বৈশাখের খরতাপও নাহিদের বোলিংয়ের গতি কমাতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে একটু খরুচে বোলিং করেছিলেন তিনি। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান। পিএসএলের ফর্ম টেনে এনে কিউই ব্যাটারদের ধস নামিয়েছেন তিনি। বোলিংয়ে এসেই বাউন্সারে উইল ইয়াংয়ের উইকেট নিয়েছিলেন নাহিদ। পরবর্তীতে ফিরিয়েছেন আরও চার ব্যাটারকে।
ফুলার লেংথে, বাউন্সারে ও ইয়র্কারে উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। টপ অর্ডারে, মাঝের ওভারে কিংবা শেষের দিকে—অধিনায়কের যখনই প্রয়োজন হচ্ছে ডানহাতি পেসারের হাতে বল তুলে দিচ্ছেন। নাহিদও আস্থা রেখে উইকেট এনে দিচ্ছেন। এমন বোলিংয়ে তাই ওয়াকার ইউনিসকে মনে পড়ছে টেইটের। গতিময় বোলিংয়ে বেশ পরিচিতি ছিল ওয়াকারের।
ডানহাতি সাবেক পেসারের বোলিংয়ের বিশেষত্ব ছিল রিভার্স সুইং। এ ছাড়া গতিময় বোলিংয়ে ইনসুইং ও ‘টো-ক্রাশিং’ ইয়র্কারে পটু ছিলেন তিনি। ওয়াকারের উদাহরণ টেনে টেইট বলেন, ‘গত ম্যাচে নাহিদের যেটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সেটা ইয়র্কার। আমাকে ওয়াকার ইউনিসের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তা। পেস বোলার আসবে, টপ অর্ডারে উইকেট নেবে, লেজের ব্যাটসম্যানদেরও ফিরিয়ে দেবে। আমি এটা পছন্দ করি ব্যক্তিগতভাবে।’
টেইট নিজেও গতিময় বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। গতির সঙ্গে ইয়র্কারে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ভয় ধরিয়েছেন। নাহিদের সঙ্গে নিজের শৈশবের অনেক কিছুরই মিল খুঁজে পান বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ। যদিও শরীর ভারী হওয়ায় তার জন্য জোরে বোলিং করা কঠিন ছিল বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গে এও জানিয়েছেন, তার চেয়ে ‘ভালো অ্যাথলেট’ নাহিদের চোটে পড়ার ঝুঁকি কম।
টেইট বলেন, ‘অনেক মিল আছে, কিন্তু কিছু পার্থক্যও আছে। সে খুব ফিট, আমি এতটা ছিলাম না। আরও ভারী শরীর ছিল, জোরে বল করা কঠিন ছিল। কিন্তু তাকে দেখে মনে হয়, কাজটা খুব সহজ, সে খুব ভালো অ্যাথলেট। খুবই পাতলা আর শক্তিশালী। আমার চেয়ে তার চোটে পড়ার ঝুঁকি কম।’
২০২৫ বিপিএলে চিটাগং কিংসের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন টেইট। সেই বিপিএলের পর বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচের দায়িত্বে নেন ৪৩ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান। এই সময়ে মুস্তাফিজ, নাহিদ, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম, খালেদ আহমেদদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। টেইট জানান, বাংলাদেশের পেসারদের সঙ্গে কাজ করার সঙ্গে তাদের উন্নতি দেখেও ভালো লাগছে তার।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দলের সাথে অত্যন্ত উপভোগ করছি। পেসারদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে। তাদের উন্নতি দেখতে ভালো লাগে এবং যখন সবকিছু ভালো যায় তখন তো আরও ভালো লাগে। একজন কোচ হিসেবে, আপনি যাই বলুন না কেন, তাদের ভালো সময়েও পাশে থাকতে হয়, কঠিন সময়েও থাকতে হয়। আমি এটাকে আলাদাভাবে দেখি না। আমি দেখি আমরা সবাই একসঙ্গে। আমি তাদের বোলিং দলের অংশ। আমি এখানে প্রায় এক বছর ধরে আছি এবং এই পেসারদের সঙ্গে সময় কাটাতে ও কাজ করতে আমি খুবই উপভোগ করছি।’