বাংলাদেশকে হতাশায় ডুবিয়ে আফগানিস্তানের ম্যাচ ড্র

আফগানিস্তান-বাংলাদেশ সিরিজ
এসিবি
এসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
শেষদিনে ৭ উইকেট নিতে পারলেই জয়ের সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। অন্যদিকে ম্যাচ ড্র করতে সারাদিন ব্যাটিং করতে হতো আফগানিস্তানকে। যা এক প্রকার অসম্ভবই মনে হচ্ছিল। তবে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে ম্যাচ ড্র করে দেখিয়েছে আফগানিস্তান। সারা দিন বোলিং করেও আফগানিস্তানের শেষ ৭ উইকেট নিতে পারল না বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের দেয়া ৪৭৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেট হারানো আফগানিস্তান পঞ্চম দিনেও শেষ সেশন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে। তবে শেষ বিকেলে সেঞ্চুরি তুলে নেয়া সেদিকউল্লাহ অতলকে ফিরিয়ে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করে বাংলাদেশ। তবে শেষদিকে দারুণ ব্যাটিং করে বাংলাদেশের জয়ের আশা শেষ করে দেন কাইস আহমেদ। তিনি জিয়া উর রহমানকে নিয়ে ম্যাচ ড্র করে মাঠ ছাড়েন।

আউট হওয়ার আগে পর্যন্ত বাংলাদেশকে ভুগিয়েছেন আফগানিস্তানের এই ওপেনার। ৩৩২ বলে ১১১ রানের এক ম্যারাথন ইনিংস খেলেছেন অতল।২৭৭ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন এই ওপেনার। তাইজুল ইসলামের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি।

এর আগে দিনের শুরুতে হাশমতউল্লাহ শহীদি পায়ের চোটে মাঠ ছাড়েন। এরপর অতল ও ইকরাম আলী খিলের ৬৬ রানের জুটি ভাঙেন ইবাদত হোসেন। ৩৩ রান করে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইকরাম। পরে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ৩৬ রান করা শহীদিও ক্যাচ দেন হাসান মাহমুদের হাতে।

এর আগে ইসমত আলমকে ৪ রানে ফিরিয়ে আফগানিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙেন মিরাজ। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি তুলে নেন অতল। তার বিদায়ের পরও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল আফগানিস্তান। দিনের শেষ দিকে বাংলাদেশের জয়ের জন্য দরকার ছিল আর ৩ উইকেট, আফগানিস্তানের হাতে ছিল ২১ ওভার।

এমন অবস্থায় আফগানিস্তানের হাল ধরেন ইয়ামিন আহমদজাই ও কাইস আহমেদ। তারা অষ্টম উইকেট যোগ করেন ৪৫ রান। দুজনে মিলে খেলেছেন ১১০ বল। আর তাতেই বাংলাদেশের অপেক্ষা বাড়ে। ক্যাচ মিস, রান আউটের একাধিক সুযোগ মিসের পর আহমদজাই মিরাজের বলে শর্ট লেগে মুমিনুল হকের দারুণ ক্যাচে ফেরেন ৮৫ বলে ১৯ রান করে। এরপর কাইস ও জিয়া উর আফগানিস্তানকে টানেন শেষ পর্যন্ত।

এর আগে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। লিটন দাস ১০২, নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২ করেন। পাশাপাশি মুশফিকুর রহিম ৮১ ও মেহেদী হাসান মিরাজ অপরাজিত ৫২ রান করে আফগানিস্তানকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়ে দেন। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তান ২৪০ রানে অলআউট হয়েছিল।

আরো পড়ুন: