নাইটক্লাবের ঘটনায় তদন্তের মুখে ইংলিশ পেসার

ইংল্যান্ড ক্রিকেট
ব্রাইডন কার্স, ফাইল ফটো
ব্রাইডন কার্স, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
নাইটক্লাবের একটি ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন ইংল্যান্ডের পেসার ব্রাইডন কার্স। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজের প্রথম দুই টেস্টের দলে থাকা এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রাতে ডার্বির একটি নাইটক্লাবে। পরদিন কার্সের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, পরে সেটি প্রকাশ করে টেলিগ্রাফ। ভিডিওতে দেখা যায়, হাতকড়া পরা অবস্থায় কার্সের দুই হাত পেছনে বাঁধা এবং তাকে ঘিরে রেখেছেন কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। সেখানে ইংল্যান্ডের সতীর্থ ম্যাথু পটস ও সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকসকেও দেখা যায়।

শনিবার ডারহামের হয়ে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ খেলেছিলেন কার্স, পটস ও স্টোকস। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই ঘটে ওই ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে ইসিবি জানিয়েছে, ডার্বিতে একটি ঘটনা ঘটার খবর তারা পেয়েছে এবং সেটি এখন তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের একাদশে জায়গা হয়নি কার্সের। ফলে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার জন্য তাকে ডারহামের কাছে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। লর্ডসে আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। সেখানে কার্সের খেলা নিয়ে তদন্তের ফল কী প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কার্সকে ঘিরে এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে মাঠের বাইরের শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। দ্বিতীয় দফায় টেস্ট অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর জো রুট সতীর্থদের সত্যিকারের আদর্শ ও ভালো মানুষ হওয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন। তার সেই মন্তব্যের মাত্র পাঁচ দিন পরই কার্সকে ঘিরে তদন্ত শুরু হলো।

সাম্প্রতিক সময়েও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের মাঠের বাইরের আচরণ নিয়ে একাধিক ঘটনা আলোচনায় এসেছে। গত শীতে ওয়েলিংটনে হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে একটি নাইটক্লাবের নিরাপত্তাকর্মীর ঘটনা এবং অ্যাশেজ চলাকালে নুসায় ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দের মদ্যপানের বিষয়টি আলোচনায় ছিল।

এরপর গ্রীষ্মে দলের নির্ধারিত সময়সীমা ভেঙেছিলেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসন। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ হার, স্টোকসের অবসর ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের কোচের পদ হারানোর ঘটনাও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।

তবে এসব ঘটনার পরও চলতি মাসের শুরুতে রুট জানিয়েছিলেন, জানুয়ারিতে চালু করা মধ্যরাতের সময়সীমা আর থাকবে না। তার মতে, বিষয়টি অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই। কার্সের নতুন ঘটনা সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও আবার আলোচনা তৈরি করতে পারে।

এদিকে কার্সের অতীতেও শাস্তির ঘটনা রয়েছে। এই পেসারকে ২০২৪ সালে বাজি ধরার অভিযোগে তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিভিন্ন ম্যাচে মোট ৩০৩টি বাজি ধরেছিলেন তিনি। তবে ওই ম্যাচগুলোর কোনোটিতেই কার্স নিজে অংশ নেননি।

আরো পড়ুন: