অনেকেই ৩১ বছর বয়সী স্যামসনের ওপর আস্থা হারাতে শুরু করলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন ইনিংস খেলার পর কোচ গম্ভীর জানালেন, তিনি আগেই জানতেন এমন ম্যাচের জন্যই সব জমিয়ে রেখেছিলেন স্যামসন।
কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে রূপ নেয়া ম্যাচটায় নিজেদের দর্শকের সামনে ১৯৬ রান তাড়া করাটা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু ওপেনিংয়ে নামা স্যামসন ইনিংসের শেষ বল অবদি খেলে গেলেন একেবারে নিখুঁতভাবে।
একযুগ আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হবার পর এবারই প্রথমবার বড় মঞ্চে নিজের জাত চেনাতে পারলেন এই ব্যাটার। ৫০ বলে ৯৭ রানের ইনিংসটাকে একটা নিখাদ টি-টোয়েন্টি ইনিংস বললেও ভুল কিছু বলা হবে না।
রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিদের অবসরের পর স্যামসনের মত এমন ইনিংসের অভাবই বোধ করছিলো ভারত। ইনিংসটা স্যামসনের ক্যারিয়ারের জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে একাদশেই সুযোগ পাননি স্যামসন। পরে অভিষেক শর্মার অসুস্থতায় একাদশে ফিরলেও তেমন কিছুই করতে পারেননি নামিবিয়ার বিপক্ষে। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে আবারো বাদ পড়েন একাদশ থেকে।
সেই ম্যাচ হেরে দল যখন খাদের কিনারায় তখন আবারো স্যামসনের ওপর আস্থা রাখেন গম্ভীর। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে স্যামসন আউট হয়ে যান ১৫ বলে ২৪ রান করে। আর 'কোয়ার্টার ফাইনালে' রূপ নেয়া সুপার এইটের শেষ ম্যাচে তো খেলে ফেললেন এবারের বিশ্বকাপে তো বটেই, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসেও ভারতের হয়ে অন্যতম সেরা ইনিংসটা।
গম্ভীর বলেন, 'সে বিশ্বমানের ক্রিকেটার, আমরা সবাই জানি সে কত ভালো খেলোয়াড়। তার পাশে থাকার দরকার ছিলো আমাদের। দলের যখন সবচেয়ে প্রয়োজন ছিল তাকে, অবশ্যই সেই দিনটি ছিল এদিন, সে তার সামর্থ্যের সবটুকু মেলে ধরেছে।'
বিশ্বকাপের প্রথম দুই মাচে একাদশের বাইরে থাকাটাও এমন ইনিংস খেলতে স্যামসনকে সাহায্য করেছে বলেও মনে করেন গম্ভীর, 'নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজটি কঠিন ছিল তার জন্য। কখনও কখনও কাউকে বিরতি দেয়াও ভালো, কারণ চাওয়া থাকে চাপের পরিস্থিতি থেকে সে বেরিয়ে আসুক। আমরা সবসময়ই জানতাম, বিশ্বকাপে যখনই তাকে দরকার হবে আমাদের, সে এসে আমাদের জন্য নিজেকে মেলে ধরবে।'