন যথাক্রমে ০, ৫ ও ১৯ রান করেছেন। প্রায় কাছাকাছি চিত্র ক্যামেরন গ্রিনেরও। আইপিএল থেকে ফিরেই ওয়ানডে খেলতে নামতে হয়েছে তাকে। দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। বাকি দুই ম্যাচে করেছেন ০ ও ৭ রান। ইংলিসের বিশ্বাস, বাংলাদেশ সফরে রানে ফিরবেন তারা।
ইংলিস বলেন, ‘দেখুন, আপনি সবসময় রান করতে চাইবেন কিন্তু পারবেন না। গ্রিন মাত্রই টি-টোয়েন্টি খেলে এসেছে। এমন কন্ডিশনে এমনিতেও রান পাওয়া কঠিন। আপনি যখন প্রতি দুই দিনে একটা করে ম্যাচ খেলবেন আর অফ ফর্মে থাকবেন তখন এখান থেকে বের হওয়াটা কঠিন। তারা দুজনই (গ্রিন ও ল্যাবুশেন) ভালো খেলোয়াড়। আশা করি দ্রুতই তারা রানে ফিরবে।’