৮ ছক্কা ও ১০ চারে খেললেন ৩৩ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস। অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে সাউথ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ড। নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে কিউইরা। ২০২১ সালে ফাইনালে উঠলেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে শিরোপা স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছিল মিচেল স্যান্টনারদের। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ভারত ও ইংল্যান্ডের ম্যাচে জয় পাওয়া দল।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে রানতাড়ায় ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই তাণ্ডব চালান সেইফার্ট ও অ্যালেন। তাদের দুজনের ব্যাটে দ্রুত রান তুলতে থাকে নিউজিল্যান্ড। যদিও ব্যক্তিগত ১১ রানে ফিরতে পারতেন সেইফার্ট। তবে ফাইন লেগ পর্যন্ত দৌড়ে গেলেও ক্যাচ নিতে পারেননি কুইন্টন ডি কক। জীবন পেয়ে সেটা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনারই পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন। পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৮৪ রান তোলে কিউইরা।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। পাওয়ার প্লে শেষে ২৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন সেইফার্ট। একটু পর অ্যালেন পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন মাত্র ১৯ বলে। তাদের দুজনের ১১৭ রানের জুটি ভাঙেন রাবাদা। ডানহাতি পেসারের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন সেইফার্ট। ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ বলে ৫৮ রান করেছেন ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার। তবে থেমে যাননি অ্যালেন। ক্রমশই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছেন তিনি।
রাচিন রবীন্দ্রকে সঙ্গে নিয়ে তাণ্ডব চালাতে থাকেন ডানহাতি ওপেনার। নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে তুলতে প্রয়োজন ছিল ১ রান। তবে সেঞ্চুরির জন্য অ্যালেনের দরকার ছিল ৪ রান। এমন সময় জানসেনের বলে চার মেরে ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেন অ্যালেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এটি। ২০১৬ সালে ক্রিস গেইল করেছিলেন ৪৭ বলে। অ্যালেনের সেঞ্চুরিতেই নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি সাউথ আফ্রিকা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন কুইন্টন ডি কক। স্পিনার কোল ম্যাকনকির বলে বড় শট খেলার চেষ্টায় মিড অনে ফার্গুসনকে ক্যাচ দিয়েছেন। পরের বলেই আউট হয়েছেন রায়ান রিকেলটনও। শর্ট অ্যান্ড ওয়াইড ডেলিভারিতে কাট করতে গিয়ে শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়েছেন অ্যালেনের হাতে। এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে প্রোটিয়ারা।
ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মার্করাম ও ব্র্রেভিস। দুজনে মিলে জুটি গড়লেও তাদের কেউই দ্রুত রান তুলতে পারেননি। অষ্টম ওভারে তাদের জুটি ভাঙেন রাচিন। বাঁহাতি স্পিনারের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অনে মিচেলকে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন মার্করাম। ২০ বলে ১৮ রান করেছেন সাউথ আফ্রিকার অধিনায়ক। সুবিধা করতে পারেননি ডেভিড মিলারও। তাকেও ফেরান রাচিন। একটু পর আউট হয়েছেন ব্রেভিসও। নিশামের বলে কভারের উপর দিয়ে খেলতে গিয়ে স্যান্টনারকে ক্যাচ দিয়েছেন।
ভালো শুরু পাওয়া ব্রেভিস ২৭ বলে ৩৪ রান করেছেন। ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন স্টাবস ও জানসেন। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার সময়ে অবশ্য ফেরেন স্টাবস। ২৪ বলে ২৯ রান করে বোল্ড হয়েছেন ফার্গুসনের বলে। ভাঙে ৭৩ রানের জুটি। তবে একই ওভারে তাকে টানা দুই ছক্কা মেরে ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন জানসেন। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩০ বলে ৫৪ রান করে। সাউথ আফ্রিকার ১৬৯ রানের পুঁজির দিনে কিউইদের হয়ে দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন ফার্গুসন, হেনরি, ম্যাকনকি।