গত বেশকিছু বছর ধরে পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিবাচক শিরোনামে খবরে আসা যেন ভুলতেই বসেছে। আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোতে একের পর এক হতাশাজনক পারফরম্যান্সের সাথে মাঠ ও মাঠের বাইরের নানান নেতিবাচক ইস্যুই যেন এখন পাকিস্তান ক্রিকেটের বাস্তবতা। সবশেষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ১৪ ম্যাচের ৯ টিতেই হেরে একেবারে সবশেষ অবস্থানে ছিল তারা।
ক্রিকেটের এমন হতশ্রী চেহারার কারণ হিসেবে ক্রিকেটের বিষয়বস্তুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেন্দ্রিক হয়ে যাওয়াকেই বেশি দায়ী মনে করেন কামরান। বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে কামরান জানান, পাকিস্তান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার অলীক স্বপ্ন দেখলেও বাংলাদেশ তাদের বাস্তবস্তা দেখিয়ে দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কামরান বলেন, 'আমরা ছোট ছোট পারফরম্যান্সকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনভাবে হাইলাইট করি যেন আমরা ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছি। এই ধরনের কাজ ভারত, অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের জন্য মানায়। বাংলাদেশের ক্রিকেট চলে মাঠে আর আমাদের ক্রিকেট চলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।'
এ প্রসঙ্গে কামরান যোগ করেন,' আমরা ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের স্বপ্ন দেখছি, অথচ বাংলাদেশ আমাদের আয়না দেখিয়ে দিল। বাংলাদেশ সত্যিই ভালো ক্রিকেট খেলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যত ইচ্ছা ট্রেন্ড চালান না কেন, উত্তরটা মাঠেই দিতে হবে। আমাদের ক্রিকেটের মান অনেক নিচে নেমে গেছে। আমরা এটাকে গুরুত্ব দিচ্ছি না। প্রতিটা পরাজয় আমরা অবহেলা করছি।'
প্রথম ইনিংসে দারুণ এক সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৮৭ রানের ইনিংস খেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। টেস্টের দুই ইনিংসেই তিনবার সেঞ্চুরি করার অনন্য রেকর্ড হাতছানি দিলেও দলের প্রয়োজন মেটানো ব্যাটিং করতে গিয়ে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়কের এমন ব্যাটিং মুগ্ধ করেছে পাকিস্তানের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে। পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে কিছুটা খরুচে বোলিং করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অসাধারণ স্পেল করায় নাহিদ রানাকেও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন কামরান।
সশান্ত ও নাহিদের পারফরম্যান্স নিয়ে কামরান বলেন, 'নাজমুল হোসেন শান্ত অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। বৃষ্টি না হলে তিনি হয়তো সেঞ্চুরি করতেন। মুমিনুল হকও ভালো করেছেন। কিন্তু আমাদের ব্যাটিং আমার বোধগম্য হয়নি। নাহিদ রানা গতির সাথে বল করে ৫টি উইকেট নিয়েছেন। তারা প্রথম ইনিংসের ভুলগুলো রিপিট করেনি কিন্তু আমরা বারবার ভুল করছি।'