২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন ইমরান। তার স্বাস্থ্য ও কারাগারে আচরণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই এক সাক্ষাৎকারে ইমরানের সততা ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেছেন মিয়াঁদাদ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘তিনি একজন সৎ মানুষ। তিনি এমন কেউ নন, যিনি দুর্নীতিতে জড়াতে পারেন। তা না হলে তিনি অনেক কিছুই করতে পারতেন। তাঁকে ছেড়ে দিলে কী হবে? তিনি কি কাউকে খেয়ে ফেলবেন, নাকি কারও ক্ষতি করবেন? তিনিও তো কারও সন্তান। আমি সব সময় ভাবি, তিনি এখন কী করছেন।’
ইমরানকে কাছ থেকে চেনেন বলেই তাঁর সততা নিয়ে দৃঢ় বিশ্বাস মিয়াঁদাদের। পাকিস্তান দল ও কাউন্টি ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলেছেন দুজন। তাই ইমরানকে কারাগারে রেখে কী অর্জন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন মিয়াঁদাদ।
তিনি বলেন, ‘ইমরান আর আমি একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি। ইংল্যান্ডে ছয় মাস একসঙ্গে থেকেছি। একসঙ্গে খেয়েছি, সময় কাটিয়েছি। পরে পাকিস্তান দলেও একসঙ্গে খেলেছি। আমার কাছ থেকেই তিনি অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন। আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো ছিল।’
ইমরানের প্রসঙ্গ উঠতেই একপর্যায়ে নিজেকে সামলাতে পারেননি মিয়াঁদাদ। দীর্ঘদিনের সতীর্থ কারাগারে কী পরিস্থিতির মধ্যে আছেন, সেই ভাবনাই তাঁকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। তিনি বলেন, ‘সবাইকে বসতে হবে এবং বিষয়টির সমাধান করতে হবে। সমস্যা যা-ই থাকুক, পাকিস্তানের জন্য সেটিই এখন দরকার। বিষয়টি অযথা দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। আমার প্রার্থনা, ন্যায়সংগত বিষয়টির জয় হোক। আমি যা বলছি, হৃদয় থেকেই বলছি।’
ইমরানকে পাকিস্তানের জাতীয় বীর উল্লেখ করে সরকারের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন মিয়াঁদাদ। তার ভাষায়, ‘যা ভুল, তা ভুলই। সে অবশ্যই একজন জাতীয় বীর। আমি প্রার্থনা করি, এই সমস্যার সমাধান হোক। পাকিস্তান সরকারের কাছে আমার আবেদন। আমি ইমরানকে সবদিক থেকেই চিনি। সে একজন সৎ মানুষ।’