শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতেও ‘হেরে গেল’ পাকিস্তান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
সেমিফাইনালে যেতে হলে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ বা এর কম রানে আটকে রাখতে হত পাকিস্তানকে। সাহিবজাদা ফারহান এবং ফখর জামানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে দুই শতাধিক রান করলেও শ্রীলঙ্কাকে পাকিস্তান আটকে রাখে ২০৭ রানে। ম্যাচটি পাঁচ রানে জিতে সালমান আঘার দল। যদিও ম্যাচ জিতে স্বস্তি নেই পাকিস্তান শিবিরে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা হচ্ছে না দলটির। এই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ড। ইংল্যান্ড তিনটি ম্যাচেই জিতেছে। কিউইরা পাকিস্তানের মত একটি ম্যাচ জিতলেও রান রেটে এগিয়ে আছে।

নিউজিল্যান্ডের নেট রান রেট +১.৩৯০। এদিকে পাকিস্তানের নেট রান রেট -০.১২৩। পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠলে প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচটি শ্রীলঙ্কার মাটিতে হতো। যদিও পাকিস্তান বিদায় নেয়ায় আসরের দুটি সেমিফাইনালই এখন ভারতে হবে। ক্যান্ডিতে ২১৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। সাত বলে তিন রান করে ফিরে যান পাথুম নিশাঙ্কা।

নাসিম শাহর পঞ্চম স্টাম্প তাক করা বলে এক্সট্রা কাভারে ক্যাচ দেন নিশাঙ্কা। ১৫ বলে ২৬ রান করা কামিল মিশারাকে বোল্ড করে ফেরান আবরার আহমেদ। তারপর চারিথ আসালঙ্কার সঙ্গে ৪২ রানের জুটি গড়েন পাভান রতনায়েকে। এই জুটিও ভাঙেন আবরার। ১৮ বলে ২৫ রান কড়া আসালঙ্কাকে বোল্ড করেন তিনি। ৮৪ রানের মধ্যে কামিন্দু মেন্ডিসের উইকেটও হারায় শ্রীলঙ্কা। ছয় বলে তিন রান করা কামিন্দুও আবরারের বলে বোল্ড হন। এরপরের ওভারে তিন বলে পাঁচ রান করা জানিথ লিয়ানাগেকে বোল্ড করেন মোহাম্মদ নাওয়াজ।

লঙ্কানদের ইনিংসে আবারো গতি আনেন দাসুন শানাকা। পাভানকে সঙ্গে নিয়ে দলের রান বাড়াতে থাকেন তিনি। ৩৭ বলে ৫৮ রান করে পাভান ফিরে গেলে লঙ্কানরা আবারো চাপে পড়ে। যদিও একপাশ দিয়ে লড়াই চালাতে চালাতে সেই লক্ষ্য অনেকটাই কমিয়ে আনেন শানাকা। শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার লাগত ২৮ রান। শাহীন শাহ আফ্রিদির সেই ওভারেও তিনটি ছক্কা এবং একটি চার মারেন শানাকা। যদিও শেষ দুই বলে ছয় রান লাগলেও আর ছক্কা মারতে পারেননি তিনি। ৩১ বলে দুটি চার ও আটটি ছক্কায় ৭৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

এর আগে ফারহান ও ফখরের ব্যাটেই শেষ পর্যন্ত রানের পুঁজি পেয়েছে পাকিস্তান। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দেখেশুনে ব্যাটিং করছিলেন ফারহান ও ফখর। যদিও কয়েক ওভার পেরিয়ে যাওয়ার পরই আক্রমণাত্বক হয়ে ওঠেন তারা দুজন। সাইম আইয়ুবের জায়গায় ওপেনিংয়ে এসেই বাজিমাত করেছেন ফখর। তবে পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিংয়ে ঝড়টা তোলেন ফারহান। তাদের দুজনের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে ৬৪ রান তোলে পাকিস্তান। চলতি বিশ্বকাপে এবারই প্রথম পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট হারায়নি তারা।

ইনিংসের নবম ওভারে ডাবলস নিয়ে ৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন ফারহান। এবারের বিশ্বকাপে এটি তার চতুর্থ পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস। একটু পর ওয়েলালাগেকে চার মেরে ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন ফখর। তাদের দুজনের ব্যাটে একশর পর দেড়শও ছাড়িয়ে যান। ইনিংসের ১৬তম ওভারে ফারহান ও ফখরের জুটি ভাঙেন দুশমন্থ চামিরা। ডানহাতি পেসারের বলে ফাইন লেগ দিয়ে খেলার চেষ্টায় বোল্ড হয়েছেন ফখর। ৪২ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ফখরের বিদায় ভাঙে ফারহানের সঙ্গে ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে কোনো উইকেটে এটাই সর্বোচ্চ রানের জুটি। তিনে নেমে ২ রান করে আউট হয়েছেন খাওয়াজা নাফে। শানাকার বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৫৯ বলে সেঞ্চুরি করেন ফারহান। চলতি বিশ্বকাপে এটা তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপে দুইটি সেঞ্চুরি আছে ক্রিস গেইলেরও। তবে সেটা ভিন্ন দুই আসরে। পরবর্তীতে ৬০ বলে ১০০ রান করে আউট হয়েছেন তিনি। পাকিস্তান ২১২ রানের পুঁজি পায়।

আরো পড়ুন: