সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদকে ভেঙে দিয়ে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি। এমন পরিস্থিতিতে এডহক কমিটি যাতে কাজ করতে না পারে সেজন্য আইসিসির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বুলবুল। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এমন দাবি করেছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।
তামিম বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার রাতে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধম্যে ৫ এপ্রিল এনএসসিতে জমা হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বুলবুল। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে হওয়া নির্বাচনে একগাদা নিয়ম খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। নির্বাচনে অনিয়ম, কারসাজি হওয়ার পাশাপাশি অনেক দূর্বলতাও খুঁজে পেয়েছে ৫ সদস্যের সেই কমিটি।
যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বুলবুল দাবি করেছেন, সেই নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠ হয়েছে। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়কের কাছে, তদন্ত প্রতিবেদনটি ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালি এবং আইনগত ভিত্তিহীন। বুলবুল দাবি করেছেন, তিন সদস্যের গঠিত নির্বাচন কমিশন সংবিধান মেনেই নির্বাচন পরিচালনা করছেন।
গত নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক। তামিমসহ ১৫ ক্লাবের কাউন্সিলর পদ নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ তখন আধা-বিচারিক শুনানির মাধ্যমে সমাধান হয়েছে বলেও দাবি করেছেন বুলবুল। সাবেক ক্রিকেটাররা বোর্ডকে অস্থিতিশীল করতে ‘নির্বাচন ফিক্সিং’য়ের অভিযোগ তোলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। বুলবুলের দাবি এমন একটি প্রতিষ্ঠানের শেষ হওয়া একটি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার এনএসসির নেই। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ থাকার সুযোগ নেই। সেই বিষয়টিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে হওয়া তদন্ত প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
বুলবুলের বোর্ডকে ভেঙে নতুন একটি এডহক কমিটি গঠন করেছে এনএসসি। আইসিসিকে ইমেইলে পাঠিয়ে সেই খবর নিশ্চিতও করেছে তারা। তবে তামিমের নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটিকে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ দাবি করেছেন বুলবুল। এডহক কমিটি গঠনকে বিসিবির সংবিধানের পরিপন্থী ও সরকারি হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত আইসিসির নিয়মের লঙ্ঘন বলে মনে করেন তিনি। এডহক কমিটিকে ‘ভুয়া সংস্থা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বুলবুল।
তামিমের এডহক কমিটিকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ বিসিবির সাবেক সভাপতি। আইসিসি যাতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং তাদেরকে কাজ করতে না দেয় এজন্য আহ্বান জানিয়েছেন বুলবুল। এনএসসির এমন পদক্ষেপ বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করেন তিনি। বুলবুল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই বুঝতে হবে সরকার আমাদের ক্রিকেটীয় স্বায়ত্তশাসনের গলায় ছুরি ধরেছে।’
সরকারি হস্তক্ষেপের ফলে তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন বুলবুল। পরিশেষে তামিমের এডহক কমিটির উপর অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন এডহক কমিটি অবৈধ। তদন্ত প্রতিবেদনও অবৈধ। একেবারে শেষে তিনি দাবি করেছেন হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম বুলবুলই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি থাকবেন।