কদিন আগে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস নামের একজন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হয় এমন অভিযোগ তুলে কলকাতায় আন্দোলন শুরু করে বিজেপি ও কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠন। যার ফলে অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) নির্দেশে মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
দেশের মানুষের তোপের মুখেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা। বাঁহাতি পেসারকে বাদ দিতেই পরিস্থিতি পাল্টে যেতে থাকে একটু একটু করে। একজন ক্রিকেটারকে নিরাপত্তা দিতে না পারায় ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি লিটনদের ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে তারা। আইসিসির জবাব পাওয়ার পর যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেছেন বিসিবির পরিচালকরা।
সেখানেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় আছেন তারা। সব তথ্যই সবাইকে জানিয়ে দেয়াতে শঙ্কা দেখছেন তামিম। লজিস্টিক জটিলতায় বিশ্বকাপের ম্যাচ সরানো খুবই কঠিন। এমন অবস্থায় যদি শেষ পর্যন্ত ভারতে খেলতেই যেতে হয় তাহলে তখন কী উত্তর দেবেন বিসিবি পরিচালকরা। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তাই মনে করেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্বার্থে যাতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আপনি একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার পর, ওই আলোচনার পর একটা মন্তব্য করুন। ওইটা জনগণকে জানান। আপনি যদি প্রতিটা ধাপে জনগণকে জানান তখন খামাখা একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়ে যায়, যেটা এখন হয়েছে। এক সপ্তাহ পর যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়, পরিবর্তন হয়ে অন্যরকম (ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে) হয় তখন আপনি প্রথম মন্তব্যের কী উত্তর দেবেন?
‘এজন্য আমার কাছে মনে হয় আপনারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন, তারপর যেই সিদ্ধান্ত হয় (জানান)...। আমি একটাই জিনিস আশা করব—এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের লাভের জন্য হতে হবে, সবার আগে এটা চিন্তা করতে হবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যত চিন্তা করতে হবে, চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার পাশাপাশি ভারতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজও খেলেছেন তামিম। এ ছাড়া বাংলাদেশের অনেক মানুষও ভারতে যাচ্ছেন বিভিন্ন কাজে। নিজেদের সময় নিরাপত্তা শঙ্কা না দেখলেও সাবেক বাঁহাতি ওপেনার মনে করেন বর্তমান পরিস্থিতি খানিকটা ভিন্ন। পুরো তথ্য না থাকায় এটা নিয়ে মন্তব্য করতে চান না তিনি। তবে আলোচনা করে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।
তামিম বলেন, ‘যখন আমরা গিয়েছি (ভারতে) তখন এই পরিস্থিতি আসেনি। তখন আমার কাছে নিরাপত্তার শঙ্কা ছিল না। আমি খালি একা না, আরও অনেকেই বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন কাজে যায়। এখন পরিস্থিতিটা অন্যরকম হয়ে গেছে। যেহেতু আমার কাছে খুব বেশি তথ্য নেই, এটা নিয়ে মন্তব্য করাটাও আমার জন্য উচিত হবে না। তারপরও বলব পৃথিবীতে অনেক কিছু ডায়লগের (আলোচনা) মাধম্যে কিন্তু সমাধান করা যায়। ওই ডায়লগটা (আলোচনা) আপনারা শুরু করেন, কথা বলেন। ওইভাবে যদি সমাধান হয় তাহলে সবচেয়ে ভালো।’