গতির সঙ্গে বাউন্সারে প্রায়শই প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলছেন নাহিদ। কখনো বা দুর্দান্ত ইয়র্কারে ব্যাটারদের স্টাম্প উপড়ে ফেলছেন। এই তো কদিন আগে শন টেইট সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, নাহিদের ইয়র্কার দেখে তার ওয়াকার ইউনিসের কথা মনে পড়ে। ডানহাতি পেসার কতটা রোমাঞ্চ ছড়িয়েছেন সেটা নিশ্চয় বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছন্দেই আছেন দেশের সবচেয়ে গতিময় পেসার।
পাকিস্তান সিরিজে ৮ উইকেট নিয়ে তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে সিরিজসেরা হয়েছিলেন। নাহিদের গতির ঝড় দেখা গেছে পাকিস্তান সুপার লিগেও (পিএসএল)। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড সিরিজেও কম যাননি তিনি। প্রথম ম্যাচে ভালো করতে না পারলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। সেই ম্যাচে তো ১০ ওভারের কোটায় মাত্র একটি ডেলিভারি করেছিলেন প্রতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের নিচে।
শেষ ম্যাচেও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের পরীক্ষা নিয়েছিলেন। সিরিজ শেষে নাহিদের বয়স যে মাত্র ২৩ বছর সেটা বিশ্বােই করতে পারছিলেন না টম লাথাম। নিউজিল্যান্ডের আরেক ব্যাটার নিক কেলি চিন্তাই করতে পারছেন না তারকা পেসার কীভাবে এত গরমে এত গতিতে বোলিং করেন। তাসকিনের চোখেও নাহিদ একজন দারুণ প্রতিভা। সেই সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম যে করতে পারেন সেটাও জানালেন তিনি।
নাহিদকে নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘মাশাআল্লাহ, সে (নাহিদ রানা) বাংলাদেশের জন্য দারুণ একটা প্রতিভা। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে যে ফর্মে আছে আল্লাহ ওরে সুস্থ থাকুক, নজর না লাগুক। ওকে সুন্দর মতো মেইনটেইন করা হোক। আমি নিশ্চিত ও যতটা কঠোর পরিশ্রমী একটা ছেলে, ও এভাবে মেইনটেইন করলে ও অনেক বড় খেলোয়াড় হবে এবং বাংলাদেশকে অনেক কিছু দেবে।’
একটা সময় বাংলাদেশের বোলিং লাইন আপের পুরোটা ছিল স্পিন নির্ভর। বিশেষ করে টেস্টে কখনো কখনো পেসার ছাড়াই খেলতে দেখা গেছে তাদের। পেসার খেললেও একটার বেশি খেলেছে কমই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দিন বদলে, এখন পেসাররাই ডমিনেট করছে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের পেস ভাণ্ডার দাপট দেখাচ্ছে, ম্যাচ জেতাতেও বড় ভূমিকা রাখছে।
তাসকিন, নাহিদ, মুস্তাফিজুর রহমান, খালেদ আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব, ইবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলামরা পেস ইউনিটকে বিশ্ব মানের করে তুলেছেন। একটা সময় না পারলেও বর্তমানে পেস বোলিং দিয়ে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলের সঙ্গে দাপট দেখাতে পারায় খুশি তাসকিন। তিনি বলেন, ‘পেস বোলিং ইউনিটের যারা আছে— ওয়ানডে, টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি মিলে আমরা ৮-১০ জন পেস বোলার আছি। সবারই ওই উন্নতির তাগিদটা আছে।’
তাসকিন আরও যোগ করেন, ‘সেদিন আমরা ড্রেসিং রুমে গল্প করছিলাম আজ থেকে ৬-৭ বছর আগে নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার সাথে বেশিরভাগ সময় পেস বোলিংয়ে ওইভাবে আমাদের ডমিনেট করার সুযোগ থাকত না। ওরা অনেক আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করতো। এখন দেখা গেছে আমরা আমাদের হোম কন্ডিশনেও পেস বোলিং দিয়ে নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তানের মতো দলকে আমরা ডমিনেট করে জিতছি। এটা আসলে একটা প্রাপ্তির জায়গা।’