বিসিবির সবশেষ নির্বাচনের পর থেকেই বোর্ড ও ক্লাবগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে গত বছর বিসিবির নির্বাচন করেছিলেন তামিম ইকবালসহ ২১ প্রার্থী। পরবর্তীতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেও ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে দুরত্ব ঘুচেনি। বরং চলমান বোর্ডের অধীনে সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের হুমকি দেয় প্রায় ৫০টি ক্লাব। যার ফলশ্রুতি ঢাকা প্রথম বিভাগ লিগে অংশ নেয়নি ৮টি ক্লাব।
এমন পরিস্থিতি ১২ ক্লাব নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে। পাশাপাশি ৮ দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে নতুন আরেকটি ‘বিশেষ’ টুর্নামেন্ট করে বিসিবি। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিভাগ, তৃতীয় বিভাগের টুর্নামেন্টগুলো আলোর মুখ দেখেনি। একই চিত্র ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ক্ষেত্রেও। মোহামেডান, আবাহনী, লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের মতো ক্লাবগুলো সরে দাঁড়ানোয় এখনো টুর্নামেন্ট শুরু হয়নি। অথচ প্রায় প্রতি বছর মার্চের প্রথম সপ্তাহে ডিপিএল মাঠে গড়ায়।
চলতি বছর ডিপিএল হবে কিনা সেটার নিশ্চয়তা নেই। ছেলেদের মতো মেয়েদের ক্রিকেটেও একই অবস্থা। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা ব্যস্ত থাকবেন এজন্য ডিপিএল খেলতে চায় না ক্লাবগুলো। মেয়েদের অন্য লিগগুলোও হচ্ছে না। দিন দুয়েক আগে প্রথম বিভাগ লিগ আয়োজনের দাবিতে মানবন্ধন করেছেন নারী ক্রিকেটাররা। মিঠুন মনে করেন, বিসিবি ও ক্লাবের এমন দ্বন্দ্বে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শুধু খেলোয়াড়রা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কোয়াবের সভাপতি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের ক্রিকেট যেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে এখানে কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খেলোয়াড়রা। অনেক দিন ধরে ক্লাব ও বিসিবির মধ্যে যে সমস্যাটা তৈরি হয়েছে এটাতে ক্ষতি শুধু খেলোয়াড়দের। কারণ মাঠে খেলা নাই। এই সময় সবার কিন্তু প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, বা অন্য লিগ যেগুলো আছে ওইসবে। কিন্তু এখন একমাত্র আন্তর্জাতিক খেলা ছাড়া আমাদের কোনো ঘরোয়া খেলা নাই। আর যতটুকু খেলা হচ্ছে নিজেদের মধ্যে নিজেদের। কোনো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট হচ্ছে না। নিজেদের নিজেদের খেলা আর কতদিন? আমাদের তো একটা প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট খেলতে হবে।’
নির্বাচনের পর থেকেই বুলবুল-ফারুক আহমেদের বোর্ডকে অবৈধ বলে আসছেন তামিমসহ নির্বাচন বয়কট করা প্রার্থীরা। কদিন আগে বিসিবির নির্বাচন নিয়ে তদন্ত করতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) অভিযোগ দাখিল করেছে প্রায় ৫০টি ক্লাব। ১০ মার্চ একই অভিযোগ এনে এনএসসিতে অভিযোগ দিয়েছেন বিভাগীয় কাউন্সিলররা। গুঞ্জন আছে, নির্বাচন অবৈধ প্রমাণিত হলে বোর্ড ভেঙে যেতে পারে বিভাগীয় কাউন্সিলরদের সদস্যপদ বাতিল হতে পারে। তখন নতুন বোর্ড আসতে পারে। যদিও এসব নিয়ে ভাবছেন না মিঠুন। কোয়াবের সভাপতির চাওয়া মাঠে খেলা।
মিঠুন বলেন, ‘দেখুন— এটা তো আমার সাবজেক্ট না যে কোন বোর্ড থাকবে না, কোন বোর্ড আসবে। আমার সাবজেক্ট হচ্ছে খেলা হচ্ছে কিনা। আমি আমার সাবজেক্ট নিয়েই আছি। বাকিটা কোন বোর্ড আসলে খেলা হবে বা হবে না এগুলো চূড়ান্ত করার জন্য আমাদের সরকার, ক্রীড়া পরিষদ বা অন্যান্য যারা সিদ্ধান্ত নেন উনারা খুব ভালো বুঝবেন বিষয়গুলো।’
নিয়মিত খেলা না হওয়ায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গেও দেখা করেছেন মিঠুন। কারো হস্তক্ষেপে হলেও মাঠে খেলা চান তিনি। কোয়াবের সভাপতি বলেন, ‘দেখুন— একজন খেলোয়াড়, খেলোয়াড়দের প্রতিনিধি হিসেবে আমি চাই মাঠে খেলা হোক। (কারো হস্তক্ষেপে যদি) মাঠে যদি খেলা ফেরে আমি নিশ্চিত আপনিও খুশি হবেন, আমরাও খুশি হবো। আমাদের রুজি রুটি ক্রিকেট, আমরা চাই মাঠে খেলা থাক। এটা কী করতে হবে না করতে হবে, এখানে কে থাকলে ভালো হবে কে (না) থাকলে ভালো হবে, এটা সম্পূর্ণ উনারা ঠিক করবেন।’
বিসিবি বর্তমান বোর্ডে আছেন জাতীয় দলের এক সময়ের অধিনায়ক বুলবুল, ফারুক, খালেদ মাসুদ পাইলট। এ ছাড়া একই বোর্ডের দায়িত্বে আছেন আব্দুর রাজ্জাক। নিয়মিত ডিপিএল খেলা সাবেক ক্রিকেটাররা বোর্ডে থাকার পরও মাঠে খেলা নেই এটা পীড়া দিচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মিঠুন অবশ্য শুধু ডিপিএল নিয়েই পড়ে থাকতে চাইলেন না। বরং কোয়াবের সভাপতি মেয়েদের ক্রিকেট না হওয়ার বিষয়টিও সামনে আনলেন।
মিঠুন বলেন, ‘দেখুন—এখানে শুধু প্রিমিয়ার লিগ বললে হবে না, তৃতীয় বিভাগও আছে। তৃতীয় বিভাগসহ আরও যা আছে পুরোটার কথা বলতে হবে। মেয়েদের টুর্নামেন্টটাও স্থগিত হয়ে আছে। মেয়েদের ঢাকা লিগের যেই খেলাটা হয় ওইটাও হচ্ছে না, আমি যতটুকু শুনেছি। প্রত্যেকটা খেলা প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যার যার জায়গা থেকে সে অনুভব করছে। আমি চাই পুরো বাংলাদেশের ক্রিকেট আগে যেভাবে ঠিকঠাকভাবে চলতো সেভাবে চলুক। সেটা যার অধীনেই হোক।’
বিসিবির কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কিনা সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি এখন কারো সঙ্গে যোগাযোগ করার খুব একটা চেষ্টাও করি না। কারণ আমি আগে অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু কোনো লাভ হয় নাই, কোনো সমাধান দিতে পারেনি। আমি জানি এখনো যোগাযোগ করলে কোনো সমাধান পাব না। আমি শুধু আপনাদের মাধ্যমে এতটুকুই বলতে চাই আমরা খেলোয়াড়রা মাঠে খেলা চাই, আমরা মাঠে খেলতে চাই। সেটা যেই যেই জায়গায় সমস্যা আছে সেই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে মাঠে খেলা ফিরে আসুক, একমাত্র এটাই আমাদের চাওয়া।’