১৬৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ওপেনার হাসিনি পেরেরাকে বোল্ড করেন সুলতানা খাতুন। ইনিংসের দশম ওভারে রিতুমনির বলে কাটশট খেলতে গিয়ে পয়েন্টে নাহিদা আক্তারের ক্যাচে পরিণত হন ইমেশা।
বল হাতে তিন উইকেট নেয়া লন্কান অধিনায়ক আতাপাত্তু ব্যাট হাতেও ছড়ি ঘোরাতে থাকেন বাংলাদেশের বোলারদের ওপর। আক্রমণাত্মক মেজাজে আট চারে ৩৯ বলে ৪০ রান করে শ্রীলঙ্কার জয়কে সহজ করে তোলেন তিনি। দলীয় ৭৯ রানে নাহিদার বলে বোল্ড হয়ে আউট হন এই অলরাউন্ডার।
এরপর চতুর্থ উইকেটে ৭৭ রানের জুটি গড়েন মাধবী ও হানসিমা। নাহিদার বলে জ্যোতির কাছে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেবার আগে ৬৪ বলে ৪০ রান করেন হানসিমা। অন্যদিকে ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি করে ৭৬ বলে ৫০ রানে আউট হন মাধবী। শেষদিকে লঙ্কানরা দ্রুত দুই উইকেট হারালেও জয় পেতে বেগ পেতে হয়নি তাদের। ৭০ বল বাকি থাকতে চার উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা চারটি এবং রিতুমনি ও সুলতানা একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মাল্কি মাদারার বলে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ২ রানে আউট হন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। মাদারার পরের ওভারেই সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খায় টাইগ্রেসরা। আগের ম্যাচের ম্যাচ সেরা শারমিন আক্তার সুপ্তাকে রানের খাতা খোলার আগেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান মাল্কি, চার রানেই দুই উইকেটের দল তখন বাংলাদেশ।
এরপর চার নম্বরে নামা অধিনায়ক জ্যোতিকে নিয়ে শুরুর বিপদ সামাল দেবার চেষ্টা করেন শারমিন সুলতানা। দুই ব্যাটারের ৪৫ রানের জুটি ভাঙে দলীয় ৪৯ রানে কুমারি আতাপাত্তুর বলে সুলতানা লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়লে। ৩৯ বলে ২৫ রান করেন তিনি। এক ওভার পরেই প্রথম ওয়ানডের আরেক পারফর্মার সুবহানা মোস্তারি। ১১ বলে ৫ রান করে পুলশট খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি।
উইকেটের একপ্রান্তে অধিনায়ক জ্যোতি হাল ধরলেও তাকে সঙ্গ দিতে পারছিলেন না কেউ। স্বর্ণা আক্তার (১৬) , রিতুমনি (১৭) ছোট ছোট ইনিংস খেললেও বড় জুটি হয়নি মিডল অর্ডারে। স্বর্ণা ১৬ রান করে আউট হলে ১০০ রানের আগেই পাঁচ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
অন্যপ্রান্তে নিঃসঙ্গ লড়াই করে ক্যারিয়ারের নবম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন জ্যোতি। চারটি চারে ১০১ বলে ৫৮ রান করে কৌশিনি নুথিয়াঙ্গার বলে উইকেটরক্ষক নিমাশা মাদুশানির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন জ্যোতি। দলের স্কোর তখন ৭ উইকেটে ১৪৫। জ্যোতি আউট হবার পর খুব বেশি এগোয়নি বাংলাদেশের ইনিংস।
শেষদিকে নাহিদা আক্তার ২০ ও রাবেয়া খান ১৫ রানের দুটি ইনিংস খেলেন। ৪৫.৫ ওভারে ১৬৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার হয়ে অধিনায়ক আতাপাত্তু তিনটি, মাল্কি, নিমাশা ও রানবীরা ইনোকা দুইটি এবং কাভিশা দিলহারি একটি করে উইকেট নেন।