চিঠিতে সাবেক অধিনায়কেরা বলেছেন, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। আদালতের নির্দেশ ছিল, একটি চিকিৎসা পর্ষদের মাধ্যমে ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। সেখানে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বোন উজমা খানের থাকার কথা ছিল। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সাপ্তাহিক সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও ছিল।
সাবেক অধিনায়কদের দাবি, হাসপাতালে নেয়া হলেও ইমরানকে সেখানে রাখা হয় মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আদালতের নির্দেশিত চিকিৎসা পর্ষদের বদলে রাষ্ট্রনিযুক্ত চিকিৎসকদের একটি দল তাকে পরীক্ষা করে দ্রুত চিকিৎসার উপযোগী ঘোষণা করে আবার কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। তাদের মতে, পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়াই শেষ করা হয়নি।
ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তাঁর পরিবার এর আগে দাবি করেছিল, চোখের সমস্যার কারণে তিনি এক চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারিয়েছেন। এ অবস্থায় সাবেক অধিনায়কেরা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরীক্ষা শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টিও চিঠিতে গুরুত্ব পেয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। তাঁদের বক্তব্য, ইমরানের চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে কোনো প্রশাসনিক জটিলতা বা বিলম্ব থাকা উচিত নয়।
গত ছয় মাসে ইমরানকে নিয়ে এটি সাবেক অধিনায়কদের দ্বিতীয় চিঠি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক একই বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। এবার তাদের সঙ্গে আরও সাতজন যোগ হয়েছেন। চিঠিতে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং ক্রিকেট মাঠের পুরোনো সম্পর্ক থেকেই ইমরানের জন্য আবেদন জানাচ্ছেন তাঁরা।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন মাইকেল আথারটন, অ্যালান বোর্ডার, মাইক ব্রিয়ারলি, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, অ্যালিস্টার কুক, মাইক গ্যাটিং, সুনীল গাভাস্কার, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ডেভিড গাওয়ার, নাসের হুসেইন, ক্লাইভ লয়েড, কপিল দেব, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অ্যান্ড্রু স্ট্রস, দিলীপ ভেংসরকার, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইটের মতো সাবেক অধিনায়কেরা। নারী ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়ক বেলিন্ডা ক্লার্ক ও অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েলও রয়েছেন তালিকায়। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকা ইমরান বর্তমানে একাধিক মামলায় কারাগারে আছেন।