স্পিন সহায়ক পিচ বানিয়ে অন্যায় করেনি পাকিস্তান, দাবি আফ্রিদির

পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
শাহীন শাহ আফ্রিদি, ফাইল ফটো
শাহীন শাহ আফ্রিদি, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ক্রিকেটের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল পিচ। রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরে স্পিন-সহায়ক উইকেট তৈরি করে স্বাগতিকরা নিজেদের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেছে বলে আলোচনা চলেছে পুরো সিরিজজুড়ে। তবে, পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদির দাবি সব দলই নিজেদের ঘরের মাঠের সুবিধা আদায় করতে চায়, পাকিস্তানও সেই সুবিধা নিয়ে কোনো অন্যায় করেনি।

গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর স্বল্প-রানের ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় পাকিস্তান। তবে এই জয় ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের উইকেটগুলো তুলনামূলকভাবে পেসারদের জন্য বেশি সহায়ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধান কোচ মাইক হেসন পিচ নিয়ে সমালোচনার জবাব দেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার সব ভেন্যুই যে গতি ও বাউন্সে ভরপুর হবে, এমন নয়। পাশাপাশি বিশ্বকাপের আগে দলকে বিভিন্ন ধরনের কন্ডিশনের জন্য প্রস্তুত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সিরিজ জয়ের পর অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদিও নিজেদের পরিকল্পনার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তার মতে, নিজেদের মাঠে নিজেদের শক্তির সাথে মানানসই পিচ তৈরি করার অধিকার সব দলেরই রয়েছে।

শাহিন বলেন, 'বিশ্বকাপের এখনো ১৫ মাস বাকি। নিজেদের মাঠে খেললে প্রতিটি দলই জয়ের জন্য নিজেদের উপযোগী উইকেট তৈরি করে। আমরা যখন মোহাম্মদ রিজওয়ানের অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিলাম, তখন সবুজ ও বাউন্সি উইকেটে খেলেই সিরিজ জিতেছিলাম। তারা এখানে এলে আমরা কেন তাদের জন্য সবুজ উইকেট তৈরি করব? আমাদেরও তো জিততে হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'এগুলো কঠিন উইকেট ছিল। এখানে রান করা বা দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করা সহজ ছিল না। বিশ্বকাপের আগে আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উইকেটেও আমরা খেলব।'

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে চলতি বছর দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দিয়ে পাইপলাইনের সব ক্রিকেটারকেই বাজিয়ে দেখার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ সফরের তিন ওয়ানডেতে ছয়জন ক্রিকেটারের অভিষেক করানো হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ওয়ানডে অভিষেক হয় আরাফাত মিনহাসের।

বাঁহাতি এই স্পিনার অভিষেক ম্যাচেই পাঁচ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েন। ওয়ানডে অভিষেকে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেটার তিনি। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সুবাদে সিরিজসেরার পুরস্কারও জিতেছেন মিনহাস।

এ প্রসঙ্গে শাহিন বলেন, 'এই সিরিজে কয়েকজন খেলোয়াড় নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছে। গত এক বছরে প্রথমবারের মতো আমরা পুরো সিরিজে একই দল নিয়ে খেলেছি। আরাফাত মিনহাস ও আবরার আহমেদকে তিন ম্যাচেই দারুণ বোলিং করতে দেখা গেছে।'

আরো পড়ুন: