অ্যালান ডোনাল্ডের মতে, বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়া তাদের সব অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামবে। এমনটা বিশ্বাস করেন ফিল সিমন্সও। দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে অজিদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে ম্যাকাইয়ের উইকেট। ম্যাচের দুদিন আগ পর্যন্ত প্রায় সবুজে ঢাকা উইকেট। যদিও ম্যাচের আগে সেটা খানিকটা ছেঁটে ফেলা হবে। তবুও সেখান থেকে পেসাররা যে বাড়তি সুবিধা পাবেন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ম্যাকাইয়ে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। দুইদিনের অনুশীলনে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে খুশি শান্ত। তবে ডারউইনের চেয়ে ম্যাকাইয়ে তুলনামূলক ঠান্ডা বেশি। পাশপাশি বাতাসও বেশি। এমন অবস্থায় পেসাররা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সুইং পেতে পারেন। তাতে বরং বোলারদের জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক।
নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে শান্ত বলেন, ‘প্রস্তুতি খুবই ভালো হয়েছে। হ্যাঁ, আবহাওয়াটা একটু ভিন্ন, ওইখানের চেয়ে এখানে একটু ঠান্ডা আছে। বাতাসটাও একটু বেশি। আমার মনে হয় এই দুই দিনের অনুশীলনে খেলোয়াড়রা মোটামুটি একটা ভালো ধারণা পেয়েছে। সুতরাং প্রস্তুতি ভালো হয়েছে।’
ম্যাকাইয়ের বেশি বাতাস নিয়ে বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘আমার মনে হয় বাতাসের কারণে বোলাররা তো একটু সহায়তা পাবেই। সুইংটা হয়তো একটু বাড়তি পেতে পারে। বাতাসটা যদি ব্যবহার করতে পারে বোলাররা, অবশ্যই বোলারদের জন্য একটা বাড়তি সুবিধা থাকবে।’
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার অনুশীলন উইকেটে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাউন্স পেয়েছেন শান্তরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেট কেমন হবে সেটার অনুমান করা যেতে পারে অনুশীলনের উইকেট দেখে। এমন অবস্থায় একাদশে একজন বাড়তি পেসার খেলানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। যদিও তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের যেকোনো কন্ডিশনে ভালো করার সামর্থ্যকে প্রাধান্য দিচ্ছেন শান্ত। সকালে উইকেট দেখে দলের জন্য যেটা ভালো হয় সেটাই করতে চান তিনি।
বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেন, ‘উইকেট তো দেখে ভালো মনে হয়েছে। অবশ্যই, আমরা যেই প্র্যাকটিস উইকেটে অনুশীলন করেছি এখানে একটু বাউন্স বেশি ছিল। আমাদের যেই পাঁচটা পেস বোলার স্কোয়াডে আছে সবাই প্রস্তুত আছে। ইতিবাচক দিক হলো যে দুইটা স্পিনার আছে তারা যেকোনো কন্ডিশনে ভালো বল করে। আমার মনে হয় যেহেতু আরও একটু সময় আছে, সকালে এসে আরেকবার উইকেটটা দেখে দলের জন্য যেই সিদ্ধান্তটা নিলে ভালো হবে ওইটাই আমরা নিব ইনশাআল্লাহ।’
প্রথম টেস্টে পেসার হিসেবে খেলেছেন হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। একাদশের বাইরে আছেন শরিফুল ইসলাম ও খালেদ আহমেদ। চতুর্থ পেসারের প্রয়োজন হলে সুযোগটা আসতে পারে শরিফুলের। বিশেষ করে ঘাসের উইকেটে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ভয় ধরাতে বেশ পটু বাঁহাতি এই পেসার। সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ ম্যাচে তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। তবে প্রয়োজন হলে ৪ পেসার ও এক স্পিনারও দেখা যেতে পারে। শান্ত জানিয়েছেন, বাংলাদেশের চতুর্থ ও পঞ্চম পেসারও ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি অনেকবারই বলেছি, আমাদের যে স্পিন আক্রমণ আছে তারা খুবই অভিজ্ঞ এবং যেকোনো কন্ডিশনে বোলিং করতে পারে। তারা জানে, এই ধরনের কন্ডিশনে কীভাবে বোলিং করতে হয়। যে ধরনের স্পিনার দলে আছে তাতে আমাদের তিনজন পেসার ও দুইজন পেসার নিয়ে খেলার সেই সুযোগটা আছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা যে কম্বিনেশন নিয়ে খেলছি, সেটি নিয়ে আমি খুবই খুশি। আমাদের পেস বোলারর দারুণ কাজ করছে। আমরা যদি সত্যিই মনে করি যে আমাদের চতুর্থ একজন পেসার প্রয়োজন, তাহলে চতুর্থ ও পঞ্চম পেসারও তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত আছে।’