সালমানের বোলিং ও মঈনের অলরাউন্ড নৈপূণ্যে ঢাকাকে হারাল সিলেট

বিপিএল
সিলেট টাইটান্স
সিলেট টাইটান্স
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন মিলে ঢাকা ক্যাপিটালসকে প্রত্যাশিত শুরুই এনে দিয়েছিলেন। মামুন ফিরে গেলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে হাফ সেঞ্চুুরি করেন গুরবাজ। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাইফ হাসান। বড় লক্ষ্য তাড়ায় দাঁড়াতেই পারেননি নাসির হোসেন, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, মোহাম্মদ মিঠুনরা। পেসার সালমন ইরশাদের সঙ্গে ঢাকাকে চেপে ধরার কাজটা করেন মঈন আলী। ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলা ডানহাতি অফ স্পিনার ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। তাদের দুজনের এমন বোলিংয়েই ঢাকাকে ২০ রানে হারিয়েছে সিলেট টাইটান্স। ৮ ম্যাচ খেলা স্বাগতিকদের এটা চতুর্থ জয়। বিপরীত ৬ ম্যাচ খেলা ঢাকার হার চারটিতে।

জয়ের জন্য ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় উদ্বোধনী জুটিতে পঞ্চাশ ‍ছুঁয়েছেন গুরবাজ ও মামুন। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে তাদের দুজনের জুটি ভাঙেন রুয়েল মিয়া। বাঁহাতি পেসারের বলে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ১১ বলে ২৪ রান করা মামুন। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সঙ্গে অপরাজিত ৯০ রানের ইনিংস খেলা নাসির ফিরেছেন দ্রুতই। ৭ বলে ৩ রান করা ডানহাতি ব্যাটারকে বোল্ড করেন নাসুম আহমেদ। সুবিধা করতে পারেননি শামীমও।

মঈনের বলে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মারতে চেয়েছিলেন বাঁহাতি ব্যাটার। তবে ইথান ব্রুকসের দুর্দান্ত ক্যাচে মাত্র ১ রানেই ফিরতে হয় শামীমকে। তাদের বিদায়ের মাঝেই ৪২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন গুরবাজ। যদিও পঞ্চাশ ছোঁয়ার পরই সালমানের বলে ফিরে গেছেন আফগান ওপেনার। ৪৪ বলে ৫১ রান করেছেন গুরবাজ। ব্যাট হাতে ছন্দে না থাকলেও সিলেটের বিপক্ষে ভালো শুরু পেয়েছিলেন সাইফ। যদিও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন।

১৪ বলে ২২ রান করে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে আউট হয়েছেন সাইফ। পরবর্তীতে দ্রুত ফিরে গেছেন মিঠুন, ইমাদ ওয়াসিমরা। শেষের দিকে সাব্বির রহমানের ১৬ বলে অপরাজিত ২৫ রানের ইনিংস কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। ঢাকাকে ১৬০ রানে আটকে দেয়ার দিনে সিলেটের হয়ে ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন সালমান। দুইটি উইকেট পেয়েছেন মঈন। এ ছাড়া একটি করে উইকেট পেয়েছেন ওমরজাই, নাসুম ও রুয়েল।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সিলেটকে ভালো শুরু এনে দেন পারভেজ ইমন ও তৌফিক খান তুষার। উদ্বোধনী জুটিতে তারা দুজনে মিলে ৪৮ রান যোগ করেন। পাওয়ার প্লে শেষে তাদের জুটি ভাঙেন নাসির। ডানহাতি অফ স্পিনারের বলে উইকেটের পেছনে মিঠুনকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ২১ বলে ১৭ রান করেছেন তৌফিক। একটু পর আউট হয়েছেন আরেক ওপেনার পারভেজ ইমন। সাইফের বলে তাসকিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাকে।

সবশেষ দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে না পারা পারভেজ ইমন ২৪ বলে ৩২ রান করেছেন। ছন্দে থাকলেও সুবিধা করতে পারেননি আফিফ হোসেন। প্রথমবার সুযোগ পেয়েই সেটা কাজে লাগিয়েছেন আরিফুল ইসলাম। জিয়া উর রহমানের বলে তাঁরই হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে করেছেন ২৯ বরে ৩৮ রান। পরবর্তীতে সিলেটের রান বাড়িয়েছেন ওমরজাই। কার্যকারী ব্যাটিংয়ে ২৩ বলে ৩৩ রান করেছেন আফগান ব্যাটার।

শেষের দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন মঈন। অফ স্পিনার নাসিরের করা ইনিংসের ১৯তম ওভারে তিনটি ছক্কার সঙ্গে দুইটি চার মেরে ২৮ রান নেন তিনি। পরের ওভারে অবশ্য ফিরতে হয়েছে তাকে। জিয়া উরের বলে স্কয়ার লেগ সাইফউদ্দিনকে ক্যাচ দিয়েছেন ৮ বলে ২৮ রান করে। ইথান ব্রুকস ৯ ও মিরাজ ৭ রান করেন। সিলেটকে ১৮০ রানে আটকে দেয়ার দিনে ঢাকার হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন জিয়াউর।

আরো পড়ুন: