১৯৬ রানের বিশাল লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভালো শুরু পায়নি ভারত। তারা দলীয় ২৯ রানেই হারায় ওপেনার অভিষেক শর্মার উইকেট। ভারতীয় এই ওপেনার ১০ রান করেই আউট হয়ে ফেরেন। অভিষেক পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে শিমরন হেটমায়ারের হাতে ধরা পড়েন। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ওয়ান ডাউনে নামা ইশান কিশানও। তিনিও ১০ রান করে আউট হন। তাকে ফিরিয়েছেন জেসন হোল্ডার। তিনিও স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন হেটমায়ারের হাতে। তৃতীয় উইকেটে ভারতের বিপর্যয় সামাল দেন সাঞ্জু স্যামসন ও সূর্যকুমার যাদব। দুজনে মিলে যোগ করেন ৫৮ রান।
আর তাতেই শুরুর ধাক্কা সামাল দেয় ভারত। সূর্যকুমার শামার জোসেফের শিকার হলে এই জুটি ভাঙে। ভারতীয় অধিনায়ক ফিরেছেন ১৬ বলে ১৬ রান করে। এরপর তিলক ভার্মাকে নিয়ে ভারতের ইনিংস এগিয়ে নেন স্যামসন। এই জুটিতে আসে আরও ৪২ রান। তিলকও বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। ১৫ বলে ২৭ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এরপর হার্দিক পান্ডিয়া এসে যোগ দেন স্যামসনের সঙ্গে। ততক্ষণে উইকেটে থিতু হয়ে বসেছেন স্যামসন।
২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেয়া স্যামসন এদিন শুরু থেকেই ছিলেন ছন্দে। এর প্রমাণ দিয়েছেন তিনি ৫০ বলে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে। হার্দিক শেষদিকে ১৪ বলে ১৭ রান করে ফিরেছেন সাজঘরে। ফলে স্যামসন পড়ে গিয়েছিলেন চাপে। তখনও ১০ বলে ভারতের প্রয়োজন ১৭ রান। হার্দিক জোসেফের বলে ক্যাচ তুলে দেন হোল্ডারের হাতে। তবে পরের বলে এসেই চার মেরে ভারতকে কিছুটা চাপ মুক্ত করেন শিভম দুবে। এক বল পর আরেকটি চার হাঁকান তিনি। ততক্ষণে ভারতের সেমি ফাইনালের পথ অনেকটাই সুগম হয়ে যায়। শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৭ রান। তা ২ বলে তুলে নিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দেখেশুনে খেলতে থাকেন চেইজ ও হোপ। দ্রুত গতিতে রান তুলতে না পারলেও পাওয়ার প্লেতে উইকেট হারাতে দেননি তারা। যদিও ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই ভাঙতে পারতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটি। জসপ্রিত বুমরাহর স্লোয়ার ডেলিভারিতে চেইজ ক্যাচ দিলেও সেটা লুফে নিতে পারেননি অভিষেক। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইনিংসের নবম ওভারে প্রথম উইকেট হারায় তারা। বরুণ চক্রবর্তীর দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন হোপ।
ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ৩৩ বলে ৩২ রানের বেশি করতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক। তিনে নেমে ঝড়ো ব্যাটিং করতে থাকেন শিমরন হেটমায়ার। তবে বুমরাহকে ফিরিয়ে ‘পথের কাঁটা’ সাফ করে ভারত। ডানহাতি পেসারের বলে এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন ১২ বলে ২৭ রান করে। টি-টোয়েন্টিতে ১০ ম্যাচে ছয়বারই কোহলির বলে আউট হয়েছেন হেটমায়ার। একই ওভারে আউট হয়েছেন চেইজও। বুমরাহর স্লোয়ার ডেলিভারিতে মিড অফে ক্যাচ দিয়েছেন সূর্যকুমারের হাতে।
ব্রেন্ডন পরিবর্তে ওপেনিংয়ে নেমে ২৫ বলে ৪০ রান করেছেন চেইজ। ভালো শুরুর আভাস দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি শেরফান রাদারফোর্ড। হার্দিকের অফ কাটারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ক্যারিবীয়রা। সেখান থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন হোল্ডার ও পাওয়েল। তাদের দুজনের ব্যাটেই শেষ পর্যন্ত ১৯৫ রানের পুঁজি পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাওয়েল ১৯ বলে ৩৪ ও হোল্ডার ২২ বলে ৩৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন। ভারতের হয়ে বুমরাহ দুইটি উইকেট নিয়েছেন।