ডারউইন টেস্টে খেলা হয়েছে মোট ১১ সেশন। যার মধ্যে ৯ টি সেশন নিরঙ্কুশভাবে জিতেছে বাংলাদেশ। বাকি দুইটি সেশনে দুই দল ছিল অনেকটা সমানে সমান। টেস্ট ম্যাচ জেতার জন্য যদি কোনো আদর্শ ছাঁচ বা কাঠামো কল্পনা করা হয়, ঠিক সেই ছাঁচেই যেন সেশন ধরে ধরে পারফর্ম করে গেছে বাংলাদেশ। আর তাতেই বিশ্বের এই মুহূর্তের সেরা টেস্ট দল অস্ট্রেলিয়াকেও কুপোকাত করেছে টাইগাররা। এমন 'আদর্শ' পারফরম্যান্স অনেকটা দেখা যেত কামিন্সের ক্যারিয়ারের শুরুর সেই অস্ট্রেলিয়া দলের মাঝে।
সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে কামিন্সের সেই অভিষেক টেস্টের দলে পন্টিং-ক্লার্ক ছাড়াও ছিলেন শেন ওয়াটসন, মাইকেল হাসি, ব্রাড হাডিন, মিচেল জনসনের মতো কিংবদন্তিরা। সেই দলের খেলার ধরনের সাথে বাংলাদেশের খেলার ধরনের মিল দেখেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক।
দ্বিতীয় টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে কামিন্স বলেন, 'প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ডিসিপ্লিনড ক্রিকেট খেলেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে খেলার মানসিকতা দেখিয়েছে। আমার মনে হয়েছে, আমার টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ায় খেলা ম্যাচগুলোর মতো খেলেছে বাংলাদেশ।'
বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স অনেকটা অবাক করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়াকেও। তবে, বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দলের বিপক্ষে জয় পাবার হিসেবে এটিকে অঘটন বললেও বাংলাদেশের কৃতিত্ব একটুও খাটো করতে চাননা কামিন্স।
বাংলাদেশের জয় অঘটন নাকি নাকি বাংলাদেশ অনেক ভালো খেলেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে কামিন্স বলেন, 'আমি মনে করি দুটোই। তারা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত চমৎকার ক্রিকেট খেলেছে। তবে স্বাগতিক দেশ এবং বিশ্বের এক নম্বর দল হিসেবে আমরা নিজেদের মাঠে বেশিরভাগ ম্যাচ জেতার আশা করি। তাই এই সপ্তাহে আমাদের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে।'
সবশেষ অ্যাশেজেও ইংল্যান্ডকে গুড়িয়ে দিয়েছে কামিন্সের অস্ট্রেলিয়া। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকাতেও তারা আছে শীর্ষে। কামিন্সের অধীনে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সেই পুরোনো দাপট ফিরিয়ে আনার পথে থাকা অজিরা বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছে নিঃসন্দেহে। তাই, এটাই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হার কিনা সেই আলোচনাও চলছে।
নিজের অধিনায়কত্বের সময়কালে ডারউইন টেস্টই সবচেয়ে বড় হার কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর কামিন্স বলেন, আমি ঠিক নিশ্চিত নই। তারা যথেষ্ট ভালো দল। ভারত বা ইংল্যান্ডের বাইরে কোনো দলের বিপক্ষে হারলে অনেকেই নানা কথা বলে যে আমাদের সব ম্যাচ জেতা উচিত। অবশ্যই আমরাও জেতার আশা করি, বিশেষ করে ঘরের মাঠের টেস্টে আমরা যতটা সম্ভব জিততে চাই। তাই আমরা আমাদের সেরাটা দিতে পারিনি। কিন্তু বাংলাদেশ সত্যি দারুণ খেলেছে, তারা অনেক ভালো ক্রিকেট দল। ফলে এটি আদর্শ ছিল না, তবে আশা করি সামনে আমরা বেশিরভাগ ম্যাচই জিতব।'