জিসানের সেঞ্চুরি ও মোসাদ্দেকের শেষের ঝড়ে ফাইনালে সেন্ট্রাল

বিসিএল
জিসান আলম (বামে) ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (ডানে), বিসিবি
জিসান আলম (বামে) ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (ডানে), বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ম্যাচ জিততে সেন্ট্রাল জোনের প্রয়োজন ছিল ২৪ বলে ৪৫ রান। ব্যাটিংয়ে তখন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সঙ্গী রিপন মণ্ডল। এমন সমীকরণে নিজেকে প্রমাণের সুযোগটা আবারও নিলেন মোসাদ্দেক। লেগ স্পিনার রিশাদকে দুইটি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মেরে সেই ওভার থেকে নিয়ে আসেন ১৭ রান। পরের ওভারে অবশ্য মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধকে মেরেছেন একটি করে ছক্কা ও চার। পেসার শরিফুল ইসলামের করা ইনিংসের ৪৯তম ওভারে অবশ্য কোনো বাউন্ডারি বের করতে পারেননি মোসাদ্দেক ও রিপন।

৬ বলে যখন ৮ রান প্রয়োজন তখন মুগ্ধর প্রথম বলেই ডিপ এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে চার মারেন মোসাদ্দেক। পরের বলে ছক্কা মেরেছেন লং অফের উপর দিয়ে। ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি সেন্ট্রাল জোনের জয় নিশ্চিত করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ৩২৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় করতে নেমে নর্থকে ২ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে সেন্ট্রাল। ৩ মার্চ মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনদের প্রতিপক্ষ নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাসদের নর্থ জোন।

রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে রানতাড়ায় ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই দ্রুত রান তুলতে থাকেন জিসান ও নাইম শেখ। বাঁহাতি ওপেনার একটু রয়েসয়ে খেললেও জিসান ছিলেন আক্রমণাত্বক। তবে ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে ভাঙে তাদের দুজনের ৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটি। ১৩ বলে ১০ রান করা নাইম আউট হয়েছেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর বলে। তিনে নেমে দেখেশুনে খেলতে থাকেন সাইফ হাসানও। পাওয়ার প্লেতে এক উইকেট হারানো সেন্ট্রাল ৭৩ রান তোলে।

ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন জিসান। দলের রান একশ হওয়ার আগে ফেরেন সাইফ। ২৮ বলে ১৪ রান করে আউট হয়েছেন রিশাদ হোসেনের বলে। তৃতীয় উইকেটে মাহফিজুল ইসলাম রবিনের সঙ্গে ৯৪ রানের জুটি গড়েন জিসান। সেঞ্চুরির পর ব্যাটিংয়ের ধার আরও যেন বাড়ে তাঁর। মাত্র ৭৪ বলেই করেন সেঞ্চুরি। একশ হওয়ার পর তরুণ ওপেনারকে থামান রিশাদ। ডানহাতি লেগ স্পিনারের বলে মেহেরবের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ১৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৯৩ বলে ১২৭ রানের ইনিংস খেলে।

গোল্ডেন ডাক মেরে পরের বলেই আউট হয়েছেন ইরফান শুক্কুর। সেন্ট্রালের অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৯ বলে ৩৯ রান। ৭৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করা মাহফিজুলকে ফেরান মেহেরব। শেষের দিকে সমীকরণ কঠিন হয়ে উঠলে ব্যাটিংয়ে তাণ্ডব চালান মোসাদ্দেক। সমান চারটি করে ছক্কা ও চারে মাত্র ২৬ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে সেন্ট্রালের ২ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন। নর্থের হয়ে রিশাদ তিনটি, মেহেরব ও শরিফুল ইসলাম নিয়েছেন দুইটি করে উইকেট।

এর টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি নর্থ জোন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। একই ওভারের পঞ্চম বলে আউট হয়েছেন লিটন দাসও। এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে নর্থ জোন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে অবশ্য দলকে টেনে নিয়ে গেছেন তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহীদ হৃদয়।

৫১ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে সেঞ্চুরির পথেই ছুটছিলেন তানজিদ। তবে বাঁহাতি ওপেনারকে সেঞ্চুরি করতে দেননি রিপন মণ্ডল। ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৯২ বলে ৯২ রান করে আউট হয়েছেন মাহফিজুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি আকবর আলী। ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ৬৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে নর্থ জোনের ভরসা হয়ে থাকেন হৃদয়। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর দ্রুত রান তুলতে থাকেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ১১০ বলে পেয়েছেন বিসিএলের চলতি আসরে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি।

একশ ছোঁয়ার পরই ফিরতে হয় তাকে। ৮ চারে ১১৩ বলে ১০২ রান করা হৃদয়কে আউট করে আবু হায়দার। শেষের বেলায় ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন সাব্বির রহমান। ৪২ বলে পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। রিপনের বলে আউট হওয়ার আগে ৫ ছক্কা ও ৩ চারে ১৪৩.১৪ স্ট্রাইক রেটে ৫১ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেছেন। তানজিদ, হৃদয় ও সাব্বিরের ব্যাটে ৭ উইকেটে ৩২২ রানের পুঁজি পায় নর্থ। সেন্ট্রাল জোনের হয়ে আবু হায়দার চারটি ও রিপন দুইটি উইকেট নিয়েছেন।

আরো পড়ুন: