সবুজ উইকেটে ব্যাটারদের জন্য যে কাজটা কঠিন হবে, সেটির আভাস মিলেছে শুরু থেকেই। দিনের ১৭টি উইকেটই গেছে পেসারদের দখলে, একমাত্র স্পিনার হিসেবে একটি উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতার পর বল হাতে তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখেন। শেষ পর্যন্ত দিনের সবচেয়ে বড় আলোচনার নাম হয়ে ওঠেন শরিফুল।
তৃতীয় বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে নিজের প্রথম ওভারেই অস্ট্রেলিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন বাঁহাতি এই পেসার। প্রথমে ট্রাভিস হেডকে বোল্ড করার পর একই ওভারে মার্নাস লাবুশেনকেও স্টাম্প ভাঙা বলে সাজঘরে পাঠান তিনি। হেড ২২ রান করলেও ল্যাবুশেন থামেন চার রানে। এর আগে ম্যাট রেনশকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শুরুতেই ধাক্কা দেন তাসকিন। আট রান করে আউট হন ১০ বছর পর টেস্ট দলে ফেরা রেনশ।
এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন। দুজনের ৭৭ রানের জুটিতে বিপদ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। তবে দলীয় ১১৮ রানে স্মিথকে এলবিডব্লিউ করে সেই জুটি ভেঙে দেন শরিফুল। ৪২ রান করে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার। এরপর আর স্বাগতিক ব্যাটিংকে স্বস্তি দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। মিরাজের বলে অ্যালেক্স ক্যারি ৫ রানে আউট হওয়ার পর শরিফুলের শিকার হন বিউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্স।
ওয়েবস্টারকে এলবিডব্লিউ করে শূন্য রানে ফেরানোর পর কামিন্সকে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচ বানান শরিফুল। দুই বল খেলে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। সেই উইকেটেই টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের স্বাদ পান বাংলাদেশের এই পেসার। পরে মিচেল স্টার্ককেও বোল্ড করে নিজের শিকার ছয়ে নিয়ে যান তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ৮ উইকেটের ছয়টিই তখন শরিফুলের দখলে। বাকি দুটি উইকেট পান তাসকিন ও মিরাজ।
তবে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে আরও বিপদে ফেলা সম্ভব হয়নি বাংলাদেশের। ক্যামেরন গ্রিন একপ্রান্ত আগলে রেখে ৫১ রানে অপরাজিত আছেন। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন নাথান লায়ন, তার সংগ্রহ ১০। দুজনের ১৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিনের শেষভাগে আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি তারা। নির্ধারিত সময়ের ১৬ ওভার আগেই দিনের খেলা শেষ করা হয়।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিংও ভেঙে পড়ে দ্রুত। মাত্র ৩৪ ওভার ব্যাট করে ৬৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। ইনিংসে একাধিক ব্যাটার দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি, ফলে বড় সংগ্রহের কোনো সম্ভাবনাই তৈরি হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পরে নিজেদের ইনিংসে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।
দিন শেষে ব্যবধান বড় হলেও ম্যাচ থেকে আশা ছাড়ছেন না শরিফুল। তার মতে, দুই দলের জন্যই ব্যাটিং কঠিন হয়েছে এবং বাংলাদেশের সামনে এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। 'ইনশাআল্লাহ, এখনো তো খেলা শেষ হয়নি, প্রথম দিন গিয়েছে। ব্যাটিংয়ে আজকে আমাদের একটু খারাপ দিন গিয়েছে। কিন্তু ওরাও ওদের কন্ডিশনে অনেক সংগ্রাম করছে। ইনশাআল্লাহ দেখা যাক, দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারি।'
নিজের ছয় উইকেট নিয়েও খুব বেশি উচ্ছ্বসিত নন শরিফুল। দলের জয়কেই তিনি ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে বড় করে দেখছেন, 'পাঁচ উইকেট পেয়েছি, এতে আমি এখনো স্বাভাবিকই আছি। যদি ম্যাচ জিতি, তবে তার চেয়ে অনেক বেশি খুশি হব। চেষ্টা করব আমরা যাতে দলগতভাবে খেলি এবং ম্যাচটা কোনোভাবে বের করে আনতে পারি। ড্রেসিংরুমে একটাই বার্তা ছিল—এখনো খেলা শেষ হয়নি, আমাদেরও সময় আসবে।'
শরিফুলের বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে আট উইকেটে আটকে রাখা গেলেও প্রথম দিনের শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে নেই। তবে ১০১ রানের ঘাটতি পুষিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে তাদের। শরিফুলও এটিকে দলের একটি খারাপ দিন হিসেবেই দেখছেন, 'এটা শুধুমাত্র আমাদের একটা খারাপ দিন ছিল। শুধু আমাদের না, দেখেন ওরাও কিন্তু সংগ্রাম করছে। ইনশাআল্লাহ দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াব। আমরা এখনো গেমের ভেতরে আছি। ইনশাআল্লাহ আমরা চেষ্টা করব সেকেন্ড ইনিংসটা যাতে আমাদের পুরোটা হয়।'