গত বছর ওয়ানডে ক্রিকেটে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না বাংলাদেশের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পরে বাংলাদেশ সিরিজ হারে শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তানের কাছে। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলাটাও তখন অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে দারুণ ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ঘরের মাঠে টানা চারটি সিরিজ জেতে টাইগার। সবশেষ 'মাইটি' অস্ট্রেলিয়াকে এক ম্যাচ হাতে রেখেই প্রথমবারের মতো সিরিজ হারিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
ওয়ানডে ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্য দুই ফরম্যাটেও নিজেদের সেরা সময় পার করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সেরা সময়ের ঝাঁজটা বেশি টের পেয়েছে অবশ্য পাকিস্তান। তিন ফরম্যাটেই সবশেষ সিরিজগুলোতে বাংলাদেশের কাছে হেরেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যার মধ্যে টানা দুই টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হবার লজ্জাও সঙ্গী কামরান আকমলের উত্তরসূরীদের। বাংলাদেশের অর্জনকে তাই সাধারণ কিছু মনে হচ্ছে না সাবেক এই উইকেটরক্ষকের।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কামরান বলেন, ' বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এটি একটি অনেক বড় অর্জন যে তারা ব্যাক-টু-ব্যাক বড় সব সাফল্য অর্জন করছে। তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জিতেছে—চারটি টেস্ট ম্যাচ, ওয়ানডে-ও জিতেছে, টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতেছে এবং এখন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমবার সিরিজ জিতল। তো এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়।'
কামরান আরও যোগ করেন, 'এখন বলতেই হবে যে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক উন্নত হচ্ছে। আমরা এখন এতটাই পিছিয়ে গেছি যে আমাদের বাংলাদেশকে অনুসরণ করতে হবে, আর এটা আমাদের স্বীকারও করতে হবে। কিন্তু এটা আমাদের নিজেদেরই দোষ যে আমরা এখন বলতে শুরু করেছি বাংলাদেশ কত সাহসী ক্রিকেট খেলছে।'
এশিয়ার বাইরের দলগুলোর বিপক্ষে ঘরের মাঠে স্পিন সহায়ক ধীর গতির উইকেট বানিয়ে জেতার প্রচলন আছে এশিয়ার দলগুলোর। সবশেষ অস্ট্রেলিয়াকে ঘরের মাঠে স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে সিরিজ হারিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু বাংলাদেশ সেই পথে হাঁটেনি। স্পোর্টিং উইকেট বানিয়েই অজিদের নাস্তানাবুদ করেছে টাইগাররা। বাংলাদেশের এমন সাহসী মানসিকতা আলাদাভাবে প্রসংশার দাবিদার বলে মনে করেন কামরান।
এ প্রসঙ্গে কামরান বলেন,'তারা এমনি এমনি জিতছে না, এর পেছনে অবশ্যই কোনো না কোনো পরিকল্পনা আছে। তারা তো মরা পিচ বানিয়ে জিতছে না, এখন তারা সেই মানসিকতা থেকে বের হয়ে এসেছে। আর সেই (নেতিবাচক) মানসিকতা এখন আমাদের ক্রিকেটে চলে এসেছে যে—মরা পিচ বানাও আর জেতো।'
কামরান আরও যোগ করেন, 'তারা অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিরুদ্ধে খেলছে এবং ফাস্ট বোলাররা উইকেট নিচ্ছে। আগে হতো যে স্পিনাররা উইকেট নিত, কিন্তু এরপর তারা যখন বাইরে যেত তখন জিততে পারত না। কিন্তু এখন তারা বাইরেও জিতছে; নিউজিল্যান্ডেও টেস্ট ম্যাচ জিতে গেছে, এখানেও জিতে গেছে, পাকিস্তান থেকেও জিতে ফিরে গেছে।'