২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল হারের পর থেকেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দাপট দেখাচ্ছে ভারত। আক্রমণাত্বক ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের খোলনলচে পাল্টে ফেলেছে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হোক কিংবা আইসিসির টুর্নামেন্ট ভারতকে হারানো যেন দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে প্রতিপক্ষের জন্য। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে হারের আগে বিশ্বকাপের সবশেষ ১২ ম্যাচের একটিতেও হারেনি ভারত।
২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে বাদ পড়েছিল তারা। সেই হারের পর বহুজাতিক টুর্নামেন্টে ২২ ম্যাচ খেলে ২১টিতে জিতেছে ভারত। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল বৃষ্টির কারণে। চলতি বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচেই জয় পেয়েছে ভারত। একেবারে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা সেই ভারতই হেরেছে সাউথ আফ্রিকার কাছে। ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় স্বাগতিকরা গুটিয়ে যায় মাত্র ১১১ রানে। এমন হারের পরও ভারতকে এখনো ফাইনালে দেখছেন ক্লার্ক।
‘বিয়ন্ড২৩ ক্রিকেট’ পডকাস্টে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘আসরের ফেভারিটদের তাদেরই আঙিনায় হারানো সাউথ আফ্রিকার জন্য দারুণ ব্যাপার, অসাধারণ এক জয়। এখন চাপটা ভারতের ওপর এসেছে, যা (কীভাবে চাপ সামলায়) দেখা হবে দারুণ। আমার চোখে এখনও তারা সেরা দল; যে কন্ডিশনে খেলা হচ্ছে সেটা তারা খুব ভালোভাবে চেনে, সেই বিবেচনায়ও বিশ্বের সেরা দল তারা। তাই আমি এখনও তাদেরকেই ফাইনালে দেখছি। তবে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে হারের পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলে গেছে।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের প্রতিটি গ্রুপ থেকে দুইটি করে দল সেমিফাইনালে সুযোগ পাবে। ভারত, সাউথ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়েকে বানানো হয়েছে গ্রুপ ‘১’। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৭৬ রানের জয় পেয়েছে সাউথ আফ্রিকা। দুই পয়েন্ট নিয়েও দুইয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে রান রেটে তারা বেশ খানিকটা পিছিয়ে। বর্তমানে সাউথ আফ্রিকার রানরেট (+৩.৮০০) এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০৭ রানের জয় পাওয়া ক্যারিবীয়দের (+৫.৩৫০)।
প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়া ভারতের রানরেট (-৩.৮০০)। পরের দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেমিফাইনালে যেতে হলে দুই ম্যাচেই জিততে হবে তাদের। পাশাপাশি রানরেটেও খেয়াল রাখতে হবে। রানরেটে অনেকটা এগিয়ে থাকায় সাউথ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরের ম্যাচে যারা জিতবে অনেকাংশে তাদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি প্রোটিয়াদের হারাতে না পারে তাহলে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচটি লিখিত ফাইনাল হয়ে উঠতে পারে। পথটা কঠিন হলেও ভারতের পক্ষেই বাজি ধরছেন ক্লার্ক।
তিনি বলেন, ‘আপনি অবশ্যই আশা করবেন জিম্বাবুয়েকে তারা হারাবে। জিম্বাবুয়েকে অসম্মান করছি না, তারা সুপার এইটে জায়গা পাওয়ার যোগ্য, তবে আমার মনে হয় ভারত সহজেই তাদেরকে হারাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের ম্যাচটি হবে সবচেয়ে দারুণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই মুহূর্তে তাদের সেরা ক্রিকেট খেলছে। তারা আত্মবিশ্বাসে সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের দলটি দারুণ এবং তারা নিজেদের ওপর আস্থা রাখে। আমার মনে হয়, সেই ম্যাচটি নির্ধারণ করে দিতে পারে ওই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে কারা পরের ধাপে যাবে।’
‘ভারত যদি পরের ধাপে যেতে না পারে…ভারতীয় ক্রিকেটের সমর্থক হলে আপনি অবশ্যই রাগে ফুঁসবেন এবং অবাক হবেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তারা দুর্দান্ত; এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা দল এবং চেনা কন্ডিশনে খেলছে। ভারত যদি সেমি-ফাইনালে উঠতে না পারে, এটা হবে বিশাল ধাক্কা। আমি ভারতকে বাতিলের খাতায় ফেলব না, শুধু সেমি-ফাইনালেই নয় তারা ফাইনালেও খেলবে, এটা না ভাবাই হবে বোকামি।’