যে কোনো টুর্নামেন্ট কিংবা সিরিজের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে মিরপুরের উইকেট। সবশেষ কয়েক বছরে শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট স্পিনারদের জন্য স্বর্গ হয়ে উঠেছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বাংলাদেশও সেই স্পিন উইকেটেরই সহায়তা নিয়েছে। এমনও হয়েছে বাংলাদেশ একজন পেসারও নিয়ে খেলেছে। তবে গত কয়েক বছরে পেসারদের উন্নতিতে পরিস্থিতি বদলে গেছে।
পেস বিপ্লবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, ইবাদত হোসেনরা। একটা সময় স্পিন নির্ভর বাংলাদেশকে এখন প্রায়শই ম্যাচ জেতাচ্ছেন পেসাররা। গত পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন নাহিদ। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের উপর ভরসা রাখছে বাংলাদেশও। তবুও এশিয়ার বাইরের দেশ এলে স্পিনেই ভরসা করে টাইগাররা। তবে এমন কিছুর প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না ওয়াল্টার।
বাংলাদেশের পেসারদের প্রশংসা করে নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ বলেন, ‘আমি মনে করি বাংলাদেশ দলে দারুণ কিছু পেস বোলার রয়েছে। তাই এখন আর তাদের স্পিন সহায়ক উইকেট তৈরির প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। তারা সবদিক থেকেই শক্তিশালী। তবে কিউরেটর এমন পরিকল্পনার কথা বলেছেন, সেটি ভালো।’
‘এতে কি আমাদের জন্য কিছুটা সুবিধা হবে? সম্ভবত। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন এত ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে খেলা হয় যে সবকিছুর জন্যই প্রস্তুত থাকতে হয়। আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে দেখেছি, সেখানে স্পিন ও পেসের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র ছিল। তাই আমরা দুই ধরনের পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। যাই সামনে আসুক, আমাদের সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ভালো খেলতে হবে।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে আলাদা করে নজর কাড়ছেন নাহিদ। গত বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে আলো ছড়িয়েছেন। মার্চে হওয়া পাকিস্তান সিরিজেও আগুনে বোলিং করেছেন তিনি। তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে হয়েছেন যৌথভাবে ম্যাচসেরা। চলমান পিএসএলেও দেখা গেছে ডানহাতি পেসারের গতিময় বোলিং। পেশোয়ার জালমির দুইটি জয়ে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।
নাহিদের বোলিংয়ের প্রশংসা করে ওয়াল্টার বলেন, ‘দুর্দান্ত একজন পেস বোলার। আমি মনে করি কন্ডিশন তাকে সাহায্য করে এবং বাংলাদেশের মাটিতে খেলা একজন পেস বোলারের জন্য দারুণ ব্যাপার। আমরা তার সামর্থ্যকে মোটেও খাটো করে দেখছি না। আগেও যেমনটা বললাম তার পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন পেস বোলার আছে।’
‘আমাদের কাছে পেস বোলারকে মোকাবেলা করা নতুন কিছু নয়। আমরা নিয়মিতই পেসারদের খেলি এবং আমাদের দলেও বেশ কয়েকজন পেস বোলার আছে। তবে ওই দিন কে বেশি দক্ষতা দেখাতে পারছে সেটাই বড় বিষয়। যে ১৪০ গতির উপরে বোলিং করতে পারে এমন কাউকে ভিন্ন কন্ডিশনে মোকাবেলা করার জন্য আমাদের পরিকল্পনা আছে।’