২১৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পঞ্চম ওভারে চামারি আতাপাত্তুর উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ১০ রান করে মারুফা আক্তারের বলে উইকেটের পেছনে পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। এরপর ১০৮ রানের বিশাল জুটিতে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে দেন ইমেশা ও হাসিনি । ইমেশাকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন মারুফা। ৭৯ বলে সাত চারে ৫৯ রান করে মারুফাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হন লঙ্কান ওপেনার।
এরপর হার্শিতা মাধবিকে সাথে নিয়ে ৭৮ রানের জুটি গড়েন হাসিনি পেরেরা। নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পাবার খুব কাছে চলে যান এই ওপেনার। কিন্তু সেঞ্চুরি থেকে পাঁচ রান দূরে থাকতে ১৩১ বলে ১৩ চারে ৯৫ রান করে মোস্তারির বলে পয়েন্ট অঞ্চলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। তবে আরেক প্রান্তে হার্শিতা ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে দলের সহজ জয় নিশ্চিত করেন । বাংলাদেশের হয়ে মারুফা দুইটি ও মোস্তারি একটি উইকেট নেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ২৮ রান তোলেন দুই ওপেনার ফারজানা হক ও শারমিন সুলতানা। ইনিংসের নবম ওভারে আতাপাত্তুর বলে ১১ রান করে বোল্ড হন ফারজানা। পরেই ওভারেই ফিরে যান আরেক ওপেনার শারমিনও। শারমিন আক্তার সুপ্তার সাথে ভুল বোঝাবুঝির স্বীকার হয়ে ১৭ রান করে রান আউট হন এই ব্যাটার।
এরপর সুপ্তাকে সাথে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। দলীয় ৬৯ রানে নিমাশা মাদুশানির বলে বোল্ড হন সিরিজের প্রথম ওয়ানডের ম্যাচসেরা সুপ্তা। ৩৬ বলে তিন চারে ২৫ রান করেন তিনি। পাঁচ নম্বরে নামা মোস্তারির সাথে ৬৫ রানের জুটি গড়ে জ্যোতি। মাঝে তিন হারিয়েই দলীয় ১০০ রান পেড়িয়ে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচের ৩৯ তম ওভারে রানের গতি বাড়াতে গিয়ে আউট হয়ে যান জ্যোতি। কাভিশা দিলহারি বলে বড় শট খেলতে গিয়ে লং অন অঞ্চলে হানসিমা করুণারত্নের তালুবন্দি হন তিনি। আউট হবার আগে ৯০ বলে এক চারে ৪০ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। পরের ওভারে নিমাশার দ্বিতীয় শিকার হয়ে তিন রান করেই ফিরে যান স্বর্ণা আক্তারও।
এক প্রান্ত ধরে রেখে দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন সোবহানা। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন তিনি। দলীয় ১৬৮ রানে ফাহিমা খাতুন আউট হন ১০ বলে ৭ রান করে কাভিশার বলে বোল্ড হন তিনি। এরপর কিছুটা দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন রিতুমনি। ১৬ বলে তিন চারে ২০ রান করেন তিনি। দলীয় ১৮৯ রানে কাভিশার বলে এক্সট্রা কাভার অঞ্চলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন এই ব্যাটার।
একপ্রান্তে লড়াই করতে থাকা মোস্তারি আউট হন একেবারে ইনিংসের শেষ বলে। মাল্কি মাদারার বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মিড উইকেট অঞ্চলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। এর আগে ৮০ বলে আট চারে ৭৪ রান করেন এই ব্যাটার। ৫০ ওভার খেলে ৮ উইকেটে ২১৩ রানে ইনিংস থামে বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কার হয়ে কাভিশা তিনটি, নিমাশা দুইটি এবং মাল্কি ও আতাপাত্তু একটি করে উইকেট নেন।