বিপিএলে ভুল শুধরাতে শরিফুলের ‘ব্যক্তিগত ডাটা অ্যানালিষ্ট’

বিপিএল
বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের দূর্বলতা কোথায়, কোন ধরনের ডেলিভারিতে অস্বস্তিবোধ করতে পারেন, কোন উইকেটে কোন লেংথে বোলিং করলে প্রতিপক্ষ আটকে দেয়া সম্ভব— ক্রিকেটে সাধারণত এমন তথ্য দিয়ে পেসারদের পরিকল্পনা সাজাতে সাহায্য করেন ডাটা অ্যানালিষ্টরা। বিপিএলে চট্টগ্রাম রয়্যালসেও একজন ডাটা অ্যানালিষ্ট আছেন। তাঁর সঙ্গে নিয়মিতই কাজ করছেন শরিফুল ইসলাম। ফ্র্যাঞ্চাইজির বাইরে গিয়েও নিজ উদ্যোগে কাজ করার চেষ্টা করছেন বাঁহাতি পেসার।

বিপিএলের চলতি আসরে প্রতিটা ম্যাচে কোথায়, কী ধরনের ভুল করছেন সেটা ধরার জন্য রাহুল নামের একজন ‘ব্যক্তিগত ডাটা অ্যানালিষ্ট’ রেখেছেন শরিফুল। যদিও বাইরে থেকে শরিফুলের বোলিংয়ের ভিডিও যাচাই-বাছাই করে ভুলগুলো বাঁহাতি পেসারকে জানান তিনি। পরবর্তী ম্যাচে যাতে ওই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয় সেটার চেষ্টা করেন শরিফুল। সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই।

এ প্রসঙ্গে শরিফুল বলেন, ‘হ্যাঁ, প্রতি ম্যাচের পর উনাকে (ব্যক্তিগত অ্যানালিষ্ট রাহুল) আমাকে সবকিছু পাঠায়। যেখানে ভুল করি সেগুলো আমি পরের ম্যাচে যাতে না করি। ম্যাচের আগে সেগুলো দেখে আসি।’

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বল হাতে ছন্দে আছেন শরিফুল। একমাত্র রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে একটি ম্যাচ বাদ দিলে বাকি সাত ম্যাচের সবকটিতে পেয়েছেন উইকেট। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে বাঁহাতি পেসার ছিলেন দুর্দান্ত। মাত্র ৯ রান খরচায় নিয়েছেন ৫ উইকেট। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবার পাঁচ উইকেট পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি শরিফুল। তবে বাঁহাতি পেসার আরও বেশি অন্য আরেকটি কারণে।

সেই প্রসঙ্গ তুলে শরিফুল বলেন, ‘অনেক উপভোগ করেছি। বিশেষ করে আমার ভালো লাগতেছে আমরা ম্যাচ জিততে পেরেছি। আরেকটা বিষয় আমি বলেছিলাম যতদিন ক্রিকেট খেলব আমি ম্যান অব দ্য ম্যাচ হলে সেই টাকাটা আমার এলাকার যারা একটু অভাব-অনটনে আছে তাদেরকে দিয়ে দিব। সেক্ষেত্রে আমার খুবই ভালো লাগছে যে টাকাটা তাদের কাছে যাবে, ইনশাআল্লাহ।’

নোয়াখালীর বিপক্ষে পাঁচ উইকেট পাবেন সেটা নিজেও ভাবেননি শরিফুল। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই বাঁহাতি পেসারকে বলেছিলেন গ্রাউন্ডম্যান হিসেবে কাজ করা একজন। ম্যাচ শুরুর আগের নিয়মিতই পেসাররা তাদের বোলিং রান আপ মেপে নেন। ওই সময় শরিফুলের সঙ্গে আলোচনায় গ্রাউন্ডম্যান বলেন, ‘ভাইয়া, কেন জানি মনে হচ্ছে আপনি পাঁচটা উইকেট পাবেন।’ যদিও তাঁর কথা বেশি গুরুত্ব দেননি আগে কখনো টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট না পাওয়া শরিফুল।

সেই গল্প শুনিয়ে বাঁহাতি পেসার বলেন, ‘আমি যখন রান আপ মাপতেছিলাম তখন একজন গ্রাউন্ডসম্যান ভাইয়া আমাকে বলতেছিল, ‘ভাইয়া, কেন জানি মনে হচ্ছে আপনি পাঁচটা উইকেট পাবেন।’ আমি বলতেছিলাম, ‘ভাই, এটা তো এত সহজ না।’ কিন্তু আল্লাহ চাইলে দিতে পারে। যখন খেলছিলাম, ভালো বল করছিলাম, শেষ উইকেট পর্যন্ত আমি কখনো চিন্তা করিনি ৫ উইকেট পাব। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ হয়ত কপালে লিখে রেখেছিল এজন্য হয়ে গেছে।’

এখনো পর্যন্ত ৮ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়ে সবার উপরে আছেন শরিফুল। লিগ পর্বে এখনো দুইটি ম্যাচ বাকি আছে চট্টগ্রামের। ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সেরা চার নিশ্চিত করায় আরও অন্তত একটি কিংবা দুইটা বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে তাঁর। যার ফলে টুর্নামেন্ট শেষে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির ক্যাপটাও নিজের করে রাখার সুযোগ থাকছে শরিফুলের সামনে। বাঁহাতি পেসার অবশ্য সেটা নিয়ে এখনই খুব বেশি চিন্তা করছেন না।

বরং মাটিতে পা রেখে জানিয়েছেন, এমনও হতে পারে পরের ম্যাচগুলোতে উইকেটই পাচ্ছেন না। শরিফুল বলেন, ‘দেখুন, এখনো পর্যন্ত ১৮ উইকেট পেয়েছি। পরের ম্যাচগুলোতে নাও পেতে পারি। আমার মনে হয় খেলতে থাকি। যদি আসে তো আল্লাহামদুলিল্লাহ, না আসলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’

আরো পড়ুন: