মিরাজের ভূমিকা এখন কেবল রান আটকানো নয়: মুশতাক

অনুশীলনে মেহেদী হাসান মিরাজ/ক্রিকফ্রেঞ্জি
অনুশীলনে মেহেদী হাসান মিরাজ/ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পাওয়ার প্লে পরবর্তী সময়ে প্রতিপক্ষের রান আটকানো, একের পর এক ডট বল আদায় করে চাপে ফেলার সঙ্গে নিয়মিত উইকেটও তুলে নিচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সবশেষ তিন ওয়ানডে সিরিজেই মাঝের ওভারে প্রতিপক্ষের রান আটকানোয় বড় ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। মুশতাক আহমেদ অবশ্য জানিয়েছেন, মিরাজের এখনকার ভূমিকা শুধু রান আটকানো নয়। বরং বোলিং বৈচিত্র্য দিয়ে প্রতিপক্ষের উইকেট তুলে নেওয়ার কাজও ডানহাতি এই স্পিনারের। মুশতাক জানিয়েছেন, এসব নিয়ে কাজ করছেন মিরাজ নিজেও।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তানের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক হিসেবে টানা তিন সিরিজ জিতলেও প্রশ্ন উঠছে মিরাজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে। গত কয়েকটা সিরিজেই ব্যাটিংয়ে ভালো করতে পারেননি তিনি। সিরিজ জয়ের পর সেটা অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি নিজেও। গত বছর বোলিংয়ের জন্যই টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েছেন মিরাজ।

ডানহাতি স্পিনারের বোলিংয়ে বাজে পারফরম্যান্স দেখা গেছে গত বিপিএলেও। সিলেট টাইটান্সের হয়ে ১২ ম্যাচে ৯ ইকনোমি রেটে নিয়েছিলেন মাত্র ৬ উইকেট। নিজের এমন বোলিং নিয়ে মিরাজেরও উদ্বেগ ছিল। সেটা থেকেই মুশতাকের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। সেটার ফলও পেতে শুরু করেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। কয়েকটি সেশন করার পর নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন, সেটার ছাপ স্পষ্ট মাঠেও।

সবশেষ ১২ মাসে ১৫ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। গত এক বছরে অন্তত ১৫ উইকেট নিয়েছেন এমন বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কম ইকনোমি রেট (৪.০৫) মিরাজের। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কম ইকনোমি রেটে বোলিং করেছেন। অর্থাৎ ওয়ানডেতে রান আটকে রাখার কাজটা ভালোভাবেই করছেন তিনি। তবে মিরাজকে শুধু রান আটকানোতে আবদ্ধ রাখতে চান না মুশতাক।

মিরাজকে সাধারণত রান আটকে রাখার বোলার মনে করা হয়, সে কি আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে মুশতাক বলেন, ‘মিরাজ সেটা ইতিমধ্যেই করেছে। সে মাঝখানের ওভারগুলোতে উইকেট পেয়েছে। গত ম্যাচে সে লাথামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি নিয়েছিল। লাথাম একজন দারুণ খেলোয়াড়। ওই বলটি ছিল ‘ওভার-স্পিন’। মিরাজ এভাবেই উন্নতি করছে। তার ভূমিকা এখন কেবল রান আটকে রাখা নয়। সে তার বৈচিত্র্য দিয়ে কাজ করছে। মিরাজ কোনো ‘মিস্ট্রি স্পিনার’ নয়, তাই তাকে তার ভেরিয়েশনগুলোই আরও উন্নত করতে হবে এবং সে সেটা নিয়ে কাজ করছে।

‘এর কৃতিত্ব অবশ্যই তার। স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে আমার দৃষ্টিভঙ্গি হলো, আপনাকে গতির পরিবর্তন বা পেস ভেরিয়েশন করতে হবে, বিশেষ করে বিদেশি ব্যাটারদের বিপক্ষে। তাদের হাত খুব দ্রুত চলে। তাই তাদের বিভ্রান্ত করতে হলে আপনাকে গতির হেরফের করতে হবে। মিরাজ এখন ক্রিজের ব্যবহার, ক্রিজের গভীরতা এবং অ্যাঙ্গেল বা কোণগুলো ব্যবহার করছে।’

বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের সঙ্গে মাঠের ফিল্ডিং সাজানো অনেক ক্ষেত্রেই বোলারদের উইকেট পেতে বড় সাহায্য করে। মুশতাকের চোখে, ক্রিকেট মূলত অ্যাঙ্গেলের খেলা। যে বোলার যত বেশি অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করতে পারেন সে ততো ভালো করেন। ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি কৌশলী চালের মাধ্যমেও প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের আউট করা যায় বলে জানান বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ।

মুশতাক বলেন, ‘ক্রিকেট মূলত অ্যাঙ্গেলের খেলা। আপনি যদি এই কোণগুলো বোঝেন... অনেক সময় আমি বলি এবং আল্লাহর রহমতে আমি নিজেও এটা করেছি, আপনি কেবল ফিল্ডিং পজিশন এবং কৌশলী চালের মাধ্যমেও মানুষকে আউট করতে পারেন। আপনার যদি সেই ট্যাকটিক্যাল মুভগুলো থাকে যে কীভাবে তাদের রান করা বন্ধ করতে হবে এবং তাদের শক্তি কোথায় তা যদি আপনি ম্যাচের সময় ধরে ফেলতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন, তবে আপনার ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।’

আরো পড়ুন: