চতুর্থ ইনিংসে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের ভরসা ছিলেন জ্যাক ক্রলি। সিরিজে নিজের সেরা ইনিংস খেলেন তিনি। তবে ৮৫ রান করে ফিরেছেন তিনি, ছোঁয়া হয়নি শতরান। দিনের শেষ ভাগে লায়নের বলে ক্রিজ ছাড়িয়ে বেরোতে গিয়ে স্টাম্পড হন ক্রলি।
ইংল্যান্ডের শুরুটা ভালো হয়নি। প্যাট কামিন্স নতুন বলে প্রথম তিনটি উইকেট তুলে নেন। চার রান করা বেন ডাকেটকে ফেরান তিনি। ১৭ রান করা অলি পোপও ফিরেন অজি অধিনায়কের বলে।
এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ইংল্যান্ড। ক্রলি ও রুটের মধ্যে ৭৮ রানের জুটি তৈরি হয়। তবে চা বিরতির পর প্রথম ওভারেই কামিন্স আবার রুটকে ফিরিয়ে দেন। অফ স্টাম্পের বাইরে নিখুঁত লাইনে বল করে রুটকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি।
টেস্টে এটি ছিল কামিন্সের বলে রুটের ১৩তম বিদায়। ৩৯ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন রুট। ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার এ দিন আগ্রাসী ‘বাজবল’ থেকে অনেকটাই দূরে ছিল। আগের টেস্টগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে তারা তুলনামূলক সংযত হয়ে এগিয়ে যেতে থাকে।
ক্রলি শুরুতে ২৮ বলে মাত্র এক রান করেন। পরে নিয়ন্ত্রিত ড্রাইভ ও স্পিনের বিরুদ্ধে সুইপ শটে তিনি ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। হ্যারি ব্রুক কিছুটা অস্বস্তিতে ব্যাট করেন। স্কট বোল্যান্ডের বোলিংয়ে চাপে পড়েন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত নাথান লায়নের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন। এর পর লায়ন পুরোপুরি ছন্দে চলে আসেন।
বেন স্টোকসকেও আউট করেন অস্ট্রেলিয়ার এই স্পিনার। টেস্টে দশমবারের মতো লায়নের বলে ফিরে যান স্টোকস। ১৮ বলে পাঁচ রান আসে তার ব্যাটে। স্টোকসের পর ক্রলির বিদায়ে ইংল্যান্ড কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। ১৯৪ রান তুলতেই ছয় উইকেট পড়ে যায়।
তখনও জয়ের জন্য প্রয়োজন ২০০-র বেশি রান। ছয় উইকেটে ২০৭ রান নিয়ে দিন শেষ করে ইংল্যান্ড। জয়ের জন্য আরো ২২৮ রান লাগে দলটির। এর আগে সকালে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত গুটিয়ে যায়। হেডের ১৭০ রানের ইনিংসই ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়।
ইংল্যান্ড শেষদিকে ৬ উইকেটে ৩৮ রান দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামিয়ে দিলেও তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। সব মিলিয়ে অ্যাডিলেড টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণ স্পষ্ট। একইসাথে অ্যাশেজ ধরে রাখার আনুষ্ঠানিকতা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।