বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ ও আইসিসির সামনে ৪ উপায়

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
জয় শাহ (বামে) ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল (ডানে)
জয় শাহ (বামে) ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল (ডানে)
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বিজেপির একাংশ ও বেশ কয়েকটি উগ্র ধর্মীয় সংগঠনের তোপের মুখে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় বিসিসিআই। ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্সও তাদের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের তারকা পেসারকে ছেড়ে দেয়। এমন ঘটনার জেরে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেখান থেকেই টানাপোড়েন শুরু।

পরবর্তী সময়ে আইসিসিকে দু’বার চিঠি দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সরিয়ে নিতে অনুরোধ করে বিসিবি। চিঠি দেয়ার পর আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেন আইসিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা। গত ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশশের সঙ্গে আলোচনা করতে অ্যান্ড্রু এফগ্রেভকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠায় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কয়েক ঘণ্টার বৈঠকেও সমাধান আসেনি। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান।

বাংলাদেশের দাবি না মানলে বিশ্বকাপও বয়কট করতে পারে তারা। পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এমন খবর প্রকাশ করলেও সেটার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ২১ জানুয়ারি ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি সভা ডেকেছে আইসিসি। যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে বাকি সদস্যদের কাছে বাংলাদেশের ব্যাপারে তাদের মতামত জানতে চাইবে আইসিসি। সেই সভায় চারটি সম্ভাব্য সুযোগ রয়েছে।

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশের রাজি হওয়া

মুস্তাফিজকে বাদ দেয়ার পরই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার কথা জানান আসিফ নজরুল। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার নির্দেশেই আইসিসিকে চিঠি দেয়ার পাশাপাশি এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিসিবি। ২০ জানুয়ারিও আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ভারতের কাছে মাথা নত করে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি করানোর চেষ্টা করলেও সেটাতে তারা সায় দেবেন না।

আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের জোরালো দাবি যে, বিশ্বকাপ খেলার জন্য ভারত ঝুঁকিপূর্ণ নয়। শেষ পর্যন্ত আইসিসিকে বোঝাতে সক্ষম না হলে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি হতে হবে বাংলাদেশকে। এমন সিদ্ধান্ত নিলে বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবিকে জনরোষের মুখে পড়তে হতে পারে। যদিও এখনো নিজেদের পুরনো অবস্থানে অনড় বিসিবি।

বাংলাদেশের দাবি মেনে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়া

টানাপোড়নের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করে আসছে বিসিবি। যদিও সেই অনুরোধে সায় দেয়নি আইসিসি। তবে গত সপ্তাহে ঢাকায় হওয়ায় বিসিবি ও আইসিসির প্রতিনিধি দলের বৈঠকে গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাব্য আলোচনা হয়েছে। এমনও আলোচনা হয়েছে গ্রুপ পরিবর্তন করে বাংলাদেশকে ‘সি’ থেকে ‘বি’ গ্রুপে নিলে একটা সমাধান হতে পারে।

এমন অবস্থায় ‘বি’ গ্রুপের আয়ারল্যান্ডকে ‘সি’ গ্রুপে দেয়া হবে। যদিও আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, আইসিসি তাদের জানিয়ে দিয়েছে যে তাদেরকে গ্রুপ পরিবর্তন করতে হবে না। পল স্টার্লিংরা শ্রীলঙ্কার মাটিতেই খেলবেন। তবে আইসিসি যদি বাংলাদেশের অনুরোধে রাজি হয় তখন একটা সমাধান আসতে পারে। আইসিসির পক্ষ থেকে বাকি বোর্ডগুলোকে বোঝানোর দায়িত্ব নেয়া হবে।

বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো

বাংলাদেশ যদি ভারতে যেতে রাজি না হয় এবং আইসিসিও যদি বাংলাদেশের অনুরোধ না রাখে তখন বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়া ছাড়া বিকল্প কোন উপায় বিসিবির কাছে নেই। বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবির অবস্থানে এমন কিছুর ইঙ্গিত অবশ্য আছে। এমন সিদ্ধান্ত নিলে বাংলাদেশের র‌্যাঙ্কিংয়ে বড় একটা প্রভাব পড়বে। যেহেতু তারা খেলবে না তাই বাকি ১৯টি দল নিজেদের অবস্থান উন্নতির সুযোগ পাবে।

র‌্যাঙ্কিংয়ে বড়সড় পরিবর্তন এলে পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা হারাতে পারেন লিটন দাসরা। যদিও সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশ্বকাপ শেষে সেটা নিশ্চিত হওয়া যাবে বাংলাদেশের র‌্যাঙ্কিং কোথায় নেমে যায়। তবে ভারতে ও শ্রীলঙ্কায় হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলতে না গেলে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য দলগুলোকে ৫ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা) দিয়ে থাকে আইসিসি।

বিশ্বকাপে না গেলে সেই টাকা পাবে না বিসিবি। এ ছাড়া টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার জন্য প্রাইজমানি হিসেবে প্রতিটি দলকে ২ লাখ ২৫ হাজার ডলার দেয়া হয় (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ টাকা)। প্রাইজমানির টাকা পুরো স্কোয়াডের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য ৩১ হাজার ১৫৪ ডলার দেয়া হয়। অর্থাৎ বিশ্বকাপে যদি বাংলাদেশ কোন ম্যাচ নাও জিততে পারে তবুও ৭ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পাবে (৯ কোটি ১১ লাখ)। তবে খেলতে না গেলে বাংলাদেশ কোনো অর্থ পাবে না।

আইসিসি ও বিসিবির সমঝোতা

বর্তমান পরিস্থিতিতে আইসিসি ও বিসিবির সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ প্রথম আলোচনায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কলকাতা থেকে সরিয়ে চেন্নাইয়ে আয়োজনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি বিসিবি। এদিকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে পিসিবি। যদিও এমন খবরের আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে, পাকিস্তান নিজেরাই বিশ্বকাপ খেলবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে। তবে বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে পিসিবি।

আরো পড়ুন: