অসাধারণ বোলিংয়ের পেছনের রহস্য খোলাসা করলেন শরিফুল

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজ
শরিফুল ইসলাম, ক্রিকফ্রেঞ্জি
শরিফুল ইসলাম, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের দাপট দেখেই হয়তো ধারণাটা পেয়ে গিয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম। বাংলাদেশের ব্যাটাররা যে লাইন-লেংথে বারবার সমস্যায় পড়েছেন, একই জায়গায় বল করেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে ফেলার পরিকল্পনা করেন বাঁহাতি এই পেসার। ফলও মিলেছে হাতেনাতে। প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়ার আট উইকেটের ছয়টিই তুলে নিয়েছেন শরিফুল।

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় অভিষেক টেস্টের প্রথম দিনটি ছিল পেসারদের। বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি। দিন শেষে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান করেছে স্বাগতিকেরা। বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে ১০১ রানে, তবে শেষ বিকেলে শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিং তাদের ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের বোলিংয়ের ধরন দেখেছিলেন শরিফুল। বিশেষ করে কোন লাইন-লেংথে বল করলে এই উইকেটে ব্যাটারদের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে, সেটিই বুঝতে চেয়েছেন তিনি। নিজেদের ব্যাটারদের সঙ্গে আলোচনা করেও পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ধারণা।

ম্যাচ শেষে শরিফুল বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে সবসময় ফাস্ট বোলাররা খুব ভালো করে। ওদের ফাস্ট বোলাররা লিজেন্ড, ওরা ভালো করছিল। দেখছিলাম কোন লেংথে বল করলে বোলারদের জন্য ভালো সুবিধা পাওয়া যায়।'

সেই পর্যবেক্ষণ কাজে লাগিয়ে বল হাতে নামার পর শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে দেন শরিফুল। তৃতীয় বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে নিজের প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেনকে। হেড করেন ২২ রান, লাবুশেন থামেন ৪ রানে। এর আগে ম্যাট রেনশকে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কাটা দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ।

এরপর স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ৭৭ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা স্বস্তি দেয়। কিন্তু দলীয় ১১৮ রানে স্মিথকে এলবিডব্লিউ করে জুটি ভাঙেন শরিফুল। ৪২ রান করে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার। এরপর বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকেও দ্রুত ফিরিয়ে দেন তিনি। ওয়েবস্টার শূন্য রানে এলবিডব্লিউ হওয়ার পর কামিন্সের ব্যাটের কিনারা খুঁজে নেন শরিফুল, ক্যাচ নেন লিটন দাস।

কামিন্সের উইকেটেই টেস্টে প্রথমবার পাঁচ উইকেট পূর্ণ হয় শরিফুলের। এরপর মিচেল স্টার্ককে বোল্ড করে নিজের শিকার নিয়ে যান ছয়ে। অস্ট্রেলিয়ার ৮ উইকেটের মধ্যে ছয়টিই তখন তার। তাসকিন ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন একটি করে উইকেট। তবে ক্যামেরন গ্রিনের দৃঢ়তায় পুরোপুরি অলআউট করা যায়নি অস্ট্রেলিয়াকে। ৫১ রানে অপরাজিত থাকা গ্রিনকে সঙ্গ দিচ্ছেন নাথান লায়ন, তার রান ১০।

শরিফুলের বোলিংয়ের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অস্ট্রেলিয়ার নতুন বলের ব্যবহার। বাংলাদেশের ব্যাটারদের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা নতুন বলে দীর্ঘ সময় সুইং পেয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই পরের ইনিংসে নিজেদের বোলিংয়ে একই সুবিধা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশের এই পেসার, 'নতুন বলে সবসময় সুইং করছিল, অনেকক্ষণ ধরে ১৫-২০ ওভার পর্যন্ত। ওরা সুবিধা পেয়ে কাজে লাগিয়েছে। আমরা হয়তোবা পরবর্তী ইনিংসে এটা চেষ্টা করব, আমাদের ব্যাটাররা যেভাবে মানিয়ে নিতে পারে।'

ব্যক্তিগতভাবে পাঁচ উইকেট কিংবা ছয় উইকেট পাওয়াকে তাই খুব বড় করে দেখছেন না শরিফুল। তার কাছে দলের জয়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগের ওয়ানডে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের স্মৃতিও মাথায় আছে তার, 'প্রথম ম্যাচে আসলে সবারই ভালো অনুভূতি থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগবে যদি ম্যাচটা জিততে পারি। কারণ গত ম্যাচে আমরা হেরে গিয়েছিলাম। তাই এখন ভাবছি না যে পাঁচ উইকেট পেয়ে খুব বেশি খুশি। যদি ম্যাচ জিতি তাহলে অনেক বেশি খুশি হব।'

শুধু অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের দেখে নয়, নিজেদের ব্যাটারদের কাছ থেকেও তথ্য নিয়েছেন শরিফুল। কোন লাইন-লেংথে ব্যাট করা সবচেয়ে কঠিন ছিল, তা জেনে নিজেদের পরিকল্পনা সাজিয়েছে বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট, 'ক্যাপ্টেন থেকে শুরু করে সবার সঙ্গে কথা হয়েছে, বিশেষ করে ব্যাটারদের সঙ্গে বেশি আলাপ হয়েছে। তারা ব্যাটিং করেছে, তারা ভালো জানে কোন লেংথের বল খেলা একটু কঠিন। আমরা বোলাররাও সবসময় আলোচনা করি। সবার পরিকল্পনা ছিল মৌলিক বিষয়ের ওপর থাকা।'

আরো পড়ুন: