নাহিদ-তাসকিনদের নিয়ে সতর্ক অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজ
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
গতি ও বাউন্সারে প্রতিপক্ষের নাভিশ্বাস তুলছেন নাহিদ রানা। দুর্দান্ত বোলিংয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হয়ে উঠেছেন নতুন গতির তারকা। নাহিদের সঙ্গে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজটা করছেন তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদরা। বাংলাদেশের এমন পেস বোলিং লাইনআপ নিয়ে বেশ সতর্ক অস্ট্রেলিয়া। তবে প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড ও মিচেল স্টার্কদের নিয়ে গড়া অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং লাইনআপকে এগিয়ে রাখছেন অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড।

সবশেষ কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করেছেন বাংলাদেশের পেসাররা। দেশের মাটিতে স্পোর্টিং উইকেট বানিয়ে পেসারদের সেরা পারফরম্যান্সও বের করে আনছে তারা। গতিময় বোলিংয়ে তারকা হয়ে উঠছেন নাহিদ। পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগুনে বোলিংয়ে জয়ের নায়ক হয়েছেন তিনি। নাহিদের পাশাপাশি তাসকিন, শরিফুলরাও পারফরম্যান্সে আলো ছড়িয়েছেন।

বাংলাদেশের পেসাররা গত কয়েক বছরে কতটা ভালো করেছেন সেটা পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়। টেস্টে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে এখনো পর্যন্ত ১৪০ কিলোমিটারের বেশি বেশি গতিতে বোলিং করেছেন এমন পেস অ্যাটাকের তালিকায় দুইয়ে আছে বাংলাদেশ। যেখানে নাহিদ, তাসকিনরা ২১.৭৮ শতাংশ ডেলিভারিই করেছেন ১৪০ কিলোমিটারের চেয়ে বেশি গতিতে।

বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে কেবল অস্ট্রেলিয়া। কামিন্স, হ্যাজেলউড, স্টার্ক, স্কট বোল্যান্ডরা ২২.০৭ শতাংশ ডেলিভারি করেছেন ১৪০ কিলোমিটারের চেয়ে বেশি গতিতে। আগামী আগষ্টে হতে যাওয়া দুই টেস্টের সিরিজে দুই দলের পেসারদের মধ্যে যে গতির লড়াই হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশকে নিয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিজেদের ঠিকঠাক প্রস্তুতিও সারতে চায় অস্ট্রেলিয়া।

এ প্রসঙ্গে ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘এখন আপনি যদি টেস্ট ক্রিকেটের দিকে তাকান তাহলে ওদের তাসকিন, (নাহিদ) রানা এবং শরিফুল আছে। এমনকি এদের বাইরেও ওদের যথেষ্ট ব্যাকআপ আছে। যারা কিনা খুব ভালো বোলার। ওদের এমন একটা পেস বোলিং আক্রমণ আছে যারা কিনা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বেশ কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।’

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ আরও যোগ করেন, ‘আমাদের নিজেদের প্রস্তুতিটা খুব ভালোভাবে সারতে হবে। আমি জানি এটা ভিন্ন একটা ফরম্যাট। তবে ওদের বোলাররা কেমন করছে সেটা পরখ করে দেখে নেওয়ার জন্য টি-টোয়েন্টি সিরিজটা আমাদের জন্য দারুণ একটা সুযোগ ছিল।’

সবশেষ অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ভুগতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের। জ্যাক ক্রলি, বেন স্টোকস, বেন ডাকেটদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় ধরাশায়ী হয়েছে ইংলিশরা। এর আগে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, শুভমান গিলের মতো ব্যাটাররা। সফরকারী দেশে গিয়ে ব্যাটারদের জন্য রান তোলা যে চ্যালেঞ্জিং সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ড।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ মনে করেন, ব্যাটারদের পারফরম্যান্সের উপরই সিরিজের জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘যেকোনো সফরকারী দলের জন্যই রান তোলা সবসময় একটা বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা অস্ট্রেলিয়াতেও দেখেছি যে এখানকার উইকেটের কারণে আমাদের নিজেদের দলের ব্যাটসম্যানরাও রান পেতে বেশ ভুগেছে।’

‘আমাদের পেস বোলিং আক্রমণ কিন্তু বেশ কার্যকর। তাই আপনি যদি এমনটা ভাবেন যে তাদের (বাংলাদেশ) বোলিং আক্রমণ ভালো তাহলে বলব আমাদেরটা তাদের চেয়েও কিছুটা বেশিই ভালো। তবে সিরিজের জয়-পরাজয়টা শেষ পর্যন্ত ব্যাটারদের রান তোলার উপর নির্ভর করবে।’

আরো পড়ুন: