শেষ জুটিতে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইস্ট জোনকে জেতালেন হাসান

বিসিএল
হাসান মাহমুদ ও মুশফিক হাসানের উচ্ছ্বাস, বিসিবি
হাসান মাহমুদ ও মুশফিক হাসানের উচ্ছ্বাস, বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বল হাতে ৩ উইকেট নিয়ে সাউথ জোনকে ১৮০ রানে ধসিয়ে দিতে বড় অবদান রেখেছিলেন হাসান মাহমুদ। এরপর ব্যাট হাতে লড়াকু এক ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে ম্যাচের নায়ক হয়েছেন তিনি। শেষ উইকেটে মুশফিক হাসানকে নিয়ে ইস্ট জোনকে ১ উইকেটের নাটকীয় জয় এনে দিয়েছেন হাসান।

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) গ্রুপ পর্বের খেলার শেষ দিনে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর সমাপ্তি দেখা গেল। জয়ের স্বপ্ন দেখলেও দশম উইকেট জুটির দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয় সাউথ জোনকে। ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৪১ রানে নবম উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইস্ট জোন।

সেখান থেকে শেষ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৪১ রানের জুটিতে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন হাসান ও মুশফিক। রবিউল হকের বলে টানা একটি স্ট্রেট ড্রাইভ ও একটি স্কয়ার ড্রাইভে চার মেরে দুই দলের স্কোর সমান করেন হাসান। পরের বলটি ওয়াইড হলে নিশ্চিত হয়ে যায় জয়। এরপর দুই টেলএন্ডার উদযাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

পেস বোলার হিসেবেই ক্রিকেট আঙিনায় পরিচিত হাসান। ব্যাট হাতে যে তিনি বড় শট খেলতে পারেন তিনি সেটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও দেখিয়েছেন হাসান। তবে ব্যাট হাতে একা ম্যাচ জেতাতে পারেন সেটা হয়তো হাসান এই ম্যাচের পর নিজেও বিশ্বাস করতে শুরু করবেন। এদিন পাঁচটি চারে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন হাসান। যা তার লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারে ৮১ ম্যাচের মধ্যে সেরা ইনিংস। আর তাতেই ম্যাচ সেরাও হয়েছেন তিনি।

শেষ উইকেটে মুশফিকের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৪ রান। তবে তার খেলা ৩৫ বলই মূলত ইস্ট জোনকে ম্যাচ জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এর আগে সাউথ জোনের দেয়া ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ইস্ট জোন। পারভেজ হোসেন ইমন ৪ রান করে আউট হন। জাকির হাসান করেন ১৬ রান। তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও শাহাদাত হোসেন ৫২ রানের জুটি গড়লেও এরপর দ্রুত ভেঙে যায় দলটির ব্যাটিং অর্ডার।

সৌম্য সরকারের দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরে সাউথ জোন। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও বল হাতে ক্যারিয়ারসেরা পারফরম্যান্সে ৩২ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। এক পর্যায়ে ২২ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে ইস্ট জোন। তখন ম্যাচ প্রায় সাউথ জোনের হাতেই চলে গিয়েছিল। কিন্তু হাসান ও মুশফিকের অবিশ্বাস্য লড়াই বদলে দেয় ম্যাচের গল্প।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সাউথ জোন ১৮০ রানে অলআউট হয়। ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন একাই লড়াই করে ৫৩ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলেন। শেষদিকে রবিউল হক ৩১ ও শহিদুল ইসলাম ২৮ রান করে দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন। শেষ উইকেটে তাদের দলের রান বাড়ে আরও ৩০।

এই রান নিয়ে জিততে হলে বোলারদের দারুণ কিছু করতে হতো। তবে তাদের হাত থেকে ম্যাচ বের করে নিয়েছেন হাসান একাই। সাউথ জোনকে হারিয়েও অবশ্য কোনো লাভ হয়নি ইস্ট জোনের। তাদের বিদায় আগেই নিশ্চিত ছিল। তবে ইস্ট জোনকে হারাতে পারলে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ ছিল সাউথ জোনের। তবে তারা হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।

আরো পড়ুন: