২০২৪ সালে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশের পর এবার বাংলাদেশের মাটিতে আরো একটি হোয়াইটওয়াশের খুব কাছে পাকিস্তান। সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টে শুরুটা ভালো হলেও তা ধরে রাখতে পারেনি তারা। প্রথম ইনিংসে ১১৬ রানে বাংলাদেশের ছয় উইকেট তুলে নিলেও এরপর খেই হারায় পাকিস্তানের বোলাররা। দ্বিতীয় ইনিংসেও দেখা গেছে প্রায় একই চিত্র।
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে কামরান বলেন, 'মনে হচ্ছিল যে পাকিস্তান দলকে ২৭০, পৌনে ৩০০ রান চেজ করতে হবে। আর যেমন পিচ আছে, আমার মনে হচ্ছিল যে এই পাকিস্তান দল করতে পারে। কিন্তু আপনারা অন্তত ওই রানে আউট তো করে দেখান! কোনো প্রচেষ্টা তো নজরে আসছে না। ফিল্ডে এনার্জিই নেই। আসছে, দৌড়াচ্ছে, বল ছুড়ছে।'
এ প্রসঙ্গে কামরান যোগ করেন, 'আমরা বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেছি যে, বোলিং ধৈর্যের সাথে হয়। এটা এমন নয় যে আসলেন, ধুমধাম বল করলেন, কখনো বাউন্সার মারছেন, চারদিকে ফিল্ডারদের ঘোরাচ্ছেন। চার-পাঁচটা বল তো করো একটা লাইনে! তাকে সুযোগ তো দাও যে সে দাঁড়িয়ে থেকে পুরো একটা ওভার খেলুক। সুযোগ নিয়ে আপনারা রান দেওয়া শুরু করে দেন।'
তৃতীয় দিনের শুরুতেই মিরপুর টেস্টের ম্যাচসেরা নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে শক্ত অবস্থান নেবার পথে ছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে মুশফিকের সেঞ্চুরি পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। মুশফিকের মত এভাবে দলের বিপদের মুহুর্তে রান করা কোনো ব্যাটার পাকিস্তানে চোখে পড়েনি বলে জানান কামরান।
কামরান বলেন, 'কৃতিত্ব বাংলাদেশের দলের। কী চমৎকার ক্রিকেট খেলেছে! মজা লেগেছে যে, এটা হলো উন্নতি। এভাবে ক্রিকেট খেলা হয়। ২১ বছরের ক্যারিয়ার, ১৪তম সেঞ্চুরি মুশফিকুর রহিমের। ও যেভাবে খেলেছে দল কোথা থেকে কোথায় চলে গেছে পারফরম্যান্স দেখুন। চমৎকার সেঞ্চুরি! আমাদের ব্যাটাররা কখনো এমন মুহূর্তে এভাবে রান করে দিয়েছে?'
বাংলাদেশের মাটিতে দুটি টেস্টেই বাজে পারফরম্যান্সের পর নিজেদের জেতার দাবীদারও মনে করেন না কামরান। তার ভাষায়, 'এখন কোন দলের বিপক্ষে জিতবেন? পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের যে চেয়ারম্যান সাহেব আছেন, আমার উনার কাছে প্রশ্ন। আর উনার প্রশ্ন নিজের সিলেকশন কমিটি আর কোচের কাছে হওয়া উচিত- যে এই দুই টেস্ট ম্যাচে যে পারফরম্যান্স এসেছে, তা কি আমরা ডিজার্ভ করি? আমাকে একটা কথা বলেন, অন্য কোনো দলের সাথে খেলা বা অন্য কোনো দলের বিপক্ষে খেলার সময় আমরা কি এটা ভাবতে পারি যে আমরা জিতে যাব?'