১১৪ রানে অল আউট পাকিস্তান, সুপার এইটে ভারত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
এএফপি
এএফপি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে ছিল শঙ্কা। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। তবে শেষ পর্যন্ত তাদেরকে খেলতে রাজি করায় আইসিসি। খেলার আগে পাকিস্তানের হম্বিতম্বি মাঠের ক্রিকেটে একদমই টেকেনি। এই ম্যাচে আগে ব্যাট করে ভারত সংগ্রহ করে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান। জবাবে পাকিস্তান অল আউট হয় মাত্র ১১৪ রানে। ৬১ রানের জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক ভারত।

রান তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো । ইনিংসের তৃতীয় বলেই ফেরেন সাহিবজাদা ফারহান। হার্দিক পান্ডিয়ার শর্ট ডেলিভারিতে পুল করার চেষ্টায় মিড অনে রিংকু সিংকে ক্যাচ দিয়েছেন রানের খাতা খোলার আগেই। দ্বিতীয় ওভারে টপ এজে জসপ্রিত বুমরাহকে ছক্কা মারেন সাইম আইয়ুব। তবে পরের বলেই ফিরতে হয়েছে বাঁহাতি ওপেনারকে। ডানহাতি পেসারের দুর্দান্ত ইয়র্কারে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন সাইম। একই ওভারে আউট হয়েছেন সালমানও।

বুমরাহর শর্ট ডেলিভারিতে ছক্কা মারতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দিয়েছেন। ২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পাকিস্তান। পঞ্চম ওভারে আউট হয়েছেন বাবর আজমও। অক্ষর প্যাটেলের গুড লেংথ ডেলিভারিতে স্লগ সুইপ করার চেষ্টায় বোল্ড হয়েছেন তিনি। ৭ বলে ৫ রান করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার।

পাকিস্তানি ব্যাটারদের মধ্যে এরপর লড়াই করতে পেরেছেন কেবল উসমান খান। তিনি একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলেন ৩৪ বলে ৪৪ রানের কার্যকরী ইনিংস। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ফিরে যাওয়ার পর আবারও শুরু হয় পাকিস্তানি ব্যাটারদের আসা যাওয়া। নিচের দিকের ব্যাটারদের মধ্যে দুই অঙ্কে যেতে পেরেছেন কেবল ফাহিম আশরাফ ও শাহীন আফ্রিদি।

ফাহিম আউট হন ১৪ রান করে। আর শেষদিকে শুধু হারের ব্যবধান কমিয়েছেন আফ্রিদি। তিনি খেলেন ১৮ বলে ২২ রানের ইনিংস। ভারতের বোলারদের মধ্যে জসপ্রিত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তী ও অক্ষর প্যাটেল নেন দুটি করে উইকেট। আর একটি করে উইকেট নেন কুলদীপ যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। ইনিংসের প্রথম ওভারেই অভিষেক শর্মাকে ফেরান সালমান। ডানহাতি অফ স্পিনারের বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় মিড অনে শাহীন আফ্রিদির হাতে ক্যাচ দিয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার। ৪ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। অভিষেক ফিরলেও আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে রান তোলায় ব্যস্ত ছিলেন ইশান কিশান। দ্বিতীয় ওভারে শাহীন আফ্রিদি বোলিংয়ে এসে দিয়েছেন ১৫ রান। এরপর টানা সাইম, আবরার আহমেদকে বোলিং করিয়েছেন সালমান।

যদিও ভারতের রান পুরোপুরি আটকাতে পারেননি। একপ্রান্তে ঝড় তোলেন ইশান। বাঁহাতি ওপেনারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে এক উইকেট হারিয়ে ৫২ রান তোলে ভারত। পাওয়ার প্লে শেষে আবরারকে টানা দুই চার মেরে ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন ইশান। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর আরও দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। যদিও তাকে সেঞ্চুরি করতে পারেননি ইশান। ইনিংসের নবম ওভারে বাঁহাতি ওপেনারকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন সাইম। ডানহাতি অফ স্পিনারের বলে বোল্ড হয়েছেন ৪০ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে।

ইশান ফেরার পর দ্রুত রান তুলতে পারেননি সূর্যকুমার ও তিলক। তারা দুজনে মিলে জুটি গড়লেও সেভাবে বাউন্ডারি বের করতে পারছিলেন না। লম্বা সময় ব্যাটিং করলেও দ্রুত রান করতে পারছিলেন না তিলক। চাপে পড়ে সাইমের বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়ে ফেরেন তিনি। ২৪ বলে ২৫ রান করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। পরের বলে হার্দিককেও ফেরান সাইম। ছক্কা মারার চেষ্টায় লং অফে বাবরের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।

উইকেটে লম্বা সময় টিকে থাকলেও প্রত্যাশিতভাবে রান তুলতে পারেননি সূর্যকুমার। উসমান তারিকের বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় ডিপ মিড উইকেটে সাইমের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ২৯ বলে ৩২ রান করে। শেষ ওভারে ‍দুই চার ও এক ছক্কায় ১৬ রান দিয়েছেন শাহীন আফ্রিদি। যদিও শিভাম দুবে ও অক্ষর প্যাটেলের উইকেট নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ১৭৫ রানের পুঁজি পেয়েছে ভারত। পাকিস্তানের হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন সাইম।

আরো পড়ুন: