আইপিএলের চলতি আসরে বল হাতে দারুণ সময় পার করছেন কামিন্স ও হ্যাজেলউড। অধিনায়ক হিসেবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে সেরা চারে তোলার পাশাপাশি বল হাতেও আলো ছড়াচ্ছেন কামিন্স। একই সঙ্গে সময়টা ভালো যাচ্ছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর পেসার হ্যাজেলউডের। দিল্লি ক্যাপিটালস বাদ পড়ার আগে বোলার হিসেবে যতটা করা প্রয়োজন সবটাই করেছেন স্টার্ক।
আইপিএল শেষেই পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। তবে সেই সফরে রাখা হয়নি কামিন্স, হ্যাজেলউড ও স্টার্ককে। অস্ট্রেলিয়ার পেসত্রয়ীকে রাখা হয়নি বাংলাদেশ সফরেও। তাদেরকে না খেলানোর ব্যাপারে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ড। ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য পেসারদের ফিটনেস ধরে রাখতেই বেছে খেলাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
এ প্রসঙ্গে ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘আমার মনে হয় সাধারণ মানুষ কেবল সামনের ম্যাচগুলোই দেখে আর আফসোস করে, ‘আরে, ওরা এই ম্যাচগুলোতে খেলছে না কেন? কিন্তু আপনি যদি ২০২৭ সালের দিকে তাকিয়ে পেছনের হিসেবটা মেলান এবং আমাদের ভবিষ্যত ব্যস্ত সূচির দিকে তাকান, তাহলে বুঝবেন—খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখার এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত তাদের টেনে নেওয়ার জন্য এটাই আমাদের হাতে থাকা শেষ বড় বিরতি। আমরা পরিকল্পনা করছি যেন তারা ২০২৭ সালের বিশ্বকাপেও দলের সাথে থাকে।’
‘তাদের সেই পর্যন্ত ফিট অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা যে পরিকল্পনা করেছি, তার ওপর সবার ভরসা রাখা উচিত। কাজটা কিন্তু মোটেও সহজ নয়, বিশেষ করে আমাদের অসাধারণ (মেডিকেল ও স্পোর্টস সায়েন্স) দলটির জন্য এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরে দারুণ কাজ করে আসছে।’
সবশেষ গ্রীষ্মে অ্যাশেজের সবগুলো ম্যাচেই খেলেছেন স্টার্ক। নিজেকে সতেজ রাখতে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। একই কারণে আইপিএলে যোগ দিয়েছেন কয়েক ম্যাচ পর। ২০২২-২৩ মৌসুম থেকে এখনো পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩৮ টেস্টের মধ্যে অর্ধেকটা খেলেছেন হ্যাজেলউড। গত অ্যাশেজে সেভাবে খেলা হয়নি তাদের। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফরে না থাকায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের আগষ্টে অর্থাৎ ১৩ মাসে মাত্র একটি ওয়ানডে খেলেছেন। অনেকের ধারণা, তারা ইচ্ছে করে বেছে বেছে সিরিজ খেলেন।
এ প্রসঙ্গে ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘অনেকের মধ্যেই একটা ভুল ধারণা আছে যে, খেলোয়াড়রা বুঝি নিজেদের সুবিধামতো বেছে বেছে সিরিজ খেলছে। আসলে সামনের ব্যস্ত সূচি কীভাবে সামলানো হবে, সেই হিসাব কষেই এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়—আর খেলার এই সূচি তো খেলোয়াড়রা তৈরি করে না। আমরা ক্রিকেটারদের সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিই... ওরা তো সবসময়ই খেলতে চায়। কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে, এই মুহূর্তে তাদের খেলানোর চেয়ে বিশ্রাম দেওয়াটাই বেশি জরুরি।’