বিশ্বের কোথাওই পাকিস্তান ভালো খেলছে না: সালমান

ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজ
সালমান আঘা, ফাইল ফটো
সালমান আঘা, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
হেডিংলিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়টা ইংল্যান্ডের জন্য যতটা সহজ হয়েছে, ততটাই হতাশার হয়ে থাকল সফরকারীদের জন্য। ইনিংস ও ১০৯ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে ইংল্যান্ড। প্রথম দিনে বৃষ্টির কারণে খেলা হয়েছিল মাত্র ২৫ ওভার, এরপরও ম্যাচ গড়ায়নি চতুর্থ দিন পর্যন্ত। তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনেই পাকিস্তানের প্রতিরোধ শেষ করে দেয় স্বাগতিকেরা।

ব্যাট হাতে দুই ইনিংসেই পাকিস্তানের দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। প্রথমবার নেমে ১৭১ রানে থামার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও দ্রুত গুটিয়ে যায় তারা, রান করতে পারে ১৩৫। দুই ইনিংস মিলিয়ে ইংল্যান্ডের বোলারদের সামনে কোনো পর্যায়েই বড় জুটি গড়তে পারেনি পাকিস্তান। উসমান আলী পাঁচ উইকেট নিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও পেসাররা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ফিল্ডিংয়েও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট হয়েছে।

বাবর আজমের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়া সালমান আলী আঘা ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে রাখঢাক করেননি। তার মতে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তান তিন বিভাগেই পিছিয়ে ছিল।

সালমান বলেন, 'বোলিং, ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং- সব বিভাগেই ইংল্যান্ড আমাদেরকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কোনো বিভাগেই আমরা যথেষ্ট ধারাবাহিক ছিলাম না। এখানে বলের পার্শ্বীয় মুভমেন্ট হয়, তাই সব সময় মনোযোগী থাকতে হয়। সেই জায়গাতেই আমাদের ঘাটতি ছিল।'

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক টেস্ট ফলও তাদের দুর্দশারই সাক্ষ্য দিচ্ছে। সর্বশেষ ছয় টেস্টের পাঁচটিতে হেরেছে তারা। গত তিন বছরে ১৯ টেস্ট খেলেও জয় এসেছে মাত্র পাঁচটিতে। এই সময়ে বাংলাদেশের কাছে ঘরে ও বাইরে সিরিজ হেরেছে পাকিস্তান। সাউথ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও হোয়াইটওয়াশ হয়েছে দলটি। দেশের মাঠে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সাউথ আফ্রিকার কাছেও হারতে হয়েছে।

বিদেশের মাটিতে দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা নিয়েও কোনো অজুহাত দেননি সালমান। বরং জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে, 'দেশের বাইরে আমরা ভালো খেলছি না। বিশ্বের কোথাওই আমরা ভালো করতে পারিনি। অবশ্যই এটা উদ্বেগের ব্যাপার। প্রতিটি বৈঠকেই আমরা এ নিয়ে আলোচনা করি। দলের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরেও কথা হয়। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।'

তবে ইংল্যান্ডের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার স্বল্প সময়কে এবারের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। সফর শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এমন কঠিন কন্ডিশনে খেলতে হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সালমান আরও বলেন, 'যেকোনো পাকিস্তানি দলের জন্যই ইংল্যান্ড সফর কঠিন চ্যালেঞ্জ। সম্পূর্ণ ভিন্ন কন্ডিশন থেকে এখানে এসেছি আমরা। এখানকার কন্ডিশনে এক সপ্তাহের মধ্যে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। আমরা চেষ্টা করছি। পরের ম্যাচে আপনারা আমাদের আরও ভালো খেলতে দেখবেন।'

সেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে পাকিস্তান পাচ্ছে বড় স্বস্তি। চোট কাটিয়ে পরের টেস্টের জন্য প্রস্তুত বাবর আজম। লর্ডসে আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ, যেখানে নেতৃত্বও ফিরে পেতে পারেন এই তারকা ব্যাটার।

বাবরের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকা সালমান বলেছেন, 'সে আমাদের সেরা ব্যাটার এবং বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন। আমরা অবশ্যই তাকে দলে পেতে এবং অধিনায়কত্ব তার হাতে তুলে দিতে মুখিয়ে আছি। তাকে পেলে আমরা খুশির চেয়েও বেশি কিছু।'

আরো পড়ুন: