ডারউইন টেস্ট জয় শান্তর কাছে এখন অতীত

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজ
নাজমুল হোসেন শান্ত
নাজমুল হোসেন শান্ত
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা, পরিসংখ্যান অন্তত তাই বলে। টেস্ট ইতিহাসে এর আগে কোনো দলই ৩০০ বা তার বেশি টেস্ট উইকেটের মালিক এমন ৪ জন বোলার নিয়ে দল সাজাতে পারেনি। শুধু পরিসংখ্যান নয়, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড ও নাথান লায়নরা নামে-ভারে কিংবা যেকোনো বিচারেই বিশ্বসেরা বোলিং লাইনআপ। ডারউইন টেস্ট শুরুর আগে তাই এমন দোর্দণ্ড প্রতাপশালী বোলিং আক্রমণ বাংলাদেশকে কিভাবে গুড়িয়ে দেয় সেটিই ছিল দেখার অপেক্ষা।

কিন্তু পাশার দান অনেকটা উল্টে দিয়ে সমষ্টিগতভাবে ১৬০০-এর অধিক টেস্ট উইকেটের মালিক এই বোলিং লাইনআপের ওপর রীতিমতো দাপট দেখিয়েছেন তানজিদ তামিম-নাজমুল হোসেন শান্তরা। বিশ্বের সেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে তাদেরই ঘরের মাটিতে ভালো করার আত্মবিশ্বাস ভবিষ্যতের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা হবে বলে মনে করে শান্ত। নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য এমন বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হতে মুখিয়ে ছিলেন বলে জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

দ্বিতীয় টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, 'আমি এখানে আসার আগে থেকেই এই ধরনের বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হতে চেয়েছিলাম। কারণ আমি সবসময় বিশ্বাস করি, আমি যদি অস্ট্রেলিয়ার এই ধরনের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রান করতে পারি, তাহলে যেকোনো বোলিং আক্রমণের বিপক্ষেই রান করতে পারব।'

এ প্রসঙ্গে শান্ত যোগ করেন, 'আপনি যখন এই ধরনের দলের বিপক্ষে রান করবেন, তখন সামনে যখন এই ধরনের কন্ডিশন ও এই ধরনের বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হবেন, তখন এটা আপনাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে।'

ডারউইনে অজিদের ওপর দাপট দেখানোর আত্মবিশ্বাস এবার নিকট ভবিষ্যত অর্থাৎ দ্বিতীয় টেস্টেই কাজে লাগানোর পালা শান্তর দলের। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক জয় আত্মবিশ্বাস দিলেও নিজেদের কাজটা আরো একবার শুরু থেকে করতে হবে, তা জানেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

দ্বিতীয় টেস্ট প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, আমার মনে হয়, এটা হয়ে গেছে। ডারউইনের জয় এখন অতীত। এখন আমাদের আবার পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। এই টেস্ট ম্যাচে ভালো করা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবারও এই বোলিং ও ব্যাটিং আক্রমণের বিপক্ষে ভালো করতে হবে। আমাদের এই টেস্ট ম্যাচে মনোযোগ দিতে হবে এবং গত কয়েক দিন ধরে আমরা নিজেদের খুব ভালোভাবে প্রস্তুত করেছি।'

১৮৮৭ সালে ইংল্যান্ডের পর আর কোনো দেশ অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হোয়াইটওয়াশের স্বাদ দিতে পারেনি। এমন একটি অর্জনের সামনে যখন দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ তখন সেসব নিয়ে খুব বেশি ভাবতে রাজি নন শান্ত। প্রথম টেস্টের মতোই ৫ দিন ভালো ক্রিকেট খেলার দিকে মনযোগ তার, খুব বেশি ভাবতে চাননা ফল নিয়ে।

শান্ত বলেন, ' আমি এত দূর চিন্তা করতে চাই না। আমি প্রথম থেকে যে কথাটা বলে আসছি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। আবার একই ইচ্ছে থাকবে যে পাঁচদিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। একেকটা দিন, একেকটা সেশন আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলছি ওইটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের লক্ষ্য ওইটাই থাকবে। যদি প্রক্রিয়টা ঠিক মতো অনুসরণ করি, প্রত্যেকটা সেশন বাই সেশন ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি রেজাল্ট আপনাআপনি চলে আসবে।'

আরো পড়ুন: