বাংলাদেশের ক্রিকেটের সম্মান ফেরাতে চান তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেট
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাফল্যের চেয়ে সংকটই যেন বেশি। জাতীয় দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতার সঙ্গে বোর্ডের একের পর এক বিতর্কে ক্রমশই বিরক্ত হয়ে উঠছেন ক্রিকেট সমর্থকরা। কেউ কেউ ক্রিকেটারদের গালি দিচ্ছেন, কেউ তো ক্রিকেট থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন। অথচ ক্রিকেটের জন্য একসময় পাগলপ্রায় ছিলেন এ দেশের সমর্থকরা। সবশেষ কয়েক বছরে সবকিছুই যেন ধূসর রঙ ধারণ করেছে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পুরনো সেই সম্মান ফিরিয়ে আনতে চান তামিম ইকবাল। বিসিবির এডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই এমনটা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।

২০১৫ সালে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও তামিমের সঙ্গে সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমানদের পারফরম্যান্সে সিরিজ জিতে ভারত, পাকিস্তান ও সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে। টেস্টে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকেও হারায় বাংলাদেশ।

দেশের ক্রিকেটে রূপকথার মতো কেটেছে ২০১৫ থেকে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। ২০২২ সাল পর্যন্তও ভালো ক্রিকেটে খেলে টাইগাররা। সমর্থকরাও পাগলের মতো সমর্থন দিয়েছেন। তবে ২০২৩ বিশ্বকাপের পর থেকেই যেন অধঃপতন শুরু। সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিদায়ের পর পথ হারিয়েছে দেশের ক্রিকেট। ধারাবাহিক ব্যর্থতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বোর্ডের নানান কর্মকাণ্ড। গত দু’বছরে তিনবার সভাপতি পরিবর্তন হয়েছে।

বিসিবিতে খেলার চেয়ে ক্রমশই ধুলো বেশি উড়তে শুরু করেছে। ক্রিকেটের এমন পরিস্থিতিতে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সমর্থকরা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিমানবন্দরে ক্রিকেটারদের হেনস্তা করা যেন সেটার একটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্রিকেটাররা নিয়মিতই ট্রল হচ্ছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সম্মান যে নষ্ট হয়েছে সেটা অকপটে স্বীকার করলেন তামিম। পাশাপাশি পুরনো সেই সম্মান ফেরাতে চান তিনি।

এ প্রসঙ্গে বিসিবির এডহক কমিটির সভাপতি বলেন, ‘এখানে (বিসিবি) যখনই কেউ দায়িত্ব পান তখন ডেভেলপমেন্টের কথা বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। আমি এবং আমার দল (এডহক কমিটি) ব্যক্তিগতভাবে এটা ফিল করে আমাদের প্রথম কাজ হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের রেপুটেশন ঠিক করা। গত এক-দেড় বছরে যে রেপুটেশন ড্যামেজ হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের, এটার রেপুটেশন ঠিক করাটা হচ্ছে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্টেকহোল্ডারদের অন্যতম হচ্ছেন সাংবাদিকরা। দেশের ক্রিকেটের সম্মান ফেরাতে তাদের সহযোগিতাও চেয়েছেন তামিম। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক জানান, বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন যে জায়গায় আছে সেটা তারা কেউই চান না। ভালো কাজ করতে না পারলে ১১ সদস্যের এডহক কমিটির যে সমালোচনা হবে সেটাও মেনে নিয়েছেন তিনি।

তামিম বলেন, ‘আমি নিশ্চিত আপনাদের (সাংবাদিক) থেকে একটা সহযোগিতা লাগবে, এটা আপনারা সবাই বিশ্বাস করেন। গত এক-দেড় বছরে ক্রিকেটের যে ক্ষতি হয়েছে বা ক্রিকেটের সম্মানের ক্ষতি হয়েছে, এই জিনিসটা আমাদের সবাইকে মিলে ঠিক করতে হবে। কারণ আমাদের সমালোচনা থাকবে, ভালো কাজ করব, আবার হয়ত করব না। এটা নিয়ে সমালোচনা থাকবে, সবই থাকবে। কিন্তু আমরা এখানে কেউই চাই না ক্রিকেটটা এখন যে জায়গায় নেমেছে এই জায়গায় থাক। সবসময়ই চাই, ক্রিকেট একটা আমাদের গর্বের ব্যাপার।’

দেশের ক্রিকেটের সম্মান কতটা নষ্ট হয়েছে সেটার উদাহরণ দিতে গিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘বিসিবিতে যারা চাকরি করতেন বা চাকরি করেন তারা যখন বাইরে যান তারা গর্বের সাথে বলেন যে আমি বিসিবিতে চাকরি করি। এখন আমি নিশ্চিত নই যে তারা এই কথাটা গর্বের সাথে বলতে পারে কিনা। কারণ যে ধরনের কার্যকলাপ গত এক-দেড় বছরে হয়েছে। সুতরাং ওই গর্বের জায়গাটা আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। খেলোয়াড়দেরকে আমাদের সম্মান করতে হবে, প্রত্যেকটা স্টেকহোল্ডারকে সম্মান করতে হবে। এটাই আমাদের মূল কাজ হবে। আমরা ভালোর জন্য পরিবর্তন করব, শুধু কথা বলার জন্য বলা না। আমরা চেষ্টা করব। আমাদের ভুল হবে, আমাদের দলে যারা আছেন তাদেরও ভুল হবে। ওই ভুল থেকে আমরা শিখব, আবার আমরা চেষ্টা করব। এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

আরো পড়ুন: